ছাতকে আ.লীগের দু’চেয়ারম্যানের হাতা-হাতি
- Update Time : ০১:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
চান মিয়া, ছাতক থেকে :: সুনামগঞ্জের ছাতকে আওয়ামীলীগ সমর্থিত দু’ ইউপি চেয়ারম্যানের হাতা-হাতির ঘটনায় উপজেলা চত্ত্বরসহ পৌরশহর ও গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ১০আগষ্ট বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্তরে আওয়ামীলীগের বিবদমান দু’গ্র“পের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল ও বিল্লাল আহমদের মধ্যে এ হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিংচাপইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মো. সাহেল ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল¬াল আহমদের মধ্যে রাজনৈতিক গ্র“পিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও দু’ চেয়ারম্যানের মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি ও হাতা-হাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ১০আগষ্ট উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা শেষে উপজেলা পলিষদ চত্ত্বরে চেয়ারম্যান বিল¬াল আহমদ ও সাহাব উদ্দিন সাহেলের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটলে উভয় চেয়ারম্যানের সমর্থকরাও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের মধ্যে সাহেল চেয়ারম্যানের পক্ষে মেয়র গ্র“পের সমর্থকরা উপজেলা চত্ত্বরে অবস্থান নিলে গোটা প্রশাসনিক এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। নিজেদের আত্মরক্ষায় বিল¬াল আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বাবুল রায়সহ তাদের পক্ষের ক’জন নেতা প্রশাসনিক ভবনে আশ্রয় নেয়। এ সময় গোটা উপজেলা চত্ত্বরে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও ভয়ে তাদের স্ব-স্ব কক্ষের দরজা বন্ধ করে নিজেদের নিরাপদে রাখার চেষ্ঠা করেন। পরিস্থিতর ক্রমেই অবনতি ঘটতে থাকলে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। এদিকে চেয়ারম্যান বিল¬াল আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বাবুল রায়সহ নেতারা অবরুদ্ধ হওয়ার খবরে এমপি মুহিবুর রহমান মানিক সমর্থকরা গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অপরদিকে মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী সমর্থকরা উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে শহরের কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান সাহেলের উপর হামলার প্রতিবাদ করেছে। এসময় তাহিরপ্লাজা এলাকায় এমপি সমর্থক জিবরান রহমান নামের এক কলেজ ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আহত অবস্থায় ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জিবরান আহত হওয়ার ঘটনায় মেয়র গ্র“পকে দায়ি করা হয়েছে। অপর দিকে প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ প্রহরায় চেয়ারম্যান বিল¬াল আহমদসহ অন্যান্যদেরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। বিল¬াল আহমদ, বাবুল রায় গোবিন্দগঞ্জ পৌছলে এমপি সমর্থকরা ওসি আতিকুর রহমানের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয়। সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। উত্তপ্ত অবস্থার কারনে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা জোড়ে এমপি মানিক ও মেয়র কালাম চৌধুরী সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে টান-টান উত্তেজনা। এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন সাহেল জানান, সমন্বয় কমিটির সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিলাল চেয়ারম্যনের নেতৃত্বে বাবুল রায়সহ ক’জন লোক সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করেছে। তিনি এর সুষ্ট বিচার দাবি করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ জানান, উপজেলা পরিষদে এসে সব সময়ই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালায় সাহেল চেয়ারম্যান। তার এহেন কার্যকলাপে ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদের ১২জন কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্তরে সাহেল চেয়ারম্যান সহ লোকজন তার উপর আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সময় উপজেলা পরিষদে অবস্থান করা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন জানান, মাসিক সমন্বয় সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটেছে। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ও প্রশাসনিক এলাকায় এমন অপ্রীতিকর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল¬াহ খান জানান, মাসিক সমন্বয় সভা শেষে প্রায় আধঘন্টা পর পরিষদ চত্ত্বরের বাইরে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘঠেছে। যা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে নিয়ন্ত্রন করে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃজনক উল্লেখ করে জানান, উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। স্থানীয় এমপি এসব বিষয়ে কোন গুরুত্ব দেননি। ভুক্তভোগিরা এমপির কাছে বিচার প্রার্থী হয়েও কোন ফল পায়নি। যে কারনে এমন ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।


























