১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার মাঠে প্রকাশ্যে শিক্ষককে কুপিয়ে খুন, স্ত্রী আহত

  • Update Time : ০৯:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাওলানা জিয়াউর রহমান (৫০) নামে এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন কক্সবাজারের মহেশখালীতে। ওই সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী রহিম বেগম (৪২)। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই মাদ্রাসার শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা সোমাইয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান তাজিয়াকাটা গ্রামের মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রী তাজিয়াকাটা সোমাইয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। স্থানীয় সূত্র জানায়, দুইপক্ষের বিরোধের জের ধরে এলাকায় একাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও মাদ্রাসা স্থানান্তরিত হয়। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ, পরিচালনা কর্তৃত্ব ও এমপিওভুক্তি নিয়ে মাদ্রাসা কমিটি, জমি দাতা ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ২ গোষ্ঠীর লোকজন নিজেরা বিরোধে জড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরেই বিভিন্ন সময় সহিংসতা হয় এবং বৃহস্পতিবারের ওই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতের ছোটভাই মোহাম্মদ মান্নান বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক নিয়োগ ও পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সাথে তার ভাইয়ের বিরোধ চলে আসছিল। গত তিন মাস আগেও তার ভাইয়ের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ভাই স্ত্রীর মাদ্রাসায় গিয়ে স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক দল লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা থেকে আমার ভাইকে টেনেহিঁচড়ে মাঠে এনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনায় অনেক মহিলাও অংশগ্রহণ করে; তখন আমার ভাবি আমার ভাইকে বাঁচাতে আসলে তাকেও কোপায় তারা। তিনি আরও বলেন, আমার ভাবির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে মহেশখালী হাসপাতালে আনা হলেও আঘাত গুরুতর হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শাহআলম বাদশা জানান, মাদ্রাসা নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে, একাধিক মামলাও হয়। এ বিরোধের জের ধরেই মাওলানা জিয়াউর রহমান খুন হন। মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মহেশখালী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

মাদ্রাসার মাঠে প্রকাশ্যে শিক্ষককে কুপিয়ে খুন, স্ত্রী আহত

Update Time : ০৯:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: মাদ্রাসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাওলানা জিয়াউর রহমান (৫০) নামে এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন কক্সবাজারের মহেশখালীতে। ওই সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী রহিম বেগম (৪২)। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই মাদ্রাসার শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা সোমাইয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান তাজিয়াকাটা গ্রামের মৃত সাহাব মিয়ার ছেলে ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রী তাজিয়াকাটা সোমাইয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। স্থানীয় সূত্র জানায়, দুইপক্ষের বিরোধের জের ধরে এলাকায় একাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও মাদ্রাসা স্থানান্তরিত হয়। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ, পরিচালনা কর্তৃত্ব ও এমপিওভুক্তি নিয়ে মাদ্রাসা কমিটি, জমি দাতা ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ২ গোষ্ঠীর লোকজন নিজেরা বিরোধে জড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরেই বিভিন্ন সময় সহিংসতা হয় এবং বৃহস্পতিবারের ওই খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতের ছোটভাই মোহাম্মদ মান্নান বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক নিয়োগ ও পরিচালনা নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সাথে তার ভাইয়ের বিরোধ চলে আসছিল। গত তিন মাস আগেও তার ভাইয়ের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করেছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ভাই স্ত্রীর মাদ্রাসায় গিয়ে স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক দল লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা থেকে আমার ভাইকে টেনেহিঁচড়ে মাঠে এনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনায় অনেক মহিলাও অংশগ্রহণ করে; তখন আমার ভাবি আমার ভাইকে বাঁচাতে আসলে তাকেও কোপায় তারা। তিনি আরও বলেন, আমার ভাবির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে মহেশখালী হাসপাতালে আনা হলেও আঘাত গুরুতর হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শাহআলম বাদশা জানান, মাদ্রাসা নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটে, একাধিক মামলাও হয়। এ বিরোধের জের ধরেই মাওলানা জিয়াউর রহমান খুন হন। মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মহেশখালী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ