দানের টাকায় দুই আলেমের ‘লড়াই’!
- Update Time : ১২:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
- / ১৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: দুজনই আলেম। ইসলামের দ্বিনী কাজে দুজনই দক্ষ। সবকিছু ছাপিয়ে এবার তারা দুজনই নিজেদের মধ্যে ভোটের লড়াই। তারা দুজনই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের আর্শিবাদ নিয়ে এবার সিলেট-৫ আসনের নির্বাচনি মাঠে। নিজের কিছু টাকা আর স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও দান নিয়েই তারা ভোটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন। একজন বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আর অন্যজন জামায়াতে ইসলামীর শরিক দল খেলাফত মজলিস নেতা শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল হাসান। দানের টাকায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন আবুল হাসান আর পিছিয়ে আছেন ওবায়দুল্লাহ ফারুক। এই আসনে তারা দুজনই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি। ভোটের মাঠে তারা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এই আসনটিতে লড়াই হবে দুজন আলেমের। নির্বাচনকে সামনে রেখে দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। সিলেটের অন্য আসনগুলোর চেয়েভিন্নমাত্রার নির্বাচন হবে সিলেট-৫ আসনে। দুই আলেমের ডোর-টু-ডোর দৌঁড়ে জমে উঠেছে এখানকার (কানাইঘাট, জকিগঞ্জ) এর নির্বাচনী মাঠ। ভোটারদের প্রতিশ্রুতির ঢালিও খুলে দিচ্ছেন তারা। ওবায়দুল্লাহ ফারুক নিজের টাকা ছাড়াও নির্বাচনি ব্যয় করবেন ধার ও দেনা করে। অন্যদিকে শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল হাসান নির্বাচনি ব্যয় করবেন নিজের টাকা ও দানের টাকা থেকে।
জানা যায়, সিলেট-৫ (কানাইঘাট, জকিগঞ্জ) আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান নির্বাচনে লড়ছেন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে। তার সাথে রয়েছেন বিএনপি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি লড়ছেন খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে। এই আসনটিই দেশের একমাত্র আসন, যেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দু’জন আলেমের মধ্যে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন (বিএনপির বহিষ্কৃত) জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (ফুটবল) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো: বিল্লাল উদ্দিন (হারিকেন)। তবে মূল লড়াইটি হবে এখানে দুজন আলেমের মধ্যে এমনটাই জানিয়েছেন ভোটাররা। নির্বাচনের হাওয়া শুরুর সাথে সাথে সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক প্রার্থি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে বিএনপির আসন ভাগাভাগির সময় তার প্রার্থিতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এবারো এ আসনটি ছাড় দিলো বিএনপি। তবে জট লেগেছিল ১১ দলের প্রার্থী নিয়ে। আসনটি চেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তাদের প্রার্থী জেলার নায়েবে আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান। খেলাফত মজলিসও এ আসন চায়। আসনে তাদের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান। ফলে প্রার্থিতা নিয়ে নাটকীয়তার অন্ত ছিল না। জামায়াত নেতারা আসনটি ছাড়তে চাননি। শেষ পর্যন্ত তারা জোটের ভেতরে হাফিজ আনোয়ারকে প্রার্থী করতে লড়াই চালিয়ে যান। জোটের ভেতরে যেমনি চলছিল কথাবার্তা, তেমনি ভার্চ্যুয়ালি লড়াইয়েও নেমেছিলেন জামায়াত কর্মীরা। নানাভাবে তারা হাফিজ আনোয়ারকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তবে হাফিজ আনোয়ার সজ্জন ব্যক্তি। স্বচ্ছ ধারার রাজনীতিক। সিলেটের জামায়াতের রাজনীতির নীতিনির্ধারক মহলের একজন। নানা দুর্যোগ, দুর্দিনে তিনি কানাইঘাটবাসীর সঙ্গে ছিলেন,আছেনও। তাকে ঘিরে জামায়াত নেতারা স্বপ্ন দেখছিলেন।
অন্যদিকে, শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল হাসান এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী। তার দল খেলাফত মজলিস। আসনের জকিগঞ্জ উপজেলার একমাত্র প্রার্থী। নতুন প্রার্থী হলেও মুফতি আবুল হাসানের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি ওয়াজিন। আলেম হিসেবে আছে গ্রহণযোগ্যতা। তাকে নিয়ে ভোটের মাঠে এবার বাজি ধরে খেলাফত মজলিস। প্রথম বাজিতেই বাজিমাত। ১১ দলের অভ্যন্তরে পিছু হটলো জামায়াত। প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলো মুফতি আবুল হাসানের নাম।
সূত্র জানায়, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯ হাজার ৯৫৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৬৬৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৮৯ জন। সিলেট-৫ আসন (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে মোট প্রার্থী চারজন। এর মধ্যে দুজন প্রবাসীদের কাছ থেকে নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর টাকা পেয়েছেন। বিএনপির সমর্থন পাওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক ১২ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এর মধ্যে নিজ আয়ের রয়েছে দুই লাখ টাকা। বাকি টাকা প্রবাসী স্বজনদের থেকে ধার ও দান হিসেবে পাচ্ছেন।
খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান নিজ আয়ের তিন লাখ টাকা খরচ করবেন। তিনি প্রবাসী শ্যালকের কাছ থেকে দান হিসেবে পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া নয়জন শুভানুধ্যায়ীর কাছ থেকে দান হিসেবে পাওয়া ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১৩ লাখ টাকা দিচ্ছেন ছয়জন প্রবাসী। প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়।





















