জগন্নাথপুরে রিলিফের চাল ও টাকা বিতরণ করলেও প্রতিবাদী জনতা নেয়নি
- Update Time : ০৯:০৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ আগস্ট ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মোঃ শাহজাহান মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বঞ্চিতদের মধ্যে সরকারি ভিজিএফ এর চাল লুটপাটকারী চেয়ারম্যান অবশেষে নিজের পকেট থেকে কিনে নিয়ে চাল বিতরণ করলেও প্রতিবাদী জনতা তা নেয়নি।
জানাগেছে, গত বুধবার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের লোকজনের মধ্যে সরকারি ভিজিএফ এর ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফজলু মিয়া একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় তাঁর পক্ষে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি রুনু মিয়া তাঁর ওয়ার্ডের জনগণের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরণ করেন। তখন লুদু মিয়া নামের এক ব্যক্তি প্রথমে একবার চাল-টাকা নিয়ে পরে আবার অন্য নামে নিতে গেলে ৭, ৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে রুনু মিয়া ও সেলিনা বেগমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রুনু মিয়ার পক্ষ নিয়ে আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরী, ইউপি সচিব তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য ছানু মিয়া, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা আলাল ও আরেক নারী ইউপি সদস্য আফিয়া বেগম মিলে প্রতিবাদী নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগমকে মারপিট করেন এবং আহত নারী সদস্য সেলিনা বেগমের ওয়ার্ড গুলোর ৩১ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরণ করা হয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার স্থানীয় বঞ্চিত জনতা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া আহত নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম বাদী হয়ে আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরী, ইউপি সচিব তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সদস্য ছানু মিয়া, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা আলাল, নারী ইউপি সদস্য আফিয়া বেগম ও রুনু মিয়াকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
অবশেষে শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরী বাজার থেকে কিনে নিয়ে বঞ্চিত জনতার মধ্যে চাল বিতরণ করলেও প্রতিবাদী জনতা তা নেয়নি।
এ ব্যাপারে আশারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাবেদ চৌধুরীর সাথে বারবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সচিব তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব নিজের পকেটের টাকা দিয়ে বাজার থেকে কিনে এনে চাল বিতরণ করেছেন। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বঞ্চিত ৬৮ জনের মধ্যে চাল ও টাকা বিতরণের কথা থাকলেও ১৬ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকিরা আসেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি ভিজিএফ এর চাল কি হয়েছে, আমি তা জানিনা।
এ ব্যাপারে মারপিটের শিকার হওয়া নারী ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম বলেন, চেয়ারম্যাসহ তাঁর সহযোগিরা সরকারি চাল লুটপাট করে এখন তারা বাজার থেকে চাল কিনে এনেছে। এতেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে মারপিট করার প্রতিবাদে আমার ওয়ার্ডগুলোর বঞ্চিত জনতা চাল ও টাকা আনেননি। তারা এ ঘটনার বিচার ও সরকারি ভিজিএফর এর চাল চায়।

























