০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে লিমপিড কর্তৃক বালি উত্তোলন বন্ধে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে বারকী শ্রমিক সংঘ

  • Update Time : ০২:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আল হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে :: উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান (চলতি) নদী হতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভিটবালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিল এবং ধোপাজান নদীতে প্রাণ-প্রকৃতিবিনাশী ড্রেজার-বোমা মেশিন বন্ধ ও ইজারা পদ্ধতি বাতিল করে সরকারিভাবে ক্রয়-বিক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরে মানববন্ধন শেষে উক্ত স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বারকী শ্রমিক সংঘ। জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়ার সভাপতিত্বে ও সিদ্দিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাংকুর দাস জহর, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, সহ সভাপতি আমির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল,বারকি শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া ও প্রবীণ বারকি শ্রমিক নাসির উদ্দীন প্রমূখ।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে,ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া দিনমজুরদের কাজের অন্যতম ভরসাস্থল যাদুকাটা ও ধোপাজান ‘বালিমিশ্রিত পাথর মহাল। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান নদী হতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভিটবালু উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করা হয়। যা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন বটে। জেলার প্রায় সবকটি উপজেলা বৎসরে আটমাস জলমগ্ন থাকে। সাধারণত এই সময়ে জেলার প্রায় লক্ষাধিক কৃষক পরিবারের বারকি শ্রমিকগণ বালু-পাথর আহরণের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। জলের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা বালি, পাথর-নুড়ি ও কয়লা নদীতীরবর্তী এলাকার গ্রামবাসী শ্রমিকরা পরিবেশবান্ধব উপায় বেলচা, বালতি ও নেট দিয়ে যুগ যুগ ধরে আহরণ করে আসছিল। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, বালি পাথরখেকো মুনাফালোভী একটি সংঘবদ্ধ চক্র আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ইজারাচুক্তি লঙ্ঘন এবং উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধ ড্রেজার-বোমাসহ বিভিন্ন নামের খননযন্ত্রের দ্বারা বালি-পাথর উত্তোলন করার ফলে নদীর গভীরতা বর্তমানে কমবেশি ৩০/৪০ ফুট হয়ে পড়েছে। প্রাণ প্রকৃতিবিনাশী এই কর্মকান্ডের ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো একর ফসলি জমি। এ সকল অপকর্মের মূলে রয়েছে মোগল আমলে প্রবর্তিত ইজারাদারি প্রথা, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, শঠতা, ভন্ডামি, গুন্ডামির আদলে জনসমাজের সম্পদ আত্মসাতের জন্যে সমাজ পরিসরে আধিপত্যের বিস্তার। এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা মামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি নাজিল হয়। অদ্যাবধি জীবিকার প্রশ্নে প্রশাসনের সর্বস্তরে আবেদন নিবেদনের ফলস্বরূপ মাঝে মধ্যে দায়সারামতো ও লোকদেখানো তৎপরতা পরিচালনা করা হলেও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ খননযন্ত্রের তান্ডব। অবৈধ ড্রেজার ও খননযন্ত্রের তান্ডবের কারণে বর্তমানে কর্মহীন হয়ে অর্ধাহারে অনাহরে দিনাতিপাত করছেন হাজার হাজার বারকিশ্রমিক। পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডি নৌকা সরাসরি বালু মহালের ভেতরে প্রবেশ করে বালু-পাথর উত্তোলন করার কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট বারকি নৌকার ব্যবহার যোগ্যতা হারিয়ে বারকি শ্রমিকদের বেকার করে তোলে। অনগ্রসর জেলা সুনামগঞ্জে সরকারি-বেসরকারি উল্লেখযোগ্য কোন শিল্প কারখানা না থাকায় জেলার বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষ যাদুকাটা ও ধোপাজান বালিপাথর মহালে হাতে ব্যবহৃত হাতিয়ার সহযোগে বালুপাথর আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জেলার শ্রমজীবী মানুষের জীবনজীবিকার স্বার্থে যাদুকাটা ও ধোপাজান বালিপাথর মহালকে অবৈধ ড্রেজার-খননযন্ত্রের হাত থেকে মুক্ত করা না গেলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ থামানো যাবে না। অদ্যাবধি অর্থলোভী বালি পাথরখেকো চক্রের কোনও অপরাধীর শাস্তি না হওয়ায় বর্তমানে উল্লেখিত মহালে সরকার বাহাদুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে এবং এই ফাঁকে দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সমাজের অধিপতি শ্রেণির রাজনৈতিক মোর্চা যাদুকাটা ও ধোপাজান বালিমিশ্রিত পাথর কোয়ারিতে নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছে। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ধোপাজান নদী হতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভিটবালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিল, সরকারিভাবে পাথর বালি ক্রয়কেন্দ্র অবিলম্বে চালু করে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে পাথর ও বালির প্রকৃত মজুদের পরিমাণ নিরূপণ করে পাথর ও বালি আহরণের দুর্নীতিগ্রস্ত নীতিমালার পরিবর্তে শ্রমিকস্বার্থে গণ নীতিমালা তৈরি করার ৩ দফা দাবী জানান তারা ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে লিমপিড কর্তৃক বালি উত্তোলন বন্ধে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে বারকী শ্রমিক সংঘ

Update Time : ০২:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

আল হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে :: উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান (চলতি) নদী হতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভিটবালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিল এবং ধোপাজান নদীতে প্রাণ-প্রকৃতিবিনাশী ড্রেজার-বোমা মেশিন বন্ধ ও ইজারা পদ্ধতি বাতিল করে সরকারিভাবে ক্রয়-বিক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরে মানববন্ধন শেষে উক্ত স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বারকী শ্রমিক সংঘ। জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়ার সভাপতিত্বে ও সিদ্দিকুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাংকুর দাস জহর, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, সহ সভাপতি আমির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল,বারকি শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া ও প্রবীণ বারকি শ্রমিক নাসির উদ্দীন প্রমূখ।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে,ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া দিনমজুরদের কাজের অন্যতম ভরসাস্থল যাদুকাটা ও ধোপাজান ‘বালিমিশ্রিত পাথর মহাল। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান নদী হতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভিটবালু উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করা হয়। যা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন বটে। জেলার প্রায় সবকটি উপজেলা বৎসরে আটমাস জলমগ্ন থাকে। সাধারণত এই সময়ে জেলার প্রায় লক্ষাধিক কৃষক পরিবারের বারকি শ্রমিকগণ বালু-পাথর আহরণের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। জলের সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা বালি, পাথর-নুড়ি ও কয়লা নদীতীরবর্তী এলাকার গ্রামবাসী শ্রমিকরা পরিবেশবান্ধব উপায় বেলচা, বালতি ও নেট দিয়ে যুগ যুগ ধরে আহরণ করে আসছিল। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, বালি পাথরখেকো মুনাফালোভী একটি সংঘবদ্ধ চক্র আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ইজারাচুক্তি লঙ্ঘন এবং উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধ ড্রেজার-বোমাসহ বিভিন্ন নামের খননযন্ত্রের দ্বারা বালি-পাথর উত্তোলন করার ফলে নদীর গভীরতা বর্তমানে কমবেশি ৩০/৪০ ফুট হয়ে পড়েছে। প্রাণ প্রকৃতিবিনাশী এই কর্মকান্ডের ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো একর ফসলি জমি। এ সকল অপকর্মের মূলে রয়েছে মোগল আমলে প্রবর্তিত ইজারাদারি প্রথা, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, শঠতা, ভন্ডামি, গুন্ডামির আদলে জনসমাজের সম্পদ আত্মসাতের জন্যে সমাজ পরিসরে আধিপত্যের বিস্তার। এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা মামলাসহ প্রাণনাশের হুমকি নাজিল হয়। অদ্যাবধি জীবিকার প্রশ্নে প্রশাসনের সর্বস্তরে আবেদন নিবেদনের ফলস্বরূপ মাঝে মধ্যে দায়সারামতো ও লোকদেখানো তৎপরতা পরিচালনা করা হলেও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ খননযন্ত্রের তান্ডব। অবৈধ ড্রেজার ও খননযন্ত্রের তান্ডবের কারণে বর্তমানে কর্মহীন হয়ে অর্ধাহারে অনাহরে দিনাতিপাত করছেন হাজার হাজার বারকিশ্রমিক। পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডি নৌকা সরাসরি বালু মহালের ভেতরে প্রবেশ করে বালু-পাথর উত্তোলন করার কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট বারকি নৌকার ব্যবহার যোগ্যতা হারিয়ে বারকি শ্রমিকদের বেকার করে তোলে। অনগ্রসর জেলা সুনামগঞ্জে সরকারি-বেসরকারি উল্লেখযোগ্য কোন শিল্প কারখানা না থাকায় জেলার বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষ যাদুকাটা ও ধোপাজান বালিপাথর মহালে হাতে ব্যবহৃত হাতিয়ার সহযোগে বালুপাথর আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জেলার শ্রমজীবী মানুষের জীবনজীবিকার স্বার্থে যাদুকাটা ও ধোপাজান বালিপাথর মহালকে অবৈধ ড্রেজার-খননযন্ত্রের হাত থেকে মুক্ত করা না গেলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ থামানো যাবে না। অদ্যাবধি অর্থলোভী বালি পাথরখেকো চক্রের কোনও অপরাধীর শাস্তি না হওয়ায় বর্তমানে উল্লেখিত মহালে সরকার বাহাদুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে এবং এই ফাঁকে দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সমাজের অধিপতি শ্রেণির রাজনৈতিক মোর্চা যাদুকাটা ও ধোপাজান বালিমিশ্রিত পাথর কোয়ারিতে নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছে। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ধোপাজান নদী হতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ‘লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভিটবালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিল, সরকারিভাবে পাথর বালি ক্রয়কেন্দ্র অবিলম্বে চালু করে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে পাথর ও বালির প্রকৃত মজুদের পরিমাণ নিরূপণ করে পাথর ও বালি আহরণের দুর্নীতিগ্রস্ত নীতিমালার পরিবর্তে শ্রমিকস্বার্থে গণ নীতিমালা তৈরি করার ৩ দফা দাবী জানান তারা ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ