০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে সৈয়দ তালহা আলমের সংবাদ সম্মেলনে মাওঃ মুশতাক গাজীনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি

  • Update Time : ১১:০৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব মিয়া (জগন্নাথপুর) সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমেদ গাজীনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জগন্নাথপুর মাহিমা পাটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম বলেন, মাওঃ মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল মব জাস্টিসের মাধ্যমে নানা পায়তারা করছে। এমন কি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন সিলেট নগরীর সেনপাড়া আমার বাসায় এক জমিয়ত নেতার সন্ধানে আসে। পরে ফোন দিয়ে আমি ওই নেতাকে বলি, আত্মসমর্পণ করার জন্য। পরবর্তীতে জানতে পারি, মব জাস্টিসের মাধ্যমে সূর্যাস্তের আগে গ্রেপ্তার দেখাতে একটি মহল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আল্টিমেটাম দেয়। নতুবা দেশজুড়ে হরতালসহ জনভোগান্তিমূলক কার্যক্রম চলবে। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও শঙ্কিত। এ ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমাকে বলা হচ্ছে, আমি আমেরিকা পালিয়া যাচ্ছি। এতে আমার মানহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের ভবিষ্যতে দেখা হবে। জমিয়ত নেতা সৈয়দ তালহা আলম আরো বলেন, আমি বাংলাদেশে আছি, বাংলাদেশে থাকব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো ধরনের তথ্য প্রমাণ ছাড়া একটি নিরীহ আলেম সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তাড়াতাড়ি প্রকাশের জন্য আমরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী কিভাবে মারা গেছেন প্রশাসনকে তার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে হবে। এটা হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে প্রকৃত দোষীদের খোঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হোক। তিনি বলেন, জমিয়ত নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় মাওলানা হাম্মাদ গাজীনগরী ও মাওলানা তৈয়বুর রহমানকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে হয়তো সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ তালহা আলম জানান, সোমবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (মুফতি ওয়াক্বাস) অংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী, নির্বাহী সভাপতি মাওলানা শহীদুল ইসলাম আনসারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উন্নত প্রযুক্তি থাকাসত্ত্বেও জমিয়তের আমাদের নেতৃবৃন্দের প্রতি মিথ্যাচারের দুয়ার খোলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনগণের সামনে তুলে ধরার আহবান জানান। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মবের মাধ্যমে কাউকে যদি গ্রেপ্তার করা হয় সেটি হবে নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর জমিয়ত নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত ১১টার দিকে দিরাই রাস্তার পয়েন্ট থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ৫৭ ঘণ্টা পর গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শরীফপুর গ্রামে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে সৈয়দ তালহা আলমের সংবাদ সম্মেলনে মাওঃ মুশতাক গাজীনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি

Update Time : ১১:০৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইয়াকুব মিয়া (জগন্নাথপুর) সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম সংবাদ সম্মেলনে সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ-সভাপতি মাওলানা মুশতাক আহমেদ গাজীনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জগন্নাথপুর মাহিমা পাটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম বলেন, মাওঃ মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল মব জাস্টিসের মাধ্যমে নানা পায়তারা করছে। এমন কি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন সিলেট নগরীর সেনপাড়া আমার বাসায় এক জমিয়ত নেতার সন্ধানে আসে। পরে ফোন দিয়ে আমি ওই নেতাকে বলি, আত্মসমর্পণ করার জন্য। পরবর্তীতে জানতে পারি, মব জাস্টিসের মাধ্যমে সূর্যাস্তের আগে গ্রেপ্তার দেখাতে একটি মহল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আল্টিমেটাম দেয়। নতুবা দেশজুড়ে হরতালসহ জনভোগান্তিমূলক কার্যক্রম চলবে। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও শঙ্কিত। এ ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আমাকে বলা হচ্ছে, আমি আমেরিকা পালিয়া যাচ্ছি। এতে আমার মানহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের ভবিষ্যতে দেখা হবে। জমিয়ত নেতা সৈয়দ তালহা আলম আরো বলেন, আমি বাংলাদেশে আছি, বাংলাদেশে থাকব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো ধরনের তথ্য প্রমাণ ছাড়া একটি নিরীহ আলেম সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তাড়াতাড়ি প্রকাশের জন্য আমরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী কিভাবে মারা গেছেন প্রশাসনকে তার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে হবে। এটা হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে প্রকৃত দোষীদের খোঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হোক। তিনি বলেন, জমিয়ত নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় মাওলানা হাম্মাদ গাজীনগরী ও মাওলানা তৈয়বুর রহমানকে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসা করলে হয়তো সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ তালহা আলম জানান, সোমবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (মুফতি ওয়াক্বাস) অংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী, নির্বাহী সভাপতি মাওলানা শহীদুল ইসলাম আনসারীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উন্নত প্রযুক্তি থাকাসত্ত্বেও জমিয়তের আমাদের নেতৃবৃন্দের প্রতি মিথ্যাচারের দুয়ার খোলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জনগণের সামনে তুলে ধরার আহবান জানান। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মবের মাধ্যমে কাউকে যদি গ্রেপ্তার করা হয় সেটি হবে নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর জমিয়ত নেতা মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী সুনামগঞ্জ শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত ১১টার দিকে দিরাই রাস্তার পয়েন্ট থেকে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ৫৭ ঘণ্টা পর গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শরীফপুর গ্রামে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ