১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কারা আমাকে গ্রেপ্তার করিয়েছিল জানি ওই হিসাব পরে নেবো

  • Update Time : ১১:৪২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: এক এগারোর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারের পেছনে কারা ছিল সেই তথ্য জানা গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তাদের বিষয়ে হিসাব পরে নেয়া হবে। গতকাল মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় তিনি স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিষয় উল্লেখ করে এক এগারোর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

 

বলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা, স্বাধীনতার চেতনা নষ্ট করা আর ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। বাংলাদেশকে একটা সন্ত্রাসের দেশ হিসেবে পরিণত করেছিল। ক্ষমতায় থেকে তখন অত্যাচার নির্যাতন করেছে বিএনপি সরকার। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর প্রথম গ্রেপ্তার করা হলো আমাকে। আমি তো তখন ক্ষমতায় ছিলাম না। কারা করিয়েছে সেটা আমরা অন্তত এখন জানি। ওই হিসাব পরে নেবো আমরা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ভদ্রলোক, বিশ্বে অনেক নাম করেও তার মন ভরে নাই। একটি ক্ষুদ্র ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়ার লোভ সামাল দিতে পারেনি। সেই এমডি পদের লোভে পড়ে পদ্মা সেতু বন্ধ করার জন্য আমেরিকায় লবিং করে। পরে সেতুর টাকা দেয়া ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বন্ধ করে দেয়। জাতির পিতা তো বলেছেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা বাঙালি আর আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। কাজেই আমি সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। দুর্নীতির অভিযোগ আনতে চেয়েছিল। বহু চেষ্টা করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে বিশেষ এজেন্সি হায়ার করে এনে আমার বিরুদ্ধে, আমার বোনের বিরুদ্ধে, আমার ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি পায় কি না দেখেছেন। পায়নি। আবার সেই এমডি সাহেবও আমেরিকাকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছেন। না পেরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা বন্ধ করে আমাকে দোষারোপ করতে চেষ্টা করেছিলেন। চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম প্রমাণ করো। প্রমাণ করতে পারেনি। আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে মামলা হয়েছিল। তারা বলে দিয়েছিল সমস্ত অভিযোগ ভুয়া। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখবেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ৫বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেখিয়েছে আমরা যে দুর্নীতি করি নাই তা আজ শুধু মুখে বলার না, তা আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আজ বাংলাদেশের মানুষের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাক সেটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা বলেছি, স্বাধীনতার সুফল আমরা বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো।
তিনি বলেন, অর্থ-সম্পদ চিরদিন থাকে না। অর্থ-সম্পদ কেউ কখনো কবরে নিয়েও যেতে পারে না। সম্পদের জন্য মারামারি-কাটাকাটি করে। মরে গেলে সব রেখেই কবরে যেতে হয়। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া একজন রাজনীতিবিদের সেটাই কর্তব্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেটাই করে গেছেন। তার কন্যা হিসেবে সেটাই আমার দায়িত্ব মনে করি। আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল থেকে জনগণের উন্নয়ন করা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন করলেও ষড়যন্ত্রের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে ষড়যন্ত্র হলো। ভোট বেশি পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি। ওই সময় বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে শুরু করলো জুলুম-অত্যাচার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো তারা গ্রামের পর গ্রাম নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, মানুষের চোখ তুলে নিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছে, ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, পুকুর কেটে দিয়েছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। ভোট দেয়ার অপরাধে এমন কোনো অত্যাচার নেই যা তারা করেনি। ছয় বছরের শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে। প্রতিহিংসার বশে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এসব করেছে। পাঁচ পাঁচটি বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে বাংলাদেশকে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ের বিবরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের দেশে পরিণত করেছে। গ্রেনেড হামলা তো আছেই। এইভাবে অত্যাচার করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করেছে তারা, ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও যেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারে, তার জন্যও ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলবো। যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলেন, তারা ভিক্ষা করবে বা রিকশা চালাবে, এটা অপমানজনক। তাদের সন্তানরা পড়ালেখার সুযোগ পাবে না, সেটা হতে পারে না। তাই আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করলাম। আমরা চেষ্টা করছি, সবার মধ্যে ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেয়ার। তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে উজ্জীবিত হচ্ছে, তারা সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। অথচ ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা জানে না, ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গ্রামের মানুষদের পছন্দ করতেন। তাদের কথা বলতে গিয়েই তো তিনি জীবনটা পর্যন্ত দিয়ে গেছেন। প্রতি ঘরকে আমরা আলোকিত করবো। সেই লক্ষ্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি বলে আজ দেশের উন্নতি হচ্ছে। নইলে ’৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা তো নিজেদের খুব উচ্চ পর্যায়ের মনে করতো। কিন্তু দেশের মানুষ কি পেয়েছিল? তাদের খাতা সবই শূন্য। মুষ্টিমেয় লোক সম্পদশালী হয়েছে। সেই জিয়ার আমল থেকেই খেলাপি ঋণের কালচার। জিয়ার আমল থেকেই এই করাপশন। যার ধারাবাহিক ভাবে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া যখনই যে ক্ষমতায় এসেছে, দুর্নীতি করেছে, সম্পদশালী হয়েছে। নিজেদের সাজুগুজু, নিজেদের ভোগবিলাস এই নিয়ে ব্যস্ত। দেশের মানুষ না খেয়ে থাকলে তাদের কি হলো? আমাদের চিন্তাটা সম্পূর্ন ভিন্ন। কারণ আমার বাবা শিক্ষা দিয়ে গেছেন। দামি শাড়ি, গহনা পরতে গেলে তিনি আমাদের বলতেন, মা কাকে দেখাবে। যে দেশের মানুষ একবেলা খাবার পায় না। এটাই আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালে সরকার গঠন করেছি। এরপর ২০১৩ সালে তারা এক দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি করে। সেই অবস্থা আমরা সামাল দিয়েছি। ২০১৪ সালে আবার নির্বাচন হয়, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসি। কিন্তু তারা ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে। সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পুড়িয়েছে। হাজার হাজার গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। সরকারি অফিসে আগুন দিয়েছে। কেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো এটাই তাদের অন্তর্জ্বালা। তারা তো ক্ষমতায় থেকে ভোগ-বিলাস করেছে, মানি লন্ডারিং করে ধরা পড়েছে। এতিমখানার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছে। সবকিছু ধরা পড়েছে। এতে আমাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু আদালত তাদের সাজা দিলে তারা মানে না। তারা কিছুই মানে না। তারা ক্ষমতায় থেকে মানুষকে হত্যা করেছে, এখনো তাই করতে চায়। দেশের কোনো উন্নয়ন তারা চোখেই দেখে না।

 

আলোচনা সভায় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর হারুন উর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

নিজস্ব পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান
নিজস্ব পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নদীর নাব্য বাড়ানোর জন্য যেমন ড্রেজিং করতে হবে- তেমনি বর্ষার পানি ধরে রাখারও বন্দোবস্ত রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘কারো ওপর নির্ভরশীল নয়, নিজেদের ব্যবস্থাটা নিজেকেই করতে হবে। বর্ষকালে যে বিশাল জলরাশি আসে সেটা আমরা কিভাবে ধরে রাখতে পারি। আমাদের সেই পরিকল্পনা আগে নিয়ে নিজেদেরটা দেখতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো আমাদের দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়- নদী ড্রেজিংয়ে নয়, বরং নদীর পাড় বাঁধাই এবং রাস্তা নির্মাণ বা সেখানকার লোকজনের জন্য পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে। যেটি মূলত তাদের কাজ নয়। তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ নদী ড্রেজিং এবং পলি ব্যবস্থাপনা। রাস্তা সরকারের অন্য মন্ত্রণালয় করে দেবে এবং সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস-২০১৮ উপলক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমস্যা থাকার প্রসঙ্গ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭শ’ নদী এবং ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদী রয়েছে, এই নদীগুলো হিমালয় থেকে এসেছে ভারত হয়ে। এই নদীগুলো নিয়ে আমাদের ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেটার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ভারতের কাছ থেকে এই গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যদিও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পানির হিস্যা নিয়ে এখনো ঝামেলা চলছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিস্তা ব্যারেজ করলেও তার ভবিষ্যৎ পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ব্যারেজটা করার আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল যে, আমরা ভাটির দেশে বসবাস করি। এখন সেই তিস্তার পানি নিয়ে আমাদের সমস্যা চলছে। ভারতের সঙ্গে নদী সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তার সরকার ইতিমধ্যেই অনেক কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য নদী নিয়েও আলোচনা চলছে এবং তিস্তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আমি সবসময় মনে করি, ড্রেজিং করে নব্য বাড়িয়ে বর্ষাকালে যে পানিটা হিমালয় থেকে নেমে আসে সেটা যতটা বেশি আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো ততবেশি আমাদের দেশের জন্য উপকার হবে। সুত্র: মানবজমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

কারা আমাকে গ্রেপ্তার করিয়েছিল জানি ওই হিসাব পরে নেবো

Update Time : ১১:৪২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: এক এগারোর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারের পেছনে কারা ছিল সেই তথ্য জানা গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তাদের বিষয়ে হিসাব পরে নেয়া হবে। গতকাল মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় তিনি স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিষয় উল্লেখ করে এক এগারোর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

 

বলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা, স্বাধীনতার চেতনা নষ্ট করা আর ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। বাংলাদেশকে একটা সন্ত্রাসের দেশ হিসেবে পরিণত করেছিল। ক্ষমতায় থেকে তখন অত্যাচার নির্যাতন করেছে বিএনপি সরকার। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর প্রথম গ্রেপ্তার করা হলো আমাকে। আমি তো তখন ক্ষমতায় ছিলাম না। কারা করিয়েছে সেটা আমরা অন্তত এখন জানি। ওই হিসাব পরে নেবো আমরা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা ভদ্রলোক, বিশ্বে অনেক নাম করেও তার মন ভরে নাই। একটি ক্ষুদ্র ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়ার লোভ সামাল দিতে পারেনি। সেই এমডি পদের লোভে পড়ে পদ্মা সেতু বন্ধ করার জন্য আমেরিকায় লবিং করে। পরে সেতুর টাকা দেয়া ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বন্ধ করে দেয়। জাতির পিতা তো বলেছেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা বাঙালি আর আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। কাজেই আমি সেটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। দুর্নীতির অভিযোগ আনতে চেয়েছিল। বহু চেষ্টা করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে বিশেষ এজেন্সি হায়ার করে এনে আমার বিরুদ্ধে, আমার বোনের বিরুদ্ধে, আমার ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি পায় কি না দেখেছেন। পায়নি। আবার সেই এমডি সাহেবও আমেরিকাকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছেন। না পেরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা বন্ধ করে আমাকে দোষারোপ করতে চেষ্টা করেছিলেন। চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম প্রমাণ করো। প্রমাণ করতে পারেনি। আমেরিকার ফেডারেল কোর্টে মামলা হয়েছিল। তারা বলে দিয়েছিল সমস্ত অভিযোগ ভুয়া। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখবেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ৫বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেখিয়েছে আমরা যে দুর্নীতি করি নাই তা আজ শুধু মুখে বলার না, তা আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আজ বাংলাদেশের মানুষের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাক সেটাই আমাদের একমাত্র চাওয়া। জাতির পিতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আমরা বলেছি, স্বাধীনতার সুফল আমরা বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো।
তিনি বলেন, অর্থ-সম্পদ চিরদিন থাকে না। অর্থ-সম্পদ কেউ কখনো কবরে নিয়েও যেতে পারে না। সম্পদের জন্য মারামারি-কাটাকাটি করে। মরে গেলে সব রেখেই কবরে যেতে হয়। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া একজন রাজনীতিবিদের সেটাই কর্তব্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেটাই করে গেছেন। তার কন্যা হিসেবে সেটাই আমার দায়িত্ব মনে করি। আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল থেকে জনগণের উন্নয়ন করা। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়ন করলেও ষড়যন্ত্রের কারণে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে ষড়যন্ত্র হলো। ভোট বেশি পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি। ওই সময় বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে শুরু করলো জুলুম-অত্যাচার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো তারা গ্রামের পর গ্রাম নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, মানুষের চোখ তুলে নিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছে, ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, পুকুর কেটে দিয়েছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। ভোট দেয়ার অপরাধে এমন কোনো অত্যাচার নেই যা তারা করেনি। ছয় বছরের শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে। প্রতিহিংসার বশে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এসব করেছে। পাঁচ পাঁচটি বছর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে বাংলাদেশকে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ের বিবরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের দেশে পরিণত করেছে। গ্রেনেড হামলা তো আছেই। এইভাবে অত্যাচার করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করেছে তারা, ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও যেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারে, তার জন্যও ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলবো। যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলেন, তারা ভিক্ষা করবে বা রিকশা চালাবে, এটা অপমানজনক। তাদের সন্তানরা পড়ালেখার সুযোগ পাবে না, সেটা হতে পারে না। তাই আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করলাম। আমরা চেষ্টা করছি, সবার মধ্যে ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেয়ার। তরুণ প্রজন্ম ধীরে ধীরে উজ্জীবিত হচ্ছে, তারা সঠিক ইতিহাস জানতে পারছে। অথচ ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা জানে না, ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গ্রামের মানুষদের পছন্দ করতেন। তাদের কথা বলতে গিয়েই তো তিনি জীবনটা পর্যন্ত দিয়ে গেছেন। প্রতি ঘরকে আমরা আলোকিত করবো। সেই লক্ষ্য নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি বলে আজ দেশের উন্নতি হচ্ছে। নইলে ’৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা তো নিজেদের খুব উচ্চ পর্যায়ের মনে করতো। কিন্তু দেশের মানুষ কি পেয়েছিল? তাদের খাতা সবই শূন্য। মুষ্টিমেয় লোক সম্পদশালী হয়েছে। সেই জিয়ার আমল থেকেই খেলাপি ঋণের কালচার। জিয়ার আমল থেকেই এই করাপশন। যার ধারাবাহিক ভাবে জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া যখনই যে ক্ষমতায় এসেছে, দুর্নীতি করেছে, সম্পদশালী হয়েছে। নিজেদের সাজুগুজু, নিজেদের ভোগবিলাস এই নিয়ে ব্যস্ত। দেশের মানুষ না খেয়ে থাকলে তাদের কি হলো? আমাদের চিন্তাটা সম্পূর্ন ভিন্ন। কারণ আমার বাবা শিক্ষা দিয়ে গেছেন। দামি শাড়ি, গহনা পরতে গেলে তিনি আমাদের বলতেন, মা কাকে দেখাবে। যে দেশের মানুষ একবেলা খাবার পায় না। এটাই আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালে সরকার গঠন করেছি। এরপর ২০১৩ সালে তারা এক দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি করে। সেই অবস্থা আমরা সামাল দিয়েছি। ২০১৪ সালে আবার নির্বাচন হয়, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসি। কিন্তু তারা ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে। সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পুড়িয়েছে। হাজার হাজার গাড়ি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। সরকারি অফিসে আগুন দিয়েছে। কেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলো এটাই তাদের অন্তর্জ্বালা। তারা তো ক্ষমতায় থেকে ভোগ-বিলাস করেছে, মানি লন্ডারিং করে ধরা পড়েছে। এতিমখানার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছে। সবকিছু ধরা পড়েছে। এতে আমাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু আদালত তাদের সাজা দিলে তারা মানে না। তারা কিছুই মানে না। তারা ক্ষমতায় থেকে মানুষকে হত্যা করেছে, এখনো তাই করতে চায়। দেশের কোনো উন্নয়ন তারা চোখেই দেখে না।

 

আলোচনা সভায় দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর হারুন উর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

নিজস্ব পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান
নিজস্ব পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নদীর নাব্য বাড়ানোর জন্য যেমন ড্রেজিং করতে হবে- তেমনি বর্ষার পানি ধরে রাখারও বন্দোবস্ত রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘কারো ওপর নির্ভরশীল নয়, নিজেদের ব্যবস্থাটা নিজেকেই করতে হবে। বর্ষকালে যে বিশাল জলরাশি আসে সেটা আমরা কিভাবে ধরে রাখতে পারি। আমাদের সেই পরিকল্পনা আগে নিয়ে নিজেদেরটা দেখতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো আমাদের দেশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়- নদী ড্রেজিংয়ে নয়, বরং নদীর পাড় বাঁধাই এবং রাস্তা নির্মাণ বা সেখানকার লোকজনের জন্য পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে। যেটি মূলত তাদের কাজ নয়। তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ নদী ড্রেজিং এবং পলি ব্যবস্থাপনা। রাস্তা সরকারের অন্য মন্ত্রণালয় করে দেবে এবং সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস-২০১৮ উপলক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের পানি ব্যবস্থাপনার ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টন নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমস্যা থাকার প্রসঙ্গ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭শ’ নদী এবং ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদী রয়েছে, এই নদীগুলো হিমালয় থেকে এসেছে ভারত হয়ে। এই নদীগুলো নিয়ে আমাদের ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেটার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করা। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ভারতের কাছ থেকে এই গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক পানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যদিও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পানির হিস্যা নিয়ে এখনো ঝামেলা চলছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিস্তা ব্যারেজ করলেও তার ভবিষ্যৎ পরিবেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ব্যারেজটা করার আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল যে, আমরা ভাটির দেশে বসবাস করি। এখন সেই তিস্তার পানি নিয়ে আমাদের সমস্যা চলছে। ভারতের সঙ্গে নদী সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তার সরকার ইতিমধ্যেই অনেক কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য নদী নিয়েও আলোচনা চলছে এবং তিস্তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আমি সবসময় মনে করি, ড্রেজিং করে নব্য বাড়িয়ে বর্ষাকালে যে পানিটা হিমালয় থেকে নেমে আসে সেটা যতটা বেশি আমরা সংরক্ষণ করতে পারবো ততবেশি আমাদের দেশের জন্য উপকার হবে। সুত্র: মানবজমিন

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ