০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

  • Update Time : ০১:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্রুতগতির এই যুগে সবচেয়ে কম সময় টিকে থাকা জিনিসটির নাম—মনোযোগ। বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজ, নোটিফিকেশন—সবকিছুই যেন আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিতে ব্যস্ত। একে বলে “অ্যাটেনশন ইকোনমি”, যেখানে মানুষের মনোযোগই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে দামি পণ্য। ২০১৫ সালে মাইক্রোসফটের একটি গবেষণায় প্রথম বিশ্বব্যাপী আলোড়ন ওঠে। সেখানে দাবি করা হয়, মানুষের গড় অ্যাটেনশন স্প্যান তখন মাত্র ৮ সেকেন্ডে নেমে এসেছে—একটি গোল্ডফিশের থেকেও কম। যদিও গবেষণাটিকে ঘিরে বিতর্ক আছে, তবে এর মূল বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের মনোযোগের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দিচ্ছে। এই মনোযোগহীনতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত এত বেশি তথ্য, ছবি ও ভিডিওর মুখোমুখি হচ্ছি যে আমাদের মস্তিষ্ক গভীরভাবে চিন্তা করার বা একটি বিষয়ে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ক্লিফোর্ড নাস বলেন, “যারা নিয়মিত মাল্টিটাস্ক করে, তারা খুব কমই মনোযোগ দিতে পারে এবং খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়।” এই অবস্থাকে আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন নিউরোসায়েন্টিস্ট ড্যানিয়েল লেভিটিন। তাঁর মতে, প্রতিবার আমরা মনোযোগ সরিয়ে অন্য কিছুর দিকে নেই, তখন আমাদের মস্তিষ্কে রসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। এতে মনোযোগ ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিনিয়ত স্ক্রিনে চোখ রেখে আমরা এক ধরনের “ডোপামিন হ্যাকিং”-এর শিকার হচ্ছি। আমাদের ফোন, অ্যাপ, ভিডিও—সবকিছু এমনভাবে ডিজাইন করা যে আমরা যেন একটার পর একটা দেখি, থামার আগ্রহটাই যেন হারিয়ে ফেলি। জার্মান গবেষক ড. টিমোথি হার্সম্যান এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার সময় ফোন না দেখলেও “ফ্যান্টম নোটিফিকেশন” অনুভব করেন মনে হয়, কিছু একটা মিস হয়ে যাচ্ছে। এই আতঙ্ক আরও বেশি মনোযোগ নষ্ট করে। এর প্রভাব শুধু শিক্ষায় না, কর্মক্ষেত্র, ব্যক্তিজীবন এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও পড়ছে। মানুষ গভীরভাবে চিন্তা করতে পারছে না, লেখালেখি ও পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে, এবং অল্পতেই বিরক্ত বা উদাস হয়ে পড়ছে। তবে আশার কথা, মনোযোগ আবার গড়ে তোলা সম্ভব। তার জন্য দরকার

 

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা,

ডিজিটাল ডিটক্সের অভ্যাস,

নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা,

ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস চর্চা করা,

 

এবং দিনে অন্তত একবার এমন একটি কাজ করা যা গভীর মনোযোগ চায়—যেমন লেখা, বই পড়া বা কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তা করা। ক্যাল নিউপোর্ট, যিনি Deep Work বইয়ের লেখক, তিনি বলেন “মনোযোগ ধরে রাখতে পারা ২১শতকের সবচেয়ে বড় দক্ষতা। যে এটা শিখবে, সে-ই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।” আজকের পৃথিবীতে, যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ কন্টেন্ট আমাদের দিকে ছুড়ে মারা হচ্ছে, সেখানে থেমে দাঁড়িয়ে, একটায় মনোযোগ দেওয়া যেন এক ধরনের বিদ্রোহ। এবং এই বিদ্রোহই হয়তো আমাদের আত্মা ও মননের রক্ষা-দেয়াল হয়ে উঠতে পারে

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

Update Time : ০১:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫

ডেস্ক রিপোর্ট :: দ্রুতগতির এই যুগে সবচেয়ে কম সময় টিকে থাকা জিনিসটির নাম—মনোযোগ। বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজ, নোটিফিকেশন—সবকিছুই যেন আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিতে ব্যস্ত। একে বলে “অ্যাটেনশন ইকোনমি”, যেখানে মানুষের মনোযোগই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে দামি পণ্য। ২০১৫ সালে মাইক্রোসফটের একটি গবেষণায় প্রথম বিশ্বব্যাপী আলোড়ন ওঠে। সেখানে দাবি করা হয়, মানুষের গড় অ্যাটেনশন স্প্যান তখন মাত্র ৮ সেকেন্ডে নেমে এসেছে—একটি গোল্ডফিশের থেকেও কম। যদিও গবেষণাটিকে ঘিরে বিতর্ক আছে, তবে এর মূল বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের মনোযোগের ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দিচ্ছে। এই মনোযোগহীনতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত এত বেশি তথ্য, ছবি ও ভিডিওর মুখোমুখি হচ্ছি যে আমাদের মস্তিষ্ক গভীরভাবে চিন্তা করার বা একটি বিষয়ে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারাচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ক্লিফোর্ড নাস বলেন, “যারা নিয়মিত মাল্টিটাস্ক করে, তারা খুব কমই মনোযোগ দিতে পারে এবং খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়।” এই অবস্থাকে আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন নিউরোসায়েন্টিস্ট ড্যানিয়েল লেভিটিন। তাঁর মতে, প্রতিবার আমরা মনোযোগ সরিয়ে অন্য কিছুর দিকে নেই, তখন আমাদের মস্তিষ্কে রসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। এতে মনোযোগ ফেরানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিনিয়ত স্ক্রিনে চোখ রেখে আমরা এক ধরনের “ডোপামিন হ্যাকিং”-এর শিকার হচ্ছি। আমাদের ফোন, অ্যাপ, ভিডিও—সবকিছু এমনভাবে ডিজাইন করা যে আমরা যেন একটার পর একটা দেখি, থামার আগ্রহটাই যেন হারিয়ে ফেলি। জার্মান গবেষক ড. টিমোথি হার্সম্যান এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষার সময় ফোন না দেখলেও “ফ্যান্টম নোটিফিকেশন” অনুভব করেন মনে হয়, কিছু একটা মিস হয়ে যাচ্ছে। এই আতঙ্ক আরও বেশি মনোযোগ নষ্ট করে। এর প্রভাব শুধু শিক্ষায় না, কর্মক্ষেত্র, ব্যক্তিজীবন এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও পড়ছে। মানুষ গভীরভাবে চিন্তা করতে পারছে না, লেখালেখি ও পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে, এবং অল্পতেই বিরক্ত বা উদাস হয়ে পড়ছে। তবে আশার কথা, মনোযোগ আবার গড়ে তোলা সম্ভব। তার জন্য দরকার

 

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা,

ডিজিটাল ডিটক্সের অভ্যাস,

নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা,

ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস চর্চা করা,

 

এবং দিনে অন্তত একবার এমন একটি কাজ করা যা গভীর মনোযোগ চায়—যেমন লেখা, বই পড়া বা কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তা করা। ক্যাল নিউপোর্ট, যিনি Deep Work বইয়ের লেখক, তিনি বলেন “মনোযোগ ধরে রাখতে পারা ২১শতকের সবচেয়ে বড় দক্ষতা। যে এটা শিখবে, সে-ই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।” আজকের পৃথিবীতে, যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ কন্টেন্ট আমাদের দিকে ছুড়ে মারা হচ্ছে, সেখানে থেমে দাঁড়িয়ে, একটায় মনোযোগ দেওয়া যেন এক ধরনের বিদ্রোহ। এবং এই বিদ্রোহই হয়তো আমাদের আত্মা ও মননের রক্ষা-দেয়াল হয়ে উঠতে পারে

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ