ছাতকে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বীজতলা, বুনা আমনসহ পানির নিচে দু’শতাধিক প্রতিষ্টান
- Update Time : ০২:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ আগস্ট ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
চান মিয়া, ছাতক থেকে :: সুনামগঞ্জের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিম্মাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। উপজেলার নিম্মাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শহর ভিত্তিক ছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পানিবন্দি অবস্থায় নির্ধারিত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র খোলার খবর এখনও পাওয়া যায়নি। ৭-৮দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের অধকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। গ্রামীন রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া ছাতক সদর, কালারুকা, চরমহল্লা, দোলারবাজার, ভাতগাঁও, উত্তর খুরমা, দক্ষিন খুরমা, সিংচাপইড়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নসহ পৌরসভার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার, চেলা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় নৌপথে ছোট-ছোট ফেরী নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দু’য়েক দিনের মধ্যেই ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ারও আশংকা রয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় শতাধিক হেক্টর রোপনকৃত আমন জমি ও বীজতলা। কয়েকটি ষ্টোন ক্রাসার মিল, পোল্ট্রি ফার্ম ও মৎস্য খামারে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। শাক-সবজির বাগানেও পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে কৃষকদের। ইসলামপুর ইউনিয়নের রতনপুর-মনিপুরীবস্তির বেড়িবাধ ভেঙ্গে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীপাড় সংলগ্ন ছনবাড়ি-রতনপুর সড়ক, ছনবাড়ি-গাংপাড়-নোয়াকোট সড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম। জামুরা, চানপুর, নোয়াগাঁও, ভাসখলা, করচা, গোয়ালগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝুকি নিয়ে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিচ্ছে। বৈশাকান্দি এফআইভিডিবি স্কুল, নোয়ারাই ইউনিয়নের চরভাড়া মাদ্রাসা, লামাপাড়া ব্র্যাক স্কুলে বন্্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের রতনপুর, নিজগাঁও, গাংপাড়, নোয়াকোট, বৈশাকান্দি,বাহাদুরপুর, ছৈদাবাদ, রহমতপুর, দারোগাখালী, পৌরসভার হাসপাতাল রোড, শাহজালাল আবাসিক এলাকা, শ্যামপাড়া, মোগলপাড়া তাতিকোনা, বৌলা, লেবারপাড়া নোয়ারাই ইউনিয়নের বারকাহন, বাতিরকান্দি, চরভাড়া, কাড়–লগাঁও, লক্ষীভাউর, চানপুর, মানিকপুর,গোদাবাড়ী, কচুদাইড়, রংপুর, ছাতক সদর ইউনিয়নের বড়বাড়ী, আন্ধারীগাঁও, মাছুখালী, তিররাই, মুক্তিরগাও, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আমেরতল, ঘাটপার, গদালমহল, রুক্কা, ছোটবিহাই, এলঙ্গি, রসুলপুর, শৌলা, চরমহল্লা ইউনিয়নের ভল্লবপুর, চুনারুচর, চরচৌলাই, হাসারুচর, প্রথমাচর, সিদ্ধারচর, চরভাড়ুকা দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হরিশরণ, হাতধনালী, রাউতপুর, ধনপুর, চৌকা, রামচন্দ্রপুর, হলদিউরা কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর, মালিপুর, দিঘলবন, আরতানপুর, রংপুর, মুক্তিরগাও, ভাতগাঁও ইউনিয়নের জালিয়া, ঘাঘলাজুর, হায়দরপুর, বাদে ঝিগলী, সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর, মহদী, গোবিন্দগঞ্জ পুরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিত শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দাস জানান, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় পানি প্রবেশ করেছে। প্রকৃতির এ বৈরী পরিবেশও নিয়মিত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক জানান, বন্যার পানিতে এখন পর্যন্ত রোপনকৃত আমন জমি ৫৬ হেক্টর ও ২৫ বীজতলা তলিয়ে গেছে।




























