০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে সাবেক হুইপ আছপিয়া স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

  • Update Time : ১২:০০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জে সাবেক হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে শহরের কাজির পয়েন্ট আবাসিক এলাকাধীন মরহুম ফজলুল হক আছপিয়ার বাসভবনে তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার মো.আবিদুল হক এর উদ্যোগে উক্ত ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করা হয়। এতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিচালনা করা হয় বিশেষ মুনাজাত। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট তৈয়বুর রহমান বাবুল, বিএনপি নেতা নাদির আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আকবর আলী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন আহমদ,জেলা যুবদল সভাপতি আবুল মনসুর শওকত, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ কয়েছসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাহফিলে অংশগ্রহন করেন।

উল্লেখ্য এডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া ১৯৩৭ইং সনের ১১ নভেম্বর সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাজীরপয়েন্ট আবাসিক এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম আনোয়ার মিয়া। তিনি ১৯৫৬-৫৭ইং সনে সুনামগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস এর দায়িত্ব পালন করেন। ঐ প্যানেলের জিএস ছিলেন বাবু হরিদাস গুহ। অল পাকিস্তান ছাত্রশক্তির সভাপতি মনোনিত হন। তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা শিল্পকলা একাডেমি, ক্রীড়া সংস্থা, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুর পর্ব পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও এর পূর্বে জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুনামগঞ্জ ৪ আসনে ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। জাতীয় সংসদের হুইপ এবং জেলার মিনিস্টার ইনচার্জ হিসেবে সুনামগঞ্জে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলস শ্রম সাধনা অব্যাহত রাখেন। এডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া ২০২১ ইং সনের ১৫ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীস্থ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ফজলুল হক আছপিয়া একজন ভাষা সৈনিক। ১৯৫২ সালে ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের স্থানীয় ছাত্র আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জীবদ্ধশায় একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন,ঢাকা থেকে তমদ্দুন মজলিশের নামে পত্র প্রেরণ করেন ড.আখলাকুর রহমান। সুনামগঞ্জে সাংবাদিক ছাত্রনেতা আব্দুল হাই সাহেবের কাছে উক্ত পত্র পৌছে। তখন থেকেই শুরু হয় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদের মিছিলে গুলি হলে সারা বাংলার বুকে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ছাত্র জনতার ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের বিস্ফোরন ঘটে ভিলেজ টাউন সুনামগঞ্জেও। ভাইবোনরা সকালে পড়তে বসলে বাবা এসে ছাত্রদের মিছিলে গুলি ও হতাহতের কথা বললে ক্ষোভে অস্থিরভাবে পায়চারী করেন সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফজলুল হক আছপিয়া। পরদিন স্কুলে এসে সেই ক্ষোভ অন্য ছাত্রদের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেন। ক্লাস বন্ধ রেখে বেরিয়ে পড়েন মিছিলে। ছাত্রদের মিছিলে শান্ত হয়ে উঠে সুনামগঞ্জ। মিছিলে শ্লোগানের পাশাপাশি জাগরনের গান গেয়ে বেড়াতেন তারা। পরবর্তীতে মিছিল,গান আর পোস্টার লাগানোর টানেই স্কুলে আসতেন তারা। ভাষা আন্দোলনের মিছিল সভাকে কেন্দ্র করে তার স্কুলে আসা নেশায় পরিণত হয়েছিল। আফসিয়া জানান,ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রæয়ারি সকালে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে দেখেন কলেজ ছাত্রনেতা আব্দুল হাই,আব্দুল হক লাট মিয়া ও মীর্জা রফিকসহ সিনিয়র ছাত্র নেতারা সাধারন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন। আব্দুল হাই এর বক্তব্য শুনে উত্তেজিত ছাত্ররা ক্লাস ফেলে মিছিলে বেরিয়ে পড়ে। মিছিলের সংবাদ পেয়ে তৎকালীন সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থান নেন তৎকালীন এসডিও বিআর নিজাম। তবে তিনি ছাত্রদের বাধা না দিলেও বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাকে ঘেরাও করে মিছিল দিতে দিতে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। তৎকালীন এসডিও মুসলিম উদ্দিনের ছেলে হাসান উদ্দিন ও ফজলুল হক আছপিয়া বিআর নিজামকে জড়িয়ে কোমরে ধরে শ্লোগান দিতে থাকে। দুই কিশোরের প্রতিবাদের ধরন দেখে অবাক হয়ে যান বিআর নিজাম। তিনি কৌশলে চাপরাশি নিয়ে সটকে পড়েন। তখন ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরে ফিরে আসে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে সাবেক হুইপ আছপিয়া স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

Update Time : ১২:০০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০২৩

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জে সাবেক হুইপ এডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়া স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে শহরের কাজির পয়েন্ট আবাসিক এলাকাধীন মরহুম ফজলুল হক আছপিয়ার বাসভবনে তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার মো.আবিদুল হক এর উদ্যোগে উক্ত ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করা হয়। এতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিচালনা করা হয় বিশেষ মুনাজাত। জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট তৈয়বুর রহমান বাবুল, বিএনপি নেতা নাদির আহমদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আকবর আলী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন আহমদ,জেলা যুবদল সভাপতি আবুল মনসুর শওকত, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশীদ কয়েছসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাহফিলে অংশগ্রহন করেন।

উল্লেখ্য এডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া ১৯৩৭ইং সনের ১১ নভেম্বর সুনামগঞ্জ পৌরসভার কাজীরপয়েন্ট আবাসিক এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম আনোয়ার মিয়া। তিনি ১৯৫৬-৫৭ইং সনে সুনামগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস এর দায়িত্ব পালন করেন। ঐ প্যানেলের জিএস ছিলেন বাবু হরিদাস গুহ। অল পাকিস্তান ছাত্রশক্তির সভাপতি মনোনিত হন। তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা শিল্পকলা একাডেমি, ক্রীড়া সংস্থা, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুর পর্ব পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও এর পূর্বে জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুনামগঞ্জ ৪ আসনে ৩ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ছিলেন। জাতীয় সংসদের হুইপ এবং জেলার মিনিস্টার ইনচার্জ হিসেবে সুনামগঞ্জে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলস শ্রম সাধনা অব্যাহত রাখেন। এডভোকেট ফজলুল হক আসপিয়া ২০২১ ইং সনের ১৫ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীস্থ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ফজলুল হক আছপিয়া একজন ভাষা সৈনিক। ১৯৫২ সালে ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের স্থানীয় ছাত্র আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জীবদ্ধশায় একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন,ঢাকা থেকে তমদ্দুন মজলিশের নামে পত্র প্রেরণ করেন ড.আখলাকুর রহমান। সুনামগঞ্জে সাংবাদিক ছাত্রনেতা আব্দুল হাই সাহেবের কাছে উক্ত পত্র পৌছে। তখন থেকেই শুরু হয় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদের মিছিলে গুলি হলে সারা বাংলার বুকে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠে। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ছাত্র জনতার ক্ষোভ। সেই ক্ষোভের বিস্ফোরন ঘটে ভিলেজ টাউন সুনামগঞ্জেও। ভাইবোনরা সকালে পড়তে বসলে বাবা এসে ছাত্রদের মিছিলে গুলি ও হতাহতের কথা বললে ক্ষোভে অস্থিরভাবে পায়চারী করেন সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফজলুল হক আছপিয়া। পরদিন স্কুলে এসে সেই ক্ষোভ অন্য ছাত্রদের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করেন। ক্লাস বন্ধ রেখে বেরিয়ে পড়েন মিছিলে। ছাত্রদের মিছিলে শান্ত হয়ে উঠে সুনামগঞ্জ। মিছিলে শ্লোগানের পাশাপাশি জাগরনের গান গেয়ে বেড়াতেন তারা। পরবর্তীতে মিছিল,গান আর পোস্টার লাগানোর টানেই স্কুলে আসতেন তারা। ভাষা আন্দোলনের মিছিল সভাকে কেন্দ্র করে তার স্কুলে আসা নেশায় পরিণত হয়েছিল। আফসিয়া জানান,ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রæয়ারি সকালে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে দেখেন কলেজ ছাত্রনেতা আব্দুল হাই,আব্দুল হক লাট মিয়া ও মীর্জা রফিকসহ সিনিয়র ছাত্র নেতারা সাধারন ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন। আব্দুল হাই এর বক্তব্য শুনে উত্তেজিত ছাত্ররা ক্লাস ফেলে মিছিলে বেরিয়ে পড়ে। মিছিলের সংবাদ পেয়ে তৎকালীন সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থান নেন তৎকালীন এসডিও বিআর নিজাম। তবে তিনি ছাত্রদের বাধা না দিলেও বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাকে ঘেরাও করে মিছিল দিতে দিতে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। তৎকালীন এসডিও মুসলিম উদ্দিনের ছেলে হাসান উদ্দিন ও ফজলুল হক আছপিয়া বিআর নিজামকে জড়িয়ে কোমরে ধরে শ্লোগান দিতে থাকে। দুই কিশোরের প্রতিবাদের ধরন দেখে অবাক হয়ে যান বিআর নিজাম। তিনি কৌশলে চাপরাশি নিয়ে সটকে পড়েন। তখন ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরে ফিরে আসে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ