জগন্নাথপুরের অামির উদ্দিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য রেডিও কিনেছিলেন
- Update Time : ১০:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আবুল কাশেম আকমল
মোঃ আমির উদ্দিনের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার স্বজনশ্রী গ্রামে । ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসাবে আমির উদ্দিন নৌকা মার্কায় তাঁর মূল্যবান ভোটটি প্রদান করেন । জপগ্ননাথপুর সহ সারা দেশ তখন জয় বাংলা শ্লোগানে মুখরিত । শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করলেও পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে । ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ প্রদান করবেন । যুবক আমির উদ্দিন সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনার জন্য পাগলপারা হয়ে যান । বাঁশের পালার ব্যাংকে সঞ্চিত টাকা থেকে ছ’কুড়ি টাকা দিয়ে একটি রেডিও কিনেছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শুনার জন্য । সেই থেকে আজও তিনি রেডিও বাজান । ২৬ শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে আমির উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করতে ইচ্ছুক হলেও বয়স কম থাকার কারণে বাবা-মা তাঁকে যুদ্ধে যেতে বারণ করেন ।

তখন বর্ষা মওসুম । ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখ পাক হানাদার বাহিনী ভাটি অঞ্চলের নামকরা ব্যবসা কেন্দ্র রানীগঞ্জ বাজারে আক্রমন করে শতাধিক নিরীহ লোককে গুলি করে নৃশংস ভাবে হত্যা করে দোকানপাট জ্বালিয়ে দেয় । খবর পেয়ে গ্রামবাসীর সাথে আমির উদ্দিন বাজারে ছুটে এসে লাশ উদ্ধারে অংশগ্রহণ করেন । বাউধরনের শহীদ হুশিয়ার আলী ও ছয়েফ উদ্দিনের লাশ তাদের স্বজনদের নিকট পৌঁছাতে সহযোগিতা করেন । তাঁর চাচাত ভাই গুরুতর আহত ওয়াহিদ আলীকে বাড়ী নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ।
গোপরাপুর স্কুলে ছিল মুক্তি বাহিনীর ক্যাম্প । পাক আর্মি মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে গোপরাপুর যাওয়ার সময় পথিমধ্যে স্বজনশ্রী গ্রামে হানা দেয় । আমির উদ্দিন তখন ক্লাস ফাইভের ছাত্র । বইয়ের মলাটে নাম লেখা দেখে আমির উদ্দিনকে খোঁজে না পেয়ে হায়েনারা মনে করে সে যুদ্ধে গেছে । আমির উদ্দিনের মাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গলা টিপে হত্যা করে । পাক হানাদাররা ফিরে যাবার পর লুকিয়ে থাকা আমির উদ্দিন ঘরে এসে মাকে মৃত অবস্থায় দেখে ধৈর্য ধরতে পারেননি । মায়ের রক্তাক্ত লাশে হাত রেখে শপথ নেন যুদ্ধে যাবার । কোন বাঁধা আর তাঁকে ফেরাতে পারবেনা ।
এদিকে খবর পেয়ে বালিশ্রী থেকে ছুটে আসেন আমির উদ্দিনের মামাত ভাই মুক্তার মিয়া । মৃতের দাফন কাফন সম্পাদন করে তারা দুই ভাই একটি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে দিন রাত নৌকা বেয়ে সুনামগঞ্জ মহকুমায় যান । পরে সেখান থেকে যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে বাংলাদেশের সিমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে চলে যান । ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে আসার পরপরই জানা যায় পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর । যুদ্ধ শেষ ! দেশ এখন স্বাধীন । চারদিকে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা ।
মায়ের হত্যার প্রতিশোধ নেয়া হলনা আমির উদ্দিনের । স্বাধীনতার পর মনের দুঃখে বিদেশ পাড়ি জমান । ফিরে এসে এরশাদ আমলে আনসার ভিডিপি’তে যোগদান করেন । বর্তমানে আমির উদ্দিন অভাব অনটনের মধ্যে দিন যাপন করছেন । একজন শহীদ বীরাঙ্গনা মাতার সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার তিনি দাবীদার ।
লেখক: ডিড রাইটার ও পাঠাগার সংগঠক।
মোবাইল 01711185796
























