০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্র মজলিসের নেতৃত্ব নির্বাচন; আদর্শের এক রোল মডেল- ফুজায়েল আহমাদ নাজমুল

  • Update Time : ০১:০০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

যেসব সংগঠনে নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং, লবিং, শক্তি প্রদর্শন, পুলিশ প্রহরায় কাউন্সিল, পাল্টাপাল্টি কমিটি, গালাগালি, গলাবাজি, কলমবাজি ও পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ইত্যাদি চলে তাদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নেতৃত্ব নির্বাচন আদর্শের এক রোল মডেল হতে পারে।

দলীয় সংবিধানের আলোকে এ ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন হয়ে থাকে। এখানে গণ-সংগঠনের মুরব্বীদের হাত থাকে না। পছন্দ অপছন্দের ব্যক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে না। সিনিয়র-জুনিয়র যাচাই-বাছাইতে আনা হয় না। সর্বক্ষেত্রেই এখানে মেধা, যোগ্যতা ও খোদাভীতি প্রাধান্য পায়। যিনি সংগঠনের জন্য বেশি কল্যাণকর হবেন তাকেই সংগঠনের সর্বোচ্চ স্তরের জনশক্তি সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত এবং পরামর্শ দিয়ে মনোনীত করেন।

এখানে আরো একটি অবাক করা বিষয় হচ্ছে যে, যিনি নেতা নির্বাচিত বা মনোনীত হন তিনি দায়িত্ব নিতে কখনোই প্রস্তুত থাকেন না। এজন্যই তার নাম ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে দায়িত্ব নেয়ার ভয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চোখের পানি মুছতে মুছতে শপথ নেন। এমন দৃশ্য আমরা প্রত্যেক সেশনেই কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে নিয়ে প্রত্যেকটি শাখা পুনর্গঠনের সময় দেখতে পাই।

“নবীদের পথ অনুসারীদের জন্য ভোগ নয় কিংবা লোভ নয় বরং ত্যাগ ও ইখলাছের পথ অনুসরণীয়” এ শিক্ষা ধারণ করে ১৯৯০ থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শের অনুপম এ ঐতিহ্যে ধরে রেখেছে সংগঠনটি। আমার বিশ্বাস আগামীতেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

দুই।।

দ্বীনি আন্দোলনের দা’য়ীদের অন্যতম একটি গুণ বা বৈশিষ্ট হচ্ছে তারা নির্লোভ। তাদের মহান কাজের কোন বিনিময় পৃথিবীর কারো কাছে তারা চায় না। দুনিয়ার সমস্ত প্রাচুর্য দা’য়ীর দায়ীত্ব পালনের সামান্যতম কোন বিনিময় নয়। পৃথিবীর কোন মর্যাদা বা পার্থিব কোন সম্পদের আকর্ষণ দা’য়ীর জন্য মারাত্মক হলাহল তুল্য। প্রতিহিংসা নোংরা অসুস্থ রাজনীতির এ যুগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস আদর্শের এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে যা সর্বমহলে প্রশংসিত।

তিন।।

আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্বের। সমাজের চারিদিকে আবু জেহেল আর আবু লাহাবের উত্তরসূরীরা গজিয়ে উঠছে। ইসলাম ও মুসলমানের ধ্বংসের জন্য বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে সদা তৎপর। এদের মোকাবেলা করার মধ্যদিয়ে একটি আদর্শ, সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সচেতন, যোগ্য, সৎ, গতিশীল ও খোদাভীরু নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি ইসলামী ছাত্র মজলিস এক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে।

শেষ কথা।।

ত্রি-ধারার শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ছাত্র মজলিসের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। আশাকরি নির্বাচিত সভাপতি ও মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেলের নেতৃত্বে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমাদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসকে ভাল, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও বলিষ্ঠ দেখব।

পুনঃনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি ও নব মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেলকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন তাদেরকে এবং শহীদী এই কাফেলাকে কবুল করুন এই প্রার্থনা করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাত্র মজলিসের নেতৃত্ব নির্বাচন; আদর্শের এক রোল মডেল- ফুজায়েল আহমাদ নাজমুল

Update Time : ০১:০০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যেসব সংগঠনে নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রুপিং, লবিং, শক্তি প্রদর্শন, পুলিশ প্রহরায় কাউন্সিল, পাল্টাপাল্টি কমিটি, গালাগালি, গলাবাজি, কলমবাজি ও পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ইত্যাদি চলে তাদের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের নেতৃত্ব নির্বাচন আদর্শের এক রোল মডেল হতে পারে।

দলীয় সংবিধানের আলোকে এ ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন হয়ে থাকে। এখানে গণ-সংগঠনের মুরব্বীদের হাত থাকে না। পছন্দ অপছন্দের ব্যক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে না। সিনিয়র-জুনিয়র যাচাই-বাছাইতে আনা হয় না। সর্বক্ষেত্রেই এখানে মেধা, যোগ্যতা ও খোদাভীতি প্রাধান্য পায়। যিনি সংগঠনের জন্য বেশি কল্যাণকর হবেন তাকেই সংগঠনের সর্বোচ্চ স্তরের জনশক্তি সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত এবং পরামর্শ দিয়ে মনোনীত করেন।

এখানে আরো একটি অবাক করা বিষয় হচ্ছে যে, যিনি নেতা নির্বাচিত বা মনোনীত হন তিনি দায়িত্ব নিতে কখনোই প্রস্তুত থাকেন না। এজন্যই তার নাম ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে দায়িত্ব নেয়ার ভয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চোখের পানি মুছতে মুছতে শপথ নেন। এমন দৃশ্য আমরা প্রত্যেক সেশনেই কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে নিয়ে প্রত্যেকটি শাখা পুনর্গঠনের সময় দেখতে পাই।

“নবীদের পথ অনুসারীদের জন্য ভোগ নয় কিংবা লোভ নয় বরং ত্যাগ ও ইখলাছের পথ অনুসরণীয়” এ শিক্ষা ধারণ করে ১৯৯০ থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শের অনুপম এ ঐতিহ্যে ধরে রেখেছে সংগঠনটি। আমার বিশ্বাস আগামীতেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

দুই।।

দ্বীনি আন্দোলনের দা’য়ীদের অন্যতম একটি গুণ বা বৈশিষ্ট হচ্ছে তারা নির্লোভ। তাদের মহান কাজের কোন বিনিময় পৃথিবীর কারো কাছে তারা চায় না। দুনিয়ার সমস্ত প্রাচুর্য দা’য়ীর দায়ীত্ব পালনের সামান্যতম কোন বিনিময় নয়। পৃথিবীর কোন মর্যাদা বা পার্থিব কোন সম্পদের আকর্ষণ দা’য়ীর জন্য মারাত্মক হলাহল তুল্য। প্রতিহিংসা নোংরা অসুস্থ রাজনীতির এ যুগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস আদর্শের এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে যা সর্বমহলে প্রশংসিত।

তিন।।

আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকট আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্বের। সমাজের চারিদিকে আবু জেহেল আর আবু লাহাবের উত্তরসূরীরা গজিয়ে উঠছে। ইসলাম ও মুসলমানের ধ্বংসের জন্য বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে সদা তৎপর। এদের মোকাবেলা করার মধ্যদিয়ে একটি আদর্শ, সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সচেতন, যোগ্য, সৎ, গতিশীল ও খোদাভীরু নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি ইসলামী ছাত্র মজলিস এক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে।

শেষ কথা।।

ত্রি-ধারার শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ছাত্র মজলিসের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। আশাকরি নির্বাচিত সভাপতি ও মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেলের নেতৃত্বে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমাদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসকে ভাল, সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও বলিষ্ঠ দেখব।

পুনঃনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি ও নব মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেলকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন তাদেরকে এবং শহীদী এই কাফেলাকে কবুল করুন এই প্রার্থনা করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ