আড়াই কোটি টাকা ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া তিন বিদেশি প্রতারক গ্রেফতার
- Update Time : ০৪:১৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া একটি বিদেশি প্রতারক চক্রকে র্যাব গ্রেফতার করেছে।
ফর্মার্স ব্যাংক গুলশান শাখার মাধ্যমে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান। প্রতারক চক্রের কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা র্যাব উদ্ধার করতে পেরেছে। বাকি ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা হয়তো বাইরে পাচার হয়ে গেছে বলে র্যাব কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। এর আগে এই চক্রটিকে শনাক্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলামোটর এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল আলম বীরপ্রতীককে র্যাব তার আইএসএন নামের অফিস থেকে আটক করে।
র্যাব জানায়, বিদেশি প্রতারক চক্রের সঙ্গে হাবিবুল আলমের যোগাযোগ রয়েছে। রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় র্যাব। বৃহস্পতিবার রাতেই র্যাব উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ৫/এ নম্বর রোডের ৩০ নম্বর বাড়ি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের ৮ নম্বর রোডের ২৬৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্যামেরুনের তিন নাগরিককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুয়াতে ফুতসু, আমেলিন মাওয়াবো ও এমবিদা একানি। শুক্রবার দুপুরে কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কামন্ডার মুফতি মাহমুদ খান এসব কথা বলেন।
র্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, জিয়াউর রহমান নামে এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণার শিকার হন। বাংলাদেশে ১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন ক্যামেরুনের নাগরিক কুয়াতে ফুতসু। তারপর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্যবসার কথা বলে জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তিনি। একপর্যায়ে জিয়ার কাছে ২.৫ লাখ ইউরো চান সমপরিমাণ ডলারের বিনিময়ে। এ জন্য জিয়াকে ২০ লাখ টাকা বেশি দিতে চাইলে তিনিও আগ্রহী হয়ে ইউরো যোগাড় করেন। কিন্তু কুয়াতে ফুতসু কৌশলে ডলার না দিয়েই ইউরো নিয়ে চলে যান। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। জিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তাদেরকে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ইউরো ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এক মাস আগে রজার্স নামে একজন নিজেকে জার্মানির নাগরিক দাবি করে জিয়াকে ফোন করে ১১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলেন। এজন্য একজন খুব শিগগিরই বাংলাদেশে তার সঙ্গে দেখা করবেন। এর কয়েকদিন পর বোস্তাভো স্টিভস নামে জিয়াকে ফোন করে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে দেখা করতে বলেন ফুতসু। তারপর তাদের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয় এবং কিভাবে টাকা দেশে আনবেন, কোন খাতে বিনিয়োগ করবেন এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কয়েকদিন পর ফুতসু সিঙ্গাপুরে ব্যবসার কাজে যাচ্ছেন বলে জানান।
তারপর সিঙ্গাপুর থেকে এসে আবার জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং আপাতত থাকা-খাওয়ার জন্য চার হাজার ডলার চান। জিয়াও এতো বড় বিনিয়োগের লোভে তাকে চার হাজার ডলার দেন। বিভিন্ন সময় ফুতসু জিয়ার সঙ্গে দেখা করলেই গাড়ি দেখিয়ে বলতো রাষ্ট্রদূত গাড়ি পাঠিয়েছেন, তার সঙ্গে মিটিং আছে। এভাবে বিভিন্ন পন্থায় এসব বিভিন্ন পন্থায় তার বিশ্বাস অর্জন করেন ফুতসু। এর কয়েকদিন পর ফুতসু ইউরোপে পাঠানোর জন্য আড়াইলাখ ইউরো চান জিয়ার কাছে। ডলারের বিনিময়ে ইউরো দেবেন এবং ২০ লাখ টাকা বেশি দেবেন বললে জিয়াও ইউরো যোগাড় করেন। ৩১ অক্টোবর রাতে ফুতসুকে নিজ বাসায় দাওয়াত দেন জিয়া। ফুতসু ও তার আরেক সহযোগী বাসায় যান এবং খাওয়া শেষে জিয়াকে ইউরোগুলো দেখাতে বলেন। জিয়া কাগজের প্যাকেটে মোড়ানো ইউরো দেখান। তখন তাদের মধ্যে একজন একটি তরল পদার্থের বোতল বের করেন এবং জিয়ার সামনে তা ফেলে দেন। এটি বিষাক্ত উল্লেখ করে তাকে ফ্রেস হয়ে আসতে বলেন।
জিয়া ফ্রেস হতে গেলে কাগজের প্যাকেট থেকে ইউরো নিয়ে সেখানে সাদা কাগজ রেখে দেন ফুতসু। জিয়া বের হয়ে এলে তারা বলে আজ ডলার আনেননি পরেরদিন এসে ডলার দিয়ে ইউরো নিয়ে যাবে। তখন তাদেরকে ওইদিনের মতো বিদায় জানান জিয়া। এরপর থেকে জিয়ার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ফুতসুসহ ক্যামেরুনের প্রতারক চক্র।
গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে দুজনের পাসপোর্ট পাওয়া গেলেও একজনের কোনো ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি। চক্রটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশলে লোকজনকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে থাকে।




























