১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরকে দেখতে বাসায় গেলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • Update Time : ০২:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে তার বাসায় গেছেন। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি করার কারণে চিকিৎকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছেন তিনি। রোববার বেলা ২টায় তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইসহাক দার। এ সময় ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, উনারা জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমরা প্রায় আধাঘণ্টা ছিলাম। তারা জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। জামায়াত আমির প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেছেন যে, ফিলিস্তিনে হামাসের ওপর যে জুলুম-নির্যাতন চলছে তাতে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবং সোমবার জেদ্দায় মুসলিম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক আছে, সেখানে যাতে মুসলিম বিশ্ব শক্ত একটি ভূমিকা নিতে পারে সে ব্যাপারে উনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীও ইসরাইলের ব্যাপারে তাদের মত পেশ করেছেন এবং বলেছেন, এটা মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত দায়িত্ব। এ বিষয়ে সবাই তাদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য নেতৃত্ব বড় প্রয়োজন। এটা কম্বাইন্ডটি যাতে একটা লিডারশিপ তৈরি হতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। উনি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। একটি জয়েন্ট বডি তৈরি হয়ে সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে সেভাবে এগিয়ে যেতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে কেন কথা হবে? ৫ আগস্টের আগে ও পরের বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তবে তখন একটি বাধা ছিল, সেই বাধাটা এখন কম। আমরা আশা করি, সব মুসলিম দেশের সঙ্গে বিশেষ করে বাংলাদেশর সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং হবে। এটা বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য প্রয়োজন হবে বলে মনে করি। এর বাইরে সব দেশের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিটা ওয়াইজ হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, এর আগে শনিবার পাকিস্তান দূতাবাসের আমন্ত্রণে আমরা সাক্ষাৎ করেছিলাম। সেখানেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল।

তিনি জানান, জামায়াত আমির ভাল আছেন। ওপেন হার্ট সার্জারির পর সাধারণত এক দেড় মাস বিশ্রামে থাকতে হয়। তিনি সেই সময়টাই পার করছেন।

এর আগে ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল শনিবার বিকালে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পাক উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জামায়াত আমিরকে দেখতে বাসায় গেলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০২:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট :: ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে তার বাসায় গেছেন। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি করার কারণে চিকিৎকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছেন তিনি। রোববার বেলা ২টায় তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় জামায়াত আমিরের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইসহাক দার। এ সময় ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, উনারা জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। আমরা প্রায় আধাঘণ্টা ছিলাম। তারা জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। জামায়াত আমির প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে, ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেছেন যে, ফিলিস্তিনে হামাসের ওপর যে জুলুম-নির্যাতন চলছে তাতে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবং সোমবার জেদ্দায় মুসলিম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক আছে, সেখানে যাতে মুসলিম বিশ্ব শক্ত একটি ভূমিকা নিতে পারে সে ব্যাপারে উনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীও ইসরাইলের ব্যাপারে তাদের মত পেশ করেছেন এবং বলেছেন, এটা মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত দায়িত্ব। এ বিষয়ে সবাই তাদের সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেছেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য নেতৃত্ব বড় প্রয়োজন। এটা কম্বাইন্ডটি যাতে একটা লিডারশিপ তৈরি হতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। উনি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। একটি জয়েন্ট বডি তৈরি হয়ে সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে সেভাবে এগিয়ে যেতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের সঙ্গে কেন কথা হবে? ৫ আগস্টের আগে ও পরের বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তবে তখন একটি বাধা ছিল, সেই বাধাটা এখন কম। আমরা আশা করি, সব মুসলিম দেশের সঙ্গে বিশেষ করে বাংলাদেশর সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক তৈরি হচ্ছে এবং হবে। এটা বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য প্রয়োজন হবে বলে মনে করি। এর বাইরে সব দেশের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিটা ওয়াইজ হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, এর আগে শনিবার পাকিস্তান দূতাবাসের আমন্ত্রণে আমরা সাক্ষাৎ করেছিলাম। সেখানেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল।

তিনি জানান, জামায়াত আমির ভাল আছেন। ওপেন হার্ট সার্জারির পর সাধারণত এক দেড় মাস বিশ্রামে থাকতে হয়। তিনি সেই সময়টাই পার করছেন।

এর আগে ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল শনিবার বিকালে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকটি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় পাক উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ