১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসমিল্লাহ’র তাৎপর্য

  • Update Time : ০১:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০২২
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মওঃ ওয়াহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ:

 

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অর্থ পরম করুণাময় অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এই বাক্যটি কুরআনে ১১৪ বার এসেছে, এবং একমাত্র সুরা তওবা ছাড়া প্রত্যেক সুরা শুরু হয়েছে এই বাক্যের মাধ্যমে। এক সুরায় কম থাকলেও সুরা নামলে দুইবার বিসমিল্লাহ এসে ১১৪’র সংখ্যা পূর্ণ করে দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক পুনরুক্তির নিশ্চয় আলাদা তাৎপর্য আছে।

বান্দার জন্য কাজ শুরু করার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো আল্লাহর নামে শুরু করা, যিনি দয়া ও অনুগ্রহের ভাণ্ডার, এবং যার রহমত সবসময় উপচে পড়ে। আল্লাহর নামে শুরু করার অর্থ এই দোয়া করা যে আপনার অসীম দয়া থেকে আমাকে কিছু দান করে সহায়তা করুন, আমার কাজটা সহিসালামতে পূর্ণ করে দিন।

 

এই দোয়া বান্দার তরফ থেকে তার বন্দেগির অংশ, একই সাথে সফলতার জন্য আল্লাহ তাআলাকে জামিন মানা।

 

কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—মুমিনের অন্তরে যেন সঠিক অনুভূতি জন্মায় এমন দোয়ার বহুল ব্যবহার। বিসমিল্লাহ এধরনের দোয়ার সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন।

 

হাদিসে আছে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা না হয়, তাহলে সে কাজটি লেজকাটা বা অসম্পূর্ণ থাকে।’ (আত তাফসিরুল মাজহারি, ২/১)।

 

এর মানে দুনিয়ায় কোনো কাজ কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন আল্লাহর সাহায্যে ধন্য হয়। কোনো কাজ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলে শুরু করার অর্থ একথা বলা যে, হে আল্লাহ, আমি একটা কাজ শুরু করেছি, এবার আপনার মদদে কাজটি পূর্ণ করে দিন।

 

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিমে কোনো ঐন্দ্রজালিক গূঢ়তত্ত্ব নেই, এর অক্ষরে বা আক্ষরিক মানে এমন কোনো জাদুশক্তি নেই যে আপনি তাবিজ বানিয়ে রাখবেন। বরং বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বাক্যটি নিজেই একটি শক্তি, যা মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি তীব্র ভালোবাসা, আবেগ ও স্পৃহা তৈরি করে, এবং এর ওপর ভর করেই মানুষ আল্লাহর মারিফাত লাভ করে।

 

যখন আপনার ভেতর এই বিশ্বাস জন্মাবে যে আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, যা হয় তার সাহায্যেই হয়, তার সাহায্য ছাড়া দুনিয়ায় কিছুই ঘটে না,—এই অনুভূতি যখন বাক্য হয়ে আপনার জবানে উচ্চারিত হবে—এরই নাম হবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

 

এই বাক্যে বিশেষভাবে আল্লাহর ‘দয়া’ গুণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কারণ মানুষ হিসেবে আমরা আল্লাহর যে গুণের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, তা হলো ‘দয়া’।

 

আল্লাহর এই গুণের কারণেই মানুষ নেয়ামত ও দানগ্রহণের উপযোগী হয়। আল্লাহ তাআলার ‘কাদির’ বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া মানে তার সত্তায় কোনো অপূর্ণতা নাই, আর ‘রহমানুর রহিম’ হওয়া মানে তার কুদরতের খাজানা থেকে তিনি মানুষকেও ‘প্রাপ্য’ বানিয়েছেন।

 

মানুষ মূলত দুর্বল প্রাণী। মানুষ যখন কোনো কাজ শুরু করে, কাজটা বড় হোক বা ছোট, মানুষ ভাবে যদি শক্তিশালী কেউ এসে তার কাজটা সম্পাদন করে দিত, যদি তার ঘাটতি পূরণ করে দিত, যে কাজটা সে করতে পারছে না তা যদি কেউ আপন সাহায্যে করে দিত। প্রত্যেক কাজের শুরুতেই এই অনুভূতি আপনাআপনিই মানুষের মনে জন্মে। আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এই দুর্বলতারই অংশ।

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম একটি ব্যাপক অর্থবহ বাক্য, একই সাথে দোয়া ও জিকির, এই বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ও তার তুলনায় বান্দার ক্ষুদ্রত্ব প্রকাশ পায়, এবং এর মাধ্যমে মানুষ শক্তিশালী সত্তার হাতে নিজেকে সঁপে দেয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

বিসমিল্লাহ’র তাৎপর্য

Update Time : ০১:১৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০২২

মওঃ ওয়াহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ:

 

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম অর্থ পরম করুণাময় অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এই বাক্যটি কুরআনে ১১৪ বার এসেছে, এবং একমাত্র সুরা তওবা ছাড়া প্রত্যেক সুরা শুরু হয়েছে এই বাক্যের মাধ্যমে। এক সুরায় কম থাকলেও সুরা নামলে দুইবার বিসমিল্লাহ এসে ১১৪’র সংখ্যা পূর্ণ করে দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক পুনরুক্তির নিশ্চয় আলাদা তাৎপর্য আছে।

বান্দার জন্য কাজ শুরু করার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো আল্লাহর নামে শুরু করা, যিনি দয়া ও অনুগ্রহের ভাণ্ডার, এবং যার রহমত সবসময় উপচে পড়ে। আল্লাহর নামে শুরু করার অর্থ এই দোয়া করা যে আপনার অসীম দয়া থেকে আমাকে কিছু দান করে সহায়তা করুন, আমার কাজটা সহিসালামতে পূর্ণ করে দিন।

 

এই দোয়া বান্দার তরফ থেকে তার বন্দেগির অংশ, একই সাথে সফলতার জন্য আল্লাহ তাআলাকে জামিন মানা।

 

কুরআনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—মুমিনের অন্তরে যেন সঠিক অনুভূতি জন্মায় এমন দোয়ার বহুল ব্যবহার। বিসমিল্লাহ এধরনের দোয়ার সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন।

 

হাদিসে আছে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা না হয়, তাহলে সে কাজটি লেজকাটা বা অসম্পূর্ণ থাকে।’ (আত তাফসিরুল মাজহারি, ২/১)।

 

এর মানে দুনিয়ায় কোনো কাজ কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যখন আল্লাহর সাহায্যে ধন্য হয়। কোনো কাজ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলে শুরু করার অর্থ একথা বলা যে, হে আল্লাহ, আমি একটা কাজ শুরু করেছি, এবার আপনার মদদে কাজটি পূর্ণ করে দিন।

 

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিমে কোনো ঐন্দ্রজালিক গূঢ়তত্ত্ব নেই, এর অক্ষরে বা আক্ষরিক মানে এমন কোনো জাদুশক্তি নেই যে আপনি তাবিজ বানিয়ে রাখবেন। বরং বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বাক্যটি নিজেই একটি শক্তি, যা মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি তীব্র ভালোবাসা, আবেগ ও স্পৃহা তৈরি করে, এবং এর ওপর ভর করেই মানুষ আল্লাহর মারিফাত লাভ করে।

 

যখন আপনার ভেতর এই বিশ্বাস জন্মাবে যে আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, যা হয় তার সাহায্যেই হয়, তার সাহায্য ছাড়া দুনিয়ায় কিছুই ঘটে না,—এই অনুভূতি যখন বাক্য হয়ে আপনার জবানে উচ্চারিত হবে—এরই নাম হবে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।

 

এই বাক্যে বিশেষভাবে আল্লাহর ‘দয়া’ গুণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কারণ মানুষ হিসেবে আমরা আল্লাহর যে গুণের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী, তা হলো ‘দয়া’।

 

আল্লাহর এই গুণের কারণেই মানুষ নেয়ামত ও দানগ্রহণের উপযোগী হয়। আল্লাহ তাআলার ‘কাদির’ বা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া মানে তার সত্তায় কোনো অপূর্ণতা নাই, আর ‘রহমানুর রহিম’ হওয়া মানে তার কুদরতের খাজানা থেকে তিনি মানুষকেও ‘প্রাপ্য’ বানিয়েছেন।

 

মানুষ মূলত দুর্বল প্রাণী। মানুষ যখন কোনো কাজ শুরু করে, কাজটা বড় হোক বা ছোট, মানুষ ভাবে যদি শক্তিশালী কেউ এসে তার কাজটা সম্পাদন করে দিত, যদি তার ঘাটতি পূরণ করে দিত, যে কাজটা সে করতে পারছে না তা যদি কেউ আপন সাহায্যে করে দিত। প্রত্যেক কাজের শুরুতেই এই অনুভূতি আপনাআপনিই মানুষের মনে জন্মে। আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এই দুর্বলতারই অংশ।

 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম একটি ব্যাপক অর্থবহ বাক্য, একই সাথে দোয়া ও জিকির, এই বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর বড়ত্ব ও তার তুলনায় বান্দার ক্ষুদ্রত্ব প্রকাশ পায়, এবং এর মাধ্যমে মানুষ শক্তিশালী সত্তার হাতে নিজেকে সঁপে দেয়।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ