০৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেটে আত্মগোপনে থাকা আ.লীগ নেতাকে ধরে পিটুনি, উদ্ধার করল পুলিশ

  • Update Time : ০২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / ৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে ধরে পিটিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের লন্ডনি রোডের রোডের ১৩৭ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ওই বাসায় হানা দেন। এসময় ওই বাসায় আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রায়কে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির কবল থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকে উদ্ধার করে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয় জনতা প্রদীপ রায়কে আটক করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে সিলেট ও সুনামগঞ্জে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এই নেতা সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জয়া সেগুপ্তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার নির্দেশে চলতো দিরাই ও শাল্লা উপজেলার শাসন ব্যবস্থা। তিনি এমপির প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। সবশেষে তিনি দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বড় বড় গ্রুপ ফিসারি ও জলমহালগুলোর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নিয়ে নেপথ্যের গডফাদার ছিলেন।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া জলমহালের দখল নিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় প্রদীপ রায়কে আসামি করা হলেও পরবর্তীতে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকেসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দিরাইয়ের ভাটিপাড়া জলমহালের দখল নিয়ে আরেকটি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। সেই মামলায়ও তার নাম ছিল আসামিদের তালিকায়।

তার ভাই বিশ্বজিৎ রায়ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দিরাই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রদীপ রায় ও তার ভাই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপি কর্মীরা স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় প্রদীপ রায়কে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সিলেটে আত্মগোপনে থাকা আ.লীগ নেতাকে ধরে পিটুনি, উদ্ধার করল পুলিশ

Update Time : ০২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে ধরে পিটিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের লন্ডনি রোডের রোডের ১৩৭ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী ওই বাসায় হানা দেন। এসময় ওই বাসায় আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা প্রদীপ রায়কে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির কবল থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকে উদ্ধার করে। এ তথ্য নিশ্চিত করে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয় জনতা প্রদীপ রায়কে আটক করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে সিলেট ও সুনামগঞ্জে মোট ৭টি মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত এই নেতা সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জয়া সেগুপ্তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার নির্দেশে চলতো দিরাই ও শাল্লা উপজেলার শাসন ব্যবস্থা। তিনি এমপির প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। সবশেষে তিনি দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বড় বড় গ্রুপ ফিসারি ও জলমহালগুলোর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ইজারা নিয়ে নেপথ্যের গডফাদার ছিলেন।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারুলিয়া জলমহালের দখল নিয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় প্রদীপ রায়কে আসামি করা হলেও পরবর্তীতে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকেসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর দিরাইয়ের ভাটিপাড়া জলমহালের দখল নিয়ে আরেকটি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। সেই মামলায়ও তার নাম ছিল আসামিদের তালিকায়।

তার ভাই বিশ্বজিৎ রায়ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দিরাই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রদীপ রায় ও তার ভাই আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপি কর্মীরা স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় প্রদীপ রায়কে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ