০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আব্দুস সামাদ আজাদ : সেকাল-একাল

  • Update Time : ১২:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মনজুর আজাদ পাভেল ::
 
১৯৫৪ সাল। বৃহত্তর সিলেটবাসী কে একটি প্রতীক এর সাথে পরিচয় করাতে গিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম, ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়ন, মহকূমা হয়ে জেলায়। কখন ও চুঙ্গা ফুঁকে, নৌকার চৈ এ বসে, কখনও পাল তোলা নৌকায়, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে। রক্তের সম্পর্ক কে পাশ কাটিয়ে আত্নার সম্পর্কে মায়ার বাঁধনে আপন করে নিয়েছিলেন সিলেটের সর্বস্থরের মানুষকে। প্রতীকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগে প্রতীকটির বাংলা নাম কে সমুন্নত রাখতে, ভাষার মান রাখতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহান ভাষা আন্দোলনে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে ১০ জনের মিছিলের প্রবক্তা এবং সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই বলে বুক পেতে দিয়েছিলেন বুলেটের সামনে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে ছুটলেন তাঁর প্রিয় নৌকা মার্কা কে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে। সুনামগঞ্জ মহকূমা নৌকা মার্কার সাথে পরিচিত হলো। সেই থেকে ২০০৫ সাল অব্দি প্রিয় নৌকা মার্কা নিয়েই থেকেছেন। কখনও ক্লান্ত হননি। সাধারণ মানুষের জন্য সদর দরজা ছিল সব সময় খোলা। সেজন্যই তিনি সবার প্রিয় লিডার, মনের মানুষ।
 
২০০৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছিল না। কিন্তু ভালোবাসার কারিগর জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ নিজস্ব স্টাইলে এবং দূরদর্শী চিন্তা চেতনা দিয়ে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। সিলেটের বড় বড় নেতাদের ডেকে নিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষ এবং তাদের আত্নীয়তার খোঁজ নিয়ে সবাইকে আত্নীয়তার বন্ধন তৈরী করতে বললেন। যেই কথা সেই কাজ। সিলেটে অবস্থানরত সবাইকে মায়ার বাঁধনে বেঁধে ফেললেন।  ফলাফল: বিএনপি’র আমলে কারচুপি আর ধান্ধাবাজদের ঠেকিয়ে বদর উদ্দিন কামরান বিজয়ী। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র, প্রথম নগর পিতা।
২০১৮ সাল। আবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই। লিডার আমাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু লিডারের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার তো আছে। সদাহাস্য, সদালাপী, আপাদমস্তক ভদ্রলোক ডন ভাই তো আছেন। লিডার এর মৃত্যুর পূর্বে কোন এক দিন ডন ভাই কে ডেকে বলেছিলেন “ সুনামগঞ্জ সহ বৃহত্তর সিলেটের মানুষ আমার পরম আত্নীয়। যদি কখনো মনে করো তোমার তাদের প্রয়োজন তুমি শুধু একবার বলো, দেখবে সবাই এগিয়ে আসবে (এটা ডন ভাই এর লেখাতে পেয়েছি)।
ডন ভাই বলেছেন ২৩.০৭.১৮ তারিখে গণসংযোগ ও পথসভা করবেন। সবাই যাতে উপস্থিত থাকে। ব্যাস। নির্বাচনী এলাকার মানুষ তো ছিলোই, নির্বাচনী এলাকার বাহিরের মানুষও স্বঃতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করলো। প্রতিটা নেতা-কর্মী-সাধারণ মানুষের মুখই বলে দিচ্ছে সব। এখানে কোন স্বার্থের গন্ধ নেই আছে শুধু ভালোবাসা, প্রেম। নেতার প্রতি বিশ্বাস। যা আমরা দেখেছি আমাদের প্রিয় লিডারের বেলায়। কেউ কেউ বলছেন হারানো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে, কেউ বলছেন পালা বদলের সেকাল-একাল, কেউ বলছেন সামাদ আজাদ ফিরে এসেছেন, যার ছায়া তারা দেখছেন ডন সামাদের মাঝে। কেউ কেউ বিশ্বাস করছেন সামাদ আজাদের মতো প্রভাব বিস্তার করে আবার জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হবেন ডন সামাদ। আর তিনি শুধু বন্ধন তৈরী করতে বলছেন এবং বন্ধন প্রতিষ্ঠিত করে ঐক্যবদ্ধ হতে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ কে ঠেকানোর সাধ্য যে কারো নেই।
আমরা বিশ্বাস করি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। বিজয়ী হবে বঙ্গবন্ধুর, শেখ হাসিনার, আব্দুস সামাদ আজাদের, বদর উদ্দিন কামরানের, ডন সামাদের নৌকা। মুক্তিযোদ্ধের নৌকা, স্বাধীনতার নৌকা, উন্নয়নের নৌকা, জয় বাংলার নৌকা।
লেখক: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, মোবা. ০১৭১৬০৯৯৪৭৫
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

আব্দুস সামাদ আজাদ : সেকাল-একাল

Update Time : ১২:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮
মনজুর আজাদ পাভেল ::
 
১৯৫৪ সাল। বৃহত্তর সিলেটবাসী কে একটি প্রতীক এর সাথে পরিচয় করাতে গিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম, ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়ন, মহকূমা হয়ে জেলায়। কখন ও চুঙ্গা ফুঁকে, নৌকার চৈ এ বসে, কখনও পাল তোলা নৌকায়, মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে। রক্তের সম্পর্ক কে পাশ কাটিয়ে আত্নার সম্পর্কে মায়ার বাঁধনে আপন করে নিয়েছিলেন সিলেটের সর্বস্থরের মানুষকে। প্রতীকটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগে প্রতীকটির বাংলা নাম কে সমুন্নত রাখতে, ভাষার মান রাখতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মহান ভাষা আন্দোলনে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে ১০ জনের মিছিলের প্রবক্তা এবং সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই বলে বুক পেতে দিয়েছিলেন বুলেটের সামনে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে ছুটলেন তাঁর প্রিয় নৌকা মার্কা কে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে। সুনামগঞ্জ মহকূমা নৌকা মার্কার সাথে পরিচিত হলো। সেই থেকে ২০০৫ সাল অব্দি প্রিয় নৌকা মার্কা নিয়েই থেকেছেন। কখনও ক্লান্ত হননি। সাধারণ মানুষের জন্য সদর দরজা ছিল সব সময় খোলা। সেজন্যই তিনি সবার প্রিয় লিডার, মনের মানুষ।
 
২০০৩ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছিল না। কিন্তু ভালোবাসার কারিগর জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ নিজস্ব স্টাইলে এবং দূরদর্শী চিন্তা চেতনা দিয়ে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। সিলেটের বড় বড় নেতাদের ডেকে নিয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষ এবং তাদের আত্নীয়তার খোঁজ নিয়ে সবাইকে আত্নীয়তার বন্ধন তৈরী করতে বললেন। যেই কথা সেই কাজ। সিলেটে অবস্থানরত সবাইকে মায়ার বাঁধনে বেঁধে ফেললেন।  ফলাফল: বিএনপি’র আমলে কারচুপি আর ধান্ধাবাজদের ঠেকিয়ে বদর উদ্দিন কামরান বিজয়ী। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র, প্রথম নগর পিতা।
২০১৮ সাল। আবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই। লিডার আমাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু লিডারের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার তো আছে। সদাহাস্য, সদালাপী, আপাদমস্তক ভদ্রলোক ডন ভাই তো আছেন। লিডার এর মৃত্যুর পূর্বে কোন এক দিন ডন ভাই কে ডেকে বলেছিলেন “ সুনামগঞ্জ সহ বৃহত্তর সিলেটের মানুষ আমার পরম আত্নীয়। যদি কখনো মনে করো তোমার তাদের প্রয়োজন তুমি শুধু একবার বলো, দেখবে সবাই এগিয়ে আসবে (এটা ডন ভাই এর লেখাতে পেয়েছি)।
ডন ভাই বলেছেন ২৩.০৭.১৮ তারিখে গণসংযোগ ও পথসভা করবেন। সবাই যাতে উপস্থিত থাকে। ব্যাস। নির্বাচনী এলাকার মানুষ তো ছিলোই, নির্বাচনী এলাকার বাহিরের মানুষও স্বঃতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করলো। প্রতিটা নেতা-কর্মী-সাধারণ মানুষের মুখই বলে দিচ্ছে সব। এখানে কোন স্বার্থের গন্ধ নেই আছে শুধু ভালোবাসা, প্রেম। নেতার প্রতি বিশ্বাস। যা আমরা দেখেছি আমাদের প্রিয় লিডারের বেলায়। কেউ কেউ বলছেন হারানো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে, কেউ বলছেন পালা বদলের সেকাল-একাল, কেউ বলছেন সামাদ আজাদ ফিরে এসেছেন, যার ছায়া তারা দেখছেন ডন সামাদের মাঝে। কেউ কেউ বিশ্বাস করছেন সামাদ আজাদের মতো প্রভাব বিস্তার করে আবার জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হবেন ডন সামাদ। আর তিনি শুধু বন্ধন তৈরী করতে বলছেন এবং বন্ধন প্রতিষ্ঠিত করে ঐক্যবদ্ধ হতে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ কে ঠেকানোর সাধ্য যে কারো নেই।
আমরা বিশ্বাস করি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। বিজয়ী হবে বঙ্গবন্ধুর, শেখ হাসিনার, আব্দুস সামাদ আজাদের, বদর উদ্দিন কামরানের, ডন সামাদের নৌকা। মুক্তিযোদ্ধের নৌকা, স্বাধীনতার নৌকা, উন্নয়নের নৌকা, জয় বাংলার নৌকা।
লেখক: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, মোবা. ০১৭১৬০৯৯৪৭৫
এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ