জগন্নাথপুরে মজলিস নেতা বদিউজ্জামানের জানাযায় হাজারো মানুষের ঢল : শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও চোখের অশ্রুতে শেষ বিদায়
- Update Time : ০৪:২০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ আগস্ট ২০১৮
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ইয়াকুব মিয়া :: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ১৯৯৬সালে সুনামগঞ্জ-৩ অাসন থেকে মিনার প্রতীকে অালেম উলামা সহ জনসমর্থন নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী অালহাজ্ব অাব্দুস সামাদ অাজাদ এমপির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জননেতা প্রিন্সিপাল অালহাজ্ব মাওলানা বদিউজ্জামানের দাফন সম্পন্ন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অালহাজ্ব মাওলানা বদিউজ্জামান বুধবার দিবাগত রাত ৮টায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কাতিয়া নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিন ছেলে দুই মেয়ে, স্ত্রী ও অসংখ্য ভক্ত গুণগ্রাহী রেখে যান। ৯ অাগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ২.৩৫ মিনিটে কাতিয়া মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার পূর্বে সর্ব শ্রেণীর মানুষের এ প্রিয় নেতাকে শেষবারেরমতো একনজর দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে জানাজার মাঠে : শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও চোখের অশ্রুতে শেষ বিদায়ে সম্পন্ন হয় জানাজা।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ছেলে হাফেজ মঈনুল বিন জামান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জগন্নাথপুর উপজেলার সেক্রেটারী মাওলানা সাইফুর রহমান সাজাওয়ার ও সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জয়নুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় জানাজা পূর্ব আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, যুগ্নমহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি সভাপতি সাবেক সাংসদ এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আজীজ, কাতিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, সুনামগঞ্জ জেলা সাবেক সভাপতি মাওলানা নূর উদ্দীন, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা মুসা মোল্লা, সহ সভাপতি মাও.নুরুল আলম খান জাহাঙ্গীর, মাওলানা সৈয়দ মুন্সিফ আলী মেম্বার, সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ শাহীদ আহমদ, সিলেট মহা নগরী সহ সভাপতি মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহীম সাঈদ, সিলেট জেলা সেক্রেটারী হাফেজ আতিকুর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হুরায়রা সাদ মাষ্টার, জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাফিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জগন্নাথপুর উপজেলা সহ সভাপতি সৈয়দ তহুর আহমদ তৈয়ফুর, হবিবপুর ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামীম আব্দুল মুমিন জাহানপুরী, সাংবাদিক মাসুম আহমদ সহ স্থানীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।
জানাযায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, জনপ্রতিনিধি নেতৃবৃন্দের মধ্যে অংশ নেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সহ সভাপতি পীর আব্দুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম, কাজির বাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আশিকুল ইসলাম, মজলিস নেতা মাওলানা সৈয়দ অামিরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল খালিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল হক, সিলেট জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী হা. জুনাইদ আহমদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ডা.মোস্তফা আহমদ আজাদ, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফখরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মুফতি মাহবুবুল হক, মুফতি সৈয়দ নাসির উদ্দিন, জগন্নাথপুর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুনইম শাহীন, যুগ্ন সম্পাদক মাওলানা শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সৈয়দ সানাওয়ার আলী, বায়তুলমাল সম্পাদক শামসুল ইসলাম, দারুল আজহার ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুজুরে মাওলা, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক হাজি সুহেল আহমদ খান টুনু, জগন্নাথপুর পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক ইয়াকুব মিয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ জগন্নাথপুর উপজেলার সভাপতি মাওলানা জমির উদ্দিন, জমিয়ত নেতা মাওলানা ছমির উদ্দিন শায়খে শেওরা, কুবাজপুর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা, জমিয়ত নেতা মাওলানা হাসমত উল্লাহ খান, ছাত্র জমিয়ত সিলেট মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা কে এম ফয়েজ আহমদ, জমিয়ত নেতা মাওলানা মুতিউর রহমান, মাওলানা এরশাদ খান আল হাবিব, মাওলানা মীম আশরাফ খান, যুবদল নেতা অায়নাল মিয়া, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জমিয়ত, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ি সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে প্রিয়নেতাকে শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও চোখের অশ্রুতে শেষ বিদায় জানান জানাযায়। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। দাফন শেষে তাঁর বাড়িতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এদিকে, তাঁর মৃত্যুতে একজন সাহসী রাজনীতিবিদ ও নীতিবান দেশপ্রেমিককে হারিয়ে শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পবিবারের প্রতি গভির সমবেদনা জানিয়ে তাহার অাত্মার মাফেরাত কামনা করছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি খেলাফত মজলিস নেতা হাফিজ মাওলানা এনামুল হাসান সহ বিভিন্ন মহলের পক্ষথেকে পৃথক পৃথক শোক প্রকাশ করেছেন।
জননেতা প্রিন্সিপাল অালহাজ্ব মাওলানা বদিউজ্জামান তিনি ১৯৯৬সালে সুনামগঞ্জ-৩ অাসন থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতীকে অালেম উলামার জনসমর্থন নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী অালহাজ্ব অাব্দুস সামাদ অাজাদ এমপির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন।
সুনামগঞ্জে বদিউজ্জামান, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক ও অালেম উলামার এক সাহসি অাপোষহীন পরিচ্ছন্ন ক্লিন ইমেজের এককথায় সর্বশ্রেণী মানুষের কাছে তিনি ছিলেন গ্রহনযোগ্য নেতা।
অার্থিক সহযোগীতায় বদিউজ্জামান ছিলেন, তার দলের ছাত্র সংগঠনের জন্য এক ব্যাংক। ছাত্র সংগঠনের যেকোন সভা-সমাবেশে অার্থিক বড় অংকের বিশেষ কালেকশন তিনি সব সময় দিয়ে অাসতেন।
মাওলানা বদিউজ্জামানের কাছ থেকে সাংগঠনিক নেতা-কর্মী, অাত্মিয়স্বজন ও পরিচিতিজন যেকোন অার্থিক সমস্যায় তাহার কাছথেকে নগদ টাকা হাওলাত নিলে তিনি টাকা অার ফিরত চাইতেন না। তার মৃত্যুর পূর্বে অনেকেই তাহার অসুস্থতার খবর পেয়ে দেখতে গিয়ে হাওলাত টাকার বিষয়ে অালাপ করিলে তিনি বলেন অার দেওয়া লাগবেনা সব মাপ।
একটি বিশেষ সুত্রে জানায়, মাওলানা বদিউজ্জামানের ঢাকার এক পরিচিত ব্যক্তি তার কাছথেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। বেশ কদিন পর সিলেটে এসে কল দিয়ে দেখা করার কথা জানায়, তিনি তাকে ঠিকানা দিলে ওই ব্যাক্তি সিলেটের তালতায় এসে দেখা করে এসময় উপস্থিত দলীয় কয়েকজন নেতা টাকা পাওয়ার বিষয় পূর্বে থেকে যানতেন নেতারা টাকার বিষয়ে যখন অালাপ করার কথা বলছেন তখন মাওলানা বদিউজ্জামান বলেন সে গরিব মানুষ টাকা কোথায় থেকে অামাকে অার ফিরত দিবে? তার প্রয়োজন ছিল তাই অামার কাছথেকে নিয়েছে অামি তাকে ক্ষমা করলে হয়তো একদিন অাল্লাহপাকও অামাকে ক্ষমা করবেন।
সুনামগঞ্জ জেলায় তিনি সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি দীর্ঘদিন ছিলেন। তার নেতৃত্বে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সারাদেশে সুসংঘটিত ও মজবুত হয়েছে। দলের জন্য তিনি জীবনের সিংহভাগ সময় ব্যায় করেছেন দেশের প্রতিটি জেলয় জেলায় সাংগঠনিক কাজে।
তিনি ছিলেন শায়খুল হাদিস অাল্লামা অাজিজুল হক র. ও প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের অাস্থাভাজন। কুতবে বাঙ্গাল হযরত মাওলানা অামিন উদ্দিন শায়খে কার্তিয়ার নেতৃত্বে জগন্নাথপুর ও সুনামগঞ্জে বাতিলের বিরুদ্ধে রাজপথের হুংকার।
কুতবে বাঙ্গাল হযরত শায়খে কার্তিয়ার প্রতিষ্ঠিত কার্তিয়া মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে জননেতা মাওলানা বদিউজ্জামান সব সময় মাদ্রাসার উন্নতির চিন্তায় অাশপাশ লোকদেরকে মাদ্রাসার কল্যানে এগিয়ে অাসার জন্য অনুরোধ করতেন।
নিজ এলাকায় মাওলানা বদিউজ্জামান তার নিজ এলাকায় ছোট-বড় সর্ব শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে তিনি এমপি সাহেব হিসেবে পরিচিতি ছিলেন।
তার কারন হচ্ছে তাহার ইউনিয়নে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একমাত্র তিনি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন অার এজন্যই এলাকার মানুষের কাছে তিনি এমপি সাহেব হিসেবে সম্মানি ও গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন।


























