জগন্নাথপুরে ধর্ষণের ৬ মাস পর ধর্ষিতার মেডিকেল টেস্ট, লাখ টাকায় ভিকটিমের স্বীকারোক্তি
- Update Time : ০৯:২২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মোঃ শাহজাহান মিয়া :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় এক যুবক জেল হাজতে রয়েছে। কার স্বার্থে এ মামলা, বাদী-ভিকটিম নিজেও জানেন না। ধর্ষণের ৬ মাস ১০ দির পর ধর্ষিতাকে মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে।
এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে মামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে ভিকটিমকে রাজি করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের মৃত মনাই উল্লাহ উরফে মনাই সাধুর ছেলে রুবেল মিয়া (৩০) ও একই ইউনিয়নের বাউধরণ গ্রামের মৃত দিলু মিয়ার ষোড়শি কন্যা স্কুলছাত্রী সোনিয়া বেগমের (১৭) মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
সম্পর্কের সুবাদে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। শারীরিক সম্পর্কের কিছু চিত্র মোবাইল ফোনে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে রাখে চতুর প্রেমিক রুবেল মিয়া। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় শালিসি ব্যক্তিদের উদ্যোগে কেউ কারো সাথে কোন প্রকার সম্পর্ক রাখবে না মর্মে বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি হয়।
তবে হঠাৎ করে ঘটনার প্রায় ৬ মাস পর গত ৭ জুলাই ভিকটিম স্কুলছাত্রীর চাচা সোহেল মিয়াকে বাদী বানিয়ে খাগাউড়া গ্রামের মৃত মনাই উল্লাহ উরফে মনাই সাধুর ছেলে রুবেল মিয়া ও একই গ্রামের মৃত আবদুল ওয়াহিদের ছেলে জনি মিয়াসহ ২ জনকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় ধর্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৫ তারিখ ০৭/০৭/২০১৭ইং। মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান মামলার প্রধান আসামি রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী সোহেল মিয়া বলেন, আমি কোন মামলা করিনি। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে এ মামলা দিয়েছে। ভিকটিম পরিবারের লোকজন জানান, ঘটনা সিত্য, তবে আমরা কোন মামলা করিনি। আমাদের এ বিষয়টি অনেক আগেই নিস্পত্তি হয়ে গেছে। স্কুলছাত্রীর সৎ চাচা উক্ত মামলার ৪নং স্বাক্ষী ফারুক মিয়া পূর্ব বিরোধের প্রতিশোধ নিতে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে অন্য ব্যক্তিকে সোহেল সাজিয়ে এ মামলা করেছে।
এদিকে-উক্ত ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর থেকে মামালার ২নং আসামি ধনীর দুলাল জনি মিয়াকে বাঁচাতে তাঁর শ্বশুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা কাজী নজরুল ইসলাম নিজামী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এক পর্যায়ে গত ২২ জুলাই শনিবার কাজী নজরুল ইসলাম নিজামীর উদ্যোগে ভিকটিম পরিবারের বাড়িতে স্থানীয় শালিসি ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে কাজী নজরুল ইসলাম নিজামী বলেন, এ ঘটনার সাথে জনি মিয়া জড়িত নয় মর্মে এ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমানের কাছে ভিকটিম সোনিয়া বেগম স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিলে ভিকটিমকে এক লক্ষ টাকা প্রদান করা হবে। এমন স্বীকারোক্তি দিলে মামলার চার্জশিট থেকে দারোগা হাবিবুর রহমান জনি মিয়াকে বাদ দিয়ে দিবেন। এতে দারোগাকে কত টাকা দেয়া হবে, তা এখানে বলার প্রয়োজন নেই। নিজামীর এমন কথায় ভিকটিম পরিবার রাজি হন এবং এ ১ লক্ষ টাকা বাগময়না গ্রামের সাজান নামের এক ব্যক্তির কাছে জমা রাখা হয়। ভিকটিম সোনিয়া বেগম থানায় স্বীরোক্তি দিলে টাকাগুলো তাকে দেয়া হবে। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য ঠাকন মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান প্রতাব, শালিসি ব্যক্তি ছালিক মিয়া, সাংবাদিকরাসহ এলাকার গন্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে যেমন কথা-তেমন কাজ। গত ২৪ জুলাই সোমবার রাতে ভিকটিম সোনিয়া বেগমকে থানায় হাজির করা হলে তাকে রাতে থানায় রেখে ২৫ জুলাই মঙ্গলবার মেডিকেল টেস্টের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, ভিকটিমকে মেডিকেল টেস্টের জন্য আমি নিজে সুনামগঞ্জ নিয়ে এসেছি।





























