এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
- Update Time : ০৫:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নির্যাতনের ঘটনায় বিএনপি নয় আওয়ামী লীগই জড়িত বলে মন্তব্য করে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। রংপুরস্থ ঠাকুরপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। সেই সঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে আসবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সত্য কথা বলার কারণে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ ছাড়া করেছে। তাই এ সরকারের আমলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কেবল সহায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ধর্ম অবমাননার ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঠাকুরপাড়ার ঘটনার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মধ্যে বিএনপির দু’একজন জড়িত থাকলেও এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, দলের নয়। দল তাদের দায়ভার নেবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এসব করছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনে ১৫৪ জনই বিনা ভোটে নির্বাচিত। তারা আবারো ওই ধরনের নির্বাচন করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটারবিহীন নির্বাচন করা হলে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন না করেই ক্ষমতায় থাকতে চায়। আমরা সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচনে যাবো না। রংপুর সিটি নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এ নির্বাচনে প্রার্থী দেব। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রামু, নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনার খতিয়ান খুলে দেখলে জানা যাবে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিএনপি এর সঙ্গে জড়িত নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ঠাকুরপাড়ার ঘটনার সঙ্গে বিএনপির দু’একজন জড়িত থেকে থাকলেও এটা তাদের ব্যক্তিগত। দল তাদের দায়ভার নেবে না। বিএনপির নেতারা এর সঙ্গে জড়িত নয়। হিন্দুদের ওপর হামলায় যে-ই জড়িত থাক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ঠাকুরপাড়ার ঘটনা নিয়ে রাজনীতি নয়, সমগ্র জাতিকে একত্রিত হয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। পরে তিনি ঠাকুরপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা, শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরপাড়ার ঘটনায় নিহত সলেয়াশাহ এলাকায় হাবিবের বাড়িতে যান এবং তার পরিবারকে সান্ত্বনাসহ হাবিবের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু, মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রইস আহমেদ, পরিতোষ চক্রবর্তী, বিএনপি নেতা আবদুস ছালাম প্রমুখ।




























