০১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন

  • Update Time : ০৬:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছে  রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল এ আবেদনটি করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন মেজবাহ জানান, এ মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় সময়ের আবেদন করা হয়। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করে রাখেন।
২০১০ সালের ৮ই আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মানবজমিনকে বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতকে না জানিয়ে আদালতের অনুমতি না  নিয়েই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদেশে চলে গেছেন। এখন তার জন্য তো মামলার বিচারকাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে থাকতে পারে না। এ মর্মে আদালতের কাছে আবেদন করেছি যে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। তিনি বলেন, মামলার কাজ সচল রাখার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি নথিভুক্ত করে রেখেছেন। আগামী ২৪শে জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য আছে। সম্ভবত ওই দিন এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হতে পারে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া মানবজমিনকে বলেন, দুদকের আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছেন। আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করে রেখেছেন। গতকাল আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (৩২ নম্বর সাক্ষী) দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশিদকে অসমাপ্ত জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। জেরা শেষে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪শে জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। দুটি মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদকে রিকল করে জেরা করছেন খালেদার আইনজীবীরা।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ২০১১ সালের ৮ই আগস্ট একটি মামলা দায়ের করে দুদক। ২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক  বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ  থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা  আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১০ সালের ৫ই আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন

Update Time : ০৬:০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

জগন্নাথপুর পত্রিকা ডেস্ক :: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছে  রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল এ আবেদনটি করেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন মেজবাহ জানান, এ মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় সময়ের আবেদন করা হয়। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করে রাখেন।
২০১০ সালের ৮ই আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশিদ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মানবজমিনকে বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতকে না জানিয়ে আদালতের অনুমতি না  নিয়েই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিদেশে চলে গেছেন। এখন তার জন্য তো মামলার বিচারকাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে থাকতে পারে না। এ মর্মে আদালতের কাছে আবেদন করেছি যে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক। তিনি বলেন, মামলার কাজ সচল রাখার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়েছে। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি নথিভুক্ত করে রেখেছেন। আগামী ২৪শে জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য আছে। সম্ভবত ওই দিন এ বিষয়ে আদেশ দেয়া হতে পারে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া মানবজমিনকে বলেন, দুদকের আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছেন। আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করে রেখেছেন। গতকাল আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (৩২ নম্বর সাক্ষী) দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশিদকে অসমাপ্ত জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। জেরা শেষে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪শে জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। দুটি মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদকে রিকল করে জেরা করছেন খালেদার আইনজীবীরা।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ২০১১ সালের ৮ই আগস্ট একটি মামলা দায়ের করে দুদক। ২০১২ সালের ১৬ই জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক  বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ  থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা  আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ২০১০ সালের ৫ই আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ