নীলামে পাথর ক্রয় করেও প্রবল বাধার মুখে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হলেন ব্যবসায়ী কবির হোসেন
- Update Time : ০৩:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে :: সরকারকে উপযুক্ত রাজস্ব মূল্য দিয়ে নীলামে পাথর ক্রয় করার পরও প্রবল বাধার মুখে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হলেন সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী মোঃ কবির হোসেন। তিনি সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হুরারকান্দা নিবাসী হাজী মোঃ শুকুর আলীর পুত্র ও ধোপাজান চলতি নদী বালি পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক। জানা যায়,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধোপাজান চলতি নদীর পূর্বপাড় ডলুরা নামক স্থানে টাস্কফোর্সের অভিযানে স্তপীকৃত ও জব্দকৃত ১ লাখ ১০ হাজার ঘনফুট পাথর গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশ্য নীলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ নীলামদাতা গন্য হন তিনি। ভ্যাট আয়করসহ অন্যান্য সরকার নির্ধারিত ট্যাক্সসহ মোট ১ কোটি ৪১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫শত টাকা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে গত ২রা আগস্ট ক্রয়কৃত পাথর সরানোর আদেশ পান তিনি। আদেশের প্রেক্ষিতে গত ৪ আগস্ট সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ডলুরা টু হালুয়ারঘাট রাস্তার বামদিকে দক্ষিণ পার্শ্বে পূর্ব ডলুরা গ্রামস্থিত নিজস্ব ব্যবসায়ী অফিস ঘর স্থাপনের মাধ্যমে পাথর সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। পাথর সরানোর অংশ হিসেবে তার নামে বৈধ রসিদ ও যথারীতি তার নিযুক্ত ম্যানাজারের স্বাক্ষর দিয়ে নীলামকৃত মালামাল বিভিন্ন পিকআপ, ভ্যান,ট্রলি দ্বারা বহন করত: অপসারন করতে গেলে প্রবল বাধার সম্মুখীন হন তিনি। এ অবস্থায় পরের দিন ৫ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার একজন দারোগা (সাব ইন্সপেক্টর),একদল পুলিশ ফোর্স সহকারে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন ট্রাক ট্রলি ভ্যান হইতে তার ম্যানাজারের দেয়া রসিদ হুমকী প্রদান করত: ছিনিয়ে নেন। পরে তার অফিস ঘরে গিয়ে তার ম্যানাজারকে হুমকী দিয়ে চেয়ার হতে সরিয়ে দিয়ে তাদের খাতাপত্র ও রসিদ এর ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারন করেন। এসময় ম্যানাজার, নীলামগ্রহীতা কবির হোসেনকে মোবাইল ফোনে কল করলে কবির হোসেন তার অফিস ঘরে গিয়ে তার নিযুক্ত ম্যানাজারের চেয়ারে বসে ঐ দারোগাকে তাদের হিসাবের খাতাপত্র ও রসিদ বহি ইত্যাদি তছনছ করে ফেলতে দেখেন। কবির হোসেন বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পাথর খরিদ করেছি। তারপরও নীলাম কমিটির ২নং সদস্যের প্রবল বাধা বিপত্তির কারণে পাথর সরানোর কার্যক্রম তাৎক্ষনিকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে আমাকে। বাধাপ্রদানকারী দারোগা নিজেই নীলাম কমিটির ২নং সদস্য। যার প্রবল বাধার কারণে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত আমার পাথর সরানোর কার্যক্রম পুরোদমে বন্ধ রয়েছে। পাথর সরাতে হলে যেখানে কমপক্ষে ৩ মাসের সময়ের প্রয়োজন সেখানে মাত্র এক মাস অর্থাৎ আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় আমাকে বেধে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক্ষদর্শী লোকজন বলেন, প্রতিপক্ষের সাথে যোগসাজশে কবির হোসেনকে পদে পদে ডিস্টার্ব করে অপূরনীয় ক্ষতির সম্মুখীন করেছেন পুলিশের উক্ত দারোগা। কবির হোসেন বিষয়টি ১৪ আগস্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে অবগত করেছেন। পাথর ব্যবসায়ীরা বলেন, ইতিপূর্বে ব্যবসায়ী মাহজারুল ইসলাম (উকিল) মাত্র ২০ হাজার ঘনফুট পাথর নীলাম নিয়ে ১৫ দিনের সময় পান। সে হিসেবে ১ লাখ ১০ হাজার ঘনফুট পাথর নীলাম গ্রহনকারী কবির হোসেন এর প্রায় ৩ মাস সময় পাওয়ার কথা। কিন্তু তাকে মাত্র এক মাস সময় বেধে দেয়া হয়েছে। অথচ ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ছটাক পরিমাণ পাথরও সড়াতে পারেননি তিনি। ফলে সরকারকে উপযুক্ত রাজস্ব মূল্য দিয়ে নীলামে পাথর ক্রয় করার পরও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হলেন এই ব্যবসায়ী। ব্যক্তি কবির হোসেন এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পাথর ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবসায় জড়িত হাজার হাজার পাথর ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন পাথর ব্যবসায়ীদের।


























