০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জ- ৩ আসনে অবশেষে শাহীনূর পাশা চৌধুরী আলোচনায়

  • Update Time : ১১:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৪
  • / ১১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব মিয়া :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জ) আসনে রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ চলবে। সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবার মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন। ভোটের মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপি ও তৃণমুল বিএনপি মনোনীত সোনালী আঁশ’র প্রার্থী জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীর ভোট যুদ্ধে লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানান।

 

সংসদ নির্বাচনে আসনটি উদ্ধার করতে জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ভোটের মাঠে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জমিয়তের নেতাকর্মীরা জানান। এবার নির্বাচনে পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপির সাথে তিনি চমক দেখাতে পারেন বলে জমিয়তের একাধিক নেতা কর্মীরা জানান।

 

জমিয়তের একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, শেষ মুহুর্তে জমিয়তের নেতাকর্মীরা এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তিনি একজন বিজ্ঞ আলেম, আইনজীবি ও আলেম সমাজের সাবেক এমপি হিসেবে অবশেষে দলের বিজ্ঞ আলেম সমাজের নির্দেশে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের নেতাকর্মীরা পাশা চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশ নিচ্ছেন। জমিয়ত নেতারা আরো জানান, পাশা চৌধুরীর পক্ষে বিএনপির অনেক লোক কাজ করছেন গোপনে।

 

জমিয়তের নেতাকর্মীরা আরো জানান, জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকে ভোটের মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি শাহীনূর পাশা চৌধুরীর নিজস্ব বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে তারা জানান।

 

সব মিলিয়ে মাঠের একজন পরিক্ষিত নেতা পাশা চৌধুরীকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তিনি  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে নির্বাচনী এক সভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে দেশে বিদেশে আলোচনায় এসেছেন তিনি। জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী জানান, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জ) আসনে সোনালী আঁশ প্রতিকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বঞ্চিত মানুষ সোনালী আঁশ প্রতিকের বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতে চায়। আমি শতভাগ আশাবাদী নির্বাচন সুষ্টু হলে সোনালী আঁশ প্রতিকের বিজয় নিশ্চিত। তিনি বলেন, আমি উন্নয়নে বিশ্বাসী। উন্নয়নে মানুষের মুখে হাসি ফুটানো আমার কাজ। জয়ী হলে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের মানুষের ভোটে আমি বিগত দিনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অল্প দিনে যা যা উন্নয়ন করেছি আজো নবীন ও প্রবীন ভোটারদের কাছে শাহীনূর পাশা চৌধুরী একটি উন্নয়নের নাম বলে তিনি জানান।

এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী ১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কুতবে বাঙ্গাল আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.), খলীফায়ে মাদানী হযরত মাওলানা আব্দুল হক শায়েখে গাজীনগরী ( রহ.) শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হান্নান শায়খে পাগলার নির্দেশে তিনি প্রার্থী হন। এর পর থেকে শুরু হয় এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর জাতীয় রাজনীতিতে পদচারনা।

 

১৯৯৬ সালে নির্বাচনে নৌকা, লাঙ্গল ও ধানের শীষের সাথে খেজুর গাছ প্রতিক নিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০১ সালে সুনামগঞ্জ -৩ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী মনোনীত করা হয়। সে সময় আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়। চারদলীয়  জোটের স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে এডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী জনগনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

 

২০০৫ সালের উপ- নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। বিজয়ী হওয়ার পর এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর ১ বছর ৩ মাস ৫ দিনে
পাগলা -আউশকান্দি রাস্তায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আসেন।

 

জগন্নাথপুর -বেগমপুর ভায়া শিবগঞ্জ কাতিয়া রোডে ২৫ কোটি টাকার কাজ সম্পাদন, মোকামের ঢালা ব্রিজ সহ ৩টি ব্রিজ সম্পন্ন।
নোয়াখালী -ভিমখালি রাস্তায় প্রায় ২২ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন। মদনপুর-দিরাই রাস্তায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ। ২০০৬ সালের ৬ জুন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৮ টি ইউনিয়নের জনগণের সুদীর্ঘ ৪০ বছরের স্বপ্নকে বাস্তবতার চোখ দেখিয়ে উন্নয়নের বীজ বপন করে যান। উভয় থানায় কোন ডিগ্রী কলেজ ছিলো না, সাংসদ শাহীনূর পাশা

 

জগন্নাথপুর কলেজকে ডিগ্রী কলেজে উন্নীত করেন।   সফাত উল্ল্যা,  পাটলী,  আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়,  পূর্ব পাগলা সপ্তগ্রাম জিবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয় সহ মোট ১০ টি হাইস্কুলে দ্বি- তলা ভবন নির্মাণ। এল.জি.ই.ডির সিলেট বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায়ের আওতায় বমবমি বাংলা বাজার রোডে ২টি ব্রিজ।   আস্তমা নাইন্দা নদী শ্যামারগাও বিবিয়ানা নদীর উপর আরো ২ টি ব্রীজ অগ্রাধিকার প্রকল্পের নির্মাণ।

 

জগন্নাথপুর হাসপাতালকে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সৈয়দপুর- শাহারপাড়া ইউনিয়ন, শিমুলবাক ইউনিয়ন সহ ৭টি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ। নির্বাচনী এলাকার ধনপুর, সর্দারপুর, সলফ, ধরমপুর বগলাখাড়া, কামিনীপুরসহ ৯টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন। কাতিয়া, আলৈতলি, কলকলিয়া ইউপির নিম্নাঞ্চল,

 

পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ৩টি এবং দরগা পাশা ইউনিয়নের কাবলা খাই সহ মোট ২৩ টি গ্রামে বিদ্যুতায়নের অনুমতি আনতে সক্ষম হলেও সময় স্বল্পতার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। ২টি উপজেলার ৫২টি প্রাইমারি স্কুলে ফ্লাড সেন্টার (দ্বিতল ভবন) নির্মাণ। এল. জি. আর ডি  তত্ত্বাবধানে জগন্নাথপুর- রসুলগঞ্জ ভায়া  পনাউল্লাহ রাস্তা, জগন্নাথপুর- চিলাউড়া, কলকলি -তেলিকোনা,  কবিরপুর- ভূরাখালি, মিরপুর -রসুলগঞ্জ, বাউরকাপন- রসূলগঞ্জ,  নয়াবন্দর- পাটকুরা, আমড়াতৈল- নয়াবন্দর ভায়া ছিরামশী সহ দু উপজেলায় প্রায় ৬৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণের উদ্যোগ।

 

৫টি উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংস্কার ও উন্নয়ন। ২৪ ফুট প্রশস্ত ৩টি দৃষ্টিনন্দন আমরিয়া- পাশাগঞ্জ বাজার রাস্তা, কামরূপদলং- কান্দিগাও রাস্তা,  পূর্ব  কাতিয়া রাস্তার মোট বরাদ্দ ২৭ লক্ষ টাকা। ১৯ টি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ। জগন্নাথপুর বাজারে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও ফায়ার সার্ভিসের টেন্ডার। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র মেরামত।

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যাত্তোর মেরামত,  দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ধিত ভবন মেরামত। জগন্নাথপুরের ৪৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যাত্তোর মেরামত। জগন্নাথপুরের ২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ধিত ভবন নির্মাণ।

 

জগন্নাথপুরের ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন মেরামত। আমরিয়া মাদ্রাসা ও কামরাখাই জয়নগর মাদ্রাসায় ফেসিলিটিজ বিভাগ থেকে ২টি ভবন নির্মাণ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকান্দি আটপাড়া দাখিল মাদ্রাসার বিল্ডিং নির্মাণ।

 

চিকারকান্দি- পুটিয়া নদীতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ব্রিজ নির্মাণের যাবতীয় ব্যবস্থা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রহণ। কম্পিউটার, সেলাই মেশিন, গভীর নলকূপ, ঢেউটিন ছাড়াও ঝুকিহ্রাস  প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত পরিবারকে স্বচ্ছলতা আনায়নে কর্মসূচি গ্রহণ। এছাড়াও কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে নির্বাচনী এলাকার ৫২৪ টি গ্রামের মধ্যে ৫৯১ টি প্রকল্পে ২৭০ টি গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান উন্নয়ন বাবত প্রায় ৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়।

এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের পাটলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।  তিনির পিতা  বিশিষ্ট  সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী মাস্টার আব্দুস সাত্তার চৌধুরী। মাতা স্কুল শিক্ষিকা আবজুন নেছা চৌধুরী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জ- ৩ আসনে অবশেষে শাহীনূর পাশা চৌধুরী আলোচনায়

Update Time : ১১:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৪

ইয়াকুব মিয়া :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জ) আসনে রোববার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ চলবে। সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবার মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন। ভোটের মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপি ও তৃণমুল বিএনপি মনোনীত সোনালী আঁশ’র প্রার্থী জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীর ভোট যুদ্ধে লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানান।

 

সংসদ নির্বাচনে আসনটি উদ্ধার করতে জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ভোটের মাঠে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জমিয়তের নেতাকর্মীরা জানান। এবার নির্বাচনে পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান এমপির সাথে তিনি চমক দেখাতে পারেন বলে জমিয়তের একাধিক নেতা কর্মীরা জানান।

 

জমিয়তের একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, শেষ মুহুর্তে জমিয়তের নেতাকর্মীরা এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করেছেন। তিনি একজন বিজ্ঞ আলেম, আইনজীবি ও আলেম সমাজের সাবেক এমপি হিসেবে অবশেষে দলের বিজ্ঞ আলেম সমাজের নির্দেশে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের নেতাকর্মীরা পাশা চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশ নিচ্ছেন। জমিয়ত নেতারা আরো জানান, পাশা চৌধুরীর পক্ষে বিএনপির অনেক লোক কাজ করছেন গোপনে।

 

জমিয়তের নেতাকর্মীরা আরো জানান, জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী ১৯৯৬ সাল থেকে ভোটের মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তি শাহীনূর পাশা চৌধুরীর নিজস্ব বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে তারা জানান।

 

সব মিলিয়ে মাঠের একজন পরিক্ষিত নেতা পাশা চৌধুরীকে নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তিনি  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে নির্বাচনী এক সভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে দেশে বিদেশে আলোচনায় এসেছেন তিনি। জমিয়তের সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী জানান, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর- শান্তিগঞ্জ) আসনে সোনালী আঁশ প্রতিকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বঞ্চিত মানুষ সোনালী আঁশ প্রতিকের বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতে চায়। আমি শতভাগ আশাবাদী নির্বাচন সুষ্টু হলে সোনালী আঁশ প্রতিকের বিজয় নিশ্চিত। তিনি বলেন, আমি উন্নয়নে বিশ্বাসী। উন্নয়নে মানুষের মুখে হাসি ফুটানো আমার কাজ। জয়ী হলে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের মানুষের ভোটে আমি বিগত দিনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে অল্প দিনে যা যা উন্নয়ন করেছি আজো নবীন ও প্রবীন ভোটারদের কাছে শাহীনূর পাশা চৌধুরী একটি উন্নয়নের নাম বলে তিনি জানান।

এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী ১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কুতবে বাঙ্গাল আল্লামা আমিন উদ্দীন শায়খে কাতিয়া (রহ.), খলীফায়ে মাদানী হযরত মাওলানা আব্দুল হক শায়েখে গাজীনগরী ( রহ.) শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হান্নান শায়খে পাগলার নির্দেশে তিনি প্রার্থী হন। এর পর থেকে শুরু হয় এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর জাতীয় রাজনীতিতে পদচারনা।

 

১৯৯৬ সালে নির্বাচনে নৌকা, লাঙ্গল ও ধানের শীষের সাথে খেজুর গাছ প্রতিক নিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০১ সালে সুনামগঞ্জ -৩ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী মনোনীত করা হয়। সে সময় আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়। চারদলীয়  জোটের স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে এডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী জনগনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

 

২০০৫ সালের উপ- নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। বিজয়ী হওয়ার পর এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরীর ১ বছর ৩ মাস ৫ দিনে
পাগলা -আউশকান্দি রাস্তায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আসেন।

 

জগন্নাথপুর -বেগমপুর ভায়া শিবগঞ্জ কাতিয়া রোডে ২৫ কোটি টাকার কাজ সম্পাদন, মোকামের ঢালা ব্রিজ সহ ৩টি ব্রিজ সম্পন্ন।
নোয়াখালী -ভিমখালি রাস্তায় প্রায় ২২ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন। মদনপুর-দিরাই রাস্তায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ। ২০০৬ সালের ৬ জুন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৮ টি ইউনিয়নের জনগণের সুদীর্ঘ ৪০ বছরের স্বপ্নকে বাস্তবতার চোখ দেখিয়ে উন্নয়নের বীজ বপন করে যান। উভয় থানায় কোন ডিগ্রী কলেজ ছিলো না, সাংসদ শাহীনূর পাশা

 

জগন্নাথপুর কলেজকে ডিগ্রী কলেজে উন্নীত করেন।   সফাত উল্ল্যা,  পাটলী,  আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়,  পূর্ব পাগলা সপ্তগ্রাম জিবদাড়া উচ্চ বিদ্যালয় সহ মোট ১০ টি হাইস্কুলে দ্বি- তলা ভবন নির্মাণ। এল.জি.ই.ডির সিলেট বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায়ের আওতায় বমবমি বাংলা বাজার রোডে ২টি ব্রিজ।   আস্তমা নাইন্দা নদী শ্যামারগাও বিবিয়ানা নদীর উপর আরো ২ টি ব্রীজ অগ্রাধিকার প্রকল্পের নির্মাণ।

 

জগন্নাথপুর হাসপাতালকে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী পদক্ষেপে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সৈয়দপুর- শাহারপাড়া ইউনিয়ন, শিমুলবাক ইউনিয়ন সহ ৭টি ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ। নির্বাচনী এলাকার ধনপুর, সর্দারপুর, সলফ, ধরমপুর বগলাখাড়া, কামিনীপুরসহ ৯টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন। কাতিয়া, আলৈতলি, কলকলিয়া ইউপির নিম্নাঞ্চল,

 

পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ৩টি এবং দরগা পাশা ইউনিয়নের কাবলা খাই সহ মোট ২৩ টি গ্রামে বিদ্যুতায়নের অনুমতি আনতে সক্ষম হলেও সময় স্বল্পতার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। ২টি উপজেলার ৫২টি প্রাইমারি স্কুলে ফ্লাড সেন্টার (দ্বিতল ভবন) নির্মাণ। এল. জি. আর ডি  তত্ত্বাবধানে জগন্নাথপুর- রসুলগঞ্জ ভায়া  পনাউল্লাহ রাস্তা, জগন্নাথপুর- চিলাউড়া, কলকলি -তেলিকোনা,  কবিরপুর- ভূরাখালি, মিরপুর -রসুলগঞ্জ, বাউরকাপন- রসূলগঞ্জ,  নয়াবন্দর- পাটকুরা, আমড়াতৈল- নয়াবন্দর ভায়া ছিরামশী সহ দু উপজেলায় প্রায় ৬৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণের উদ্যোগ।

 

৫টি উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংস্কার ও উন্নয়ন। ২৪ ফুট প্রশস্ত ৩টি দৃষ্টিনন্দন আমরিয়া- পাশাগঞ্জ বাজার রাস্তা, কামরূপদলং- কান্দিগাও রাস্তা,  পূর্ব  কাতিয়া রাস্তার মোট বরাদ্দ ২৭ লক্ষ টাকা। ১৯ টি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ। জগন্নাথপুর বাজারে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন ও ফায়ার সার্ভিসের টেন্ডার। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র মেরামত।

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যাত্তোর মেরামত,  দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ২৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ধিত ভবন মেরামত। জগন্নাথপুরের ৪৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যাত্তোর মেরামত। জগন্নাথপুরের ২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ধিত ভবন নির্মাণ।

 

জগন্নাথপুরের ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন মেরামত। আমরিয়া মাদ্রাসা ও কামরাখাই জয়নগর মাদ্রাসায় ফেসিলিটিজ বিভাগ থেকে ২টি ভবন নির্মাণ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকান্দি আটপাড়া দাখিল মাদ্রাসার বিল্ডিং নির্মাণ।

 

চিকারকান্দি- পুটিয়া নদীতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ব্রিজ নির্মাণের যাবতীয় ব্যবস্থা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রহণ। কম্পিউটার, সেলাই মেশিন, গভীর নলকূপ, ঢেউটিন ছাড়াও ঝুকিহ্রাস  প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত পরিবারকে স্বচ্ছলতা আনায়নে কর্মসূচি গ্রহণ। এছাড়াও কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে নির্বাচনী এলাকার ৫২৪ টি গ্রামের মধ্যে ৫৯১ টি প্রকল্পে ২৭০ টি গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশান উন্নয়ন বাবত প্রায় ৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়।

এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের পাটলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।  তিনির পিতা  বিশিষ্ট  সমাজসেবক শিক্ষানুরাগী মাস্টার আব্দুস সাত্তার চৌধুরী। মাতা স্কুল শিক্ষিকা আবজুন নেছা চৌধুরী।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ