ছাতকে সার সংকটের কারণে হতাশ কৃষকরা
- Update Time : ০৯:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে রোপাআমন ও শীতকালিন সবজি মৌসুমে তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। ইউরিয়া,নন ইউরিয়া সারের জন্য কৃষকরা প্রতিদিন দোকানে-দোকানে ধর্ণা দিচ্ছেন।
কোন- কোন স্থানে সার পাওয়া গেলে ও সারের মুল্য অধিক থাকায় সার কিনতে পারছেন না কৃষকরা।এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, চাহিদার বিপরীতে সারের বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। সার ডিলার আশরাফুর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন,সারের জন্য টাকা জমা দিয়ে ও সার পাওয়া যাচ্ছেনা। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ি সার ডেলিভারি দিচ্ছেনা।
সার ডিলার উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ ট্রেডিং কর্পোরেশন সারের চাহিদা দিয়ে কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি আবেদন করেছেন। তিনি সেপ্টেম্বর “২২ মাসের বরাদ্দ পেয়েছেন ২০ মেট্রিক টন সার। বর্তমানে তার গুদামে কোন সার মজুদ নেই। আগষ্টের বরাদ্দ ছিলো ৩৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া,২০ মেট্রিক টন এম ও পি এবং ১৫ মেট্রিক টন টিএসপি সার। বরাদ্দের এ সার বাড়তি গাড়ি ভাড়া, ট্রাক ধর্মঘট এসব কারণে নির্ধারিত সময়ে আনা যায় নি। বিভিন্ন উপজেলায় আগষ্টের বরাদ্দের ৬২০ মেট্রিক টন সার ডেলিভারি দিতে পারেনি শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি।
এ দিকে ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি বরাবরে সার বরাদ্দের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি পত্র দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাতকে কৃষির ব্যাপক সম্ভাবনা বিরাজমান। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ধান সহ রবিশষ্য উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এখানে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৯ শ ৫৫ হেক্টর জমিতে,যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ২৪৫ হেক্টর বেশি।
শীতকালিন শাক-সবজি চাষ হয়েছে ১ হাজার ৫ শ হেক্টর জমিতে। বোরো ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই তুলনা মুলকভাবে এখানে সারের বরাদ্দ কম রয়েছে। আগষ্টে ৯৭ মেট্রিক টন সার শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড হতে সরবরাহ না দেয়ায় বর্তমানে ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি অতিরিক্ত ১৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ৩৮০ মেট্রিক টন নন ইউরিয়া সারের জন্য আবেদন করেছেন।
অপরদিকে আগষ্ট মাসের বরাদ্দের ৫৯২ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের মধ্যে ৪৯৫ মেট্রিক টন সার উত্তোলিত হয়েছে। বাকি ৯৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার গোবিন্দগঞ্জ ট্রেডিং, চাষী ট্রেডার্স ও ছামি এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের সুপারিশ করে একই দিনে পত্র দিয়েছেন শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।
ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান সার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখত ভাবে জানানো হয়েছে। সমস্যার এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে।


























