০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপুর্ণ: ছাতকে ধীরে- ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ব্যুরো ফসল

  • Update Time : ০২:১৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে নদ-নদীর পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে হাওরগুলোর ফসল রক্ষা বাঁধ। হাওরের ফসল নিয়ে আবারও শংকিত হয়ে পড়েছেন এখানের কৃষকরা। শুক্রবার রাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে মেরামত কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক ও স্থানীয়রা। শনিবার ঝিগলী-খঞ্জনপুর গ্রামের পূর্বে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ফাটার হাওরে। স্থানীয় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত করেছেন। এ হাওরে এলাকার ঝিগলী-খঞ্জনপুর, জিয়াপুর সহ অনেক গ্রামের ব্যুরো ফসল রয়েছে। এ অঞ্চলের মধ্যে ফাটার হাওরই হচ্ছে বড় হাওর। এদিকে শনিবার থেকে পানি ঢুকে ধীরে -ধীরে ব্যুরো ফসল তলিয়ে যাচ্ছে দোলারবাজার ইউনিয়নের খলাবন্দ হাওরের। এ হাওরে রয়েছে যুগল নগর, তালুপাট, গোবিন্দপুর, জাহিদপুর, পূর্ববসন্তপুর, বসন্তপুর, নইরমপুর, বুরাইয়া গ্রামের কৃষকদের ফসল। এখানে সময় মতো বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আখলুছ আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খয়ের জানিয়েছেন,স্থানীয় একটি মহলের বিরোধিতার কারণে এস এফ ডব্লিউ, আর ডি পি-২ এর অধিনে জহিরভাংগা-বসন্তপুর উপ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এ হাওরের ব্যুরো ফসল আজ তলিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ আগে ঝুকিপূর্ণ হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছিলো। দিনরাত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে কাজ করেছেন কৃষকরা। বাঁধে-বাঁধে কৃষকদের রাত কাটাতে হয়েছে। বন্যার পানি কিছুটা হ্রাস পেলে কৃষকদের মুখে একটু হাসির ঝিলিক ফুটে ওঠে। প্রথম দফা ঢলের পানিতে উপজেলার ১৫ টি বিল হাওরের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে আবারও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। একটি হাওরের বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে। চাউলীর হাওর, দল্লার হাওর, পাতলাচুরাসহ আরো কয়েকটি বিল- হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে উপজেলার সবচেয়ে বড় নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধটি। খলাবন্দ হাওরের ফসল ধীরে -ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, প্রথম দফা বন্যায় নিচু এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ব্যুরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।একটি হাওরের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে। তবে ফসল রক্ষার জন্য বাঁধটি মেরামত করছেন কৃষকরা। এতে সরকারি সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। এখানে বাঁধ তদারকি সহ কৃষকদের ব্যুরো ফসল ঘরে তুলতে উপজেলা কৃষি বিভাগ সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি জানান, উপজেলায় ছোট -বড় বিল-হাওর রয়েছে ৬৮ টি। চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে ব্যুরো চাষাবাদ হয়েছে। এখানে সুরমা,চেলা ও পিয়াইন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম তুহিন জানান,ছাতক পয়েন্টে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ছুঁই-ছুঁই অবস্থানে রয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপুর্ণ: ছাতকে ধীরে- ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ব্যুরো ফসল

Update Time : ০২:১৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০২২

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে নদ-নদীর পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে হাওরগুলোর ফসল রক্ষা বাঁধ। হাওরের ফসল নিয়ে আবারও শংকিত হয়ে পড়েছেন এখানের কৃষকরা। শুক্রবার রাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে মেরামত কাজ করে যাচ্ছেন কৃষক ও স্থানীয়রা। শনিবার ঝিগলী-খঞ্জনপুর গ্রামের পূর্বে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ফাটার হাওরে। স্থানীয় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত করেছেন। এ হাওরে এলাকার ঝিগলী-খঞ্জনপুর, জিয়াপুর সহ অনেক গ্রামের ব্যুরো ফসল রয়েছে। এ অঞ্চলের মধ্যে ফাটার হাওরই হচ্ছে বড় হাওর। এদিকে শনিবার থেকে পানি ঢুকে ধীরে -ধীরে ব্যুরো ফসল তলিয়ে যাচ্ছে দোলারবাজার ইউনিয়নের খলাবন্দ হাওরের। এ হাওরে রয়েছে যুগল নগর, তালুপাট, গোবিন্দপুর, জাহিদপুর, পূর্ববসন্তপুর, বসন্তপুর, নইরমপুর, বুরাইয়া গ্রামের কৃষকদের ফসল। এখানে সময় মতো বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আখলুছ আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খয়ের জানিয়েছেন,স্থানীয় একটি মহলের বিরোধিতার কারণে এস এফ ডব্লিউ, আর ডি পি-২ এর অধিনে জহিরভাংগা-বসন্তপুর উপ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এ হাওরের ব্যুরো ফসল আজ তলিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ আগে ঝুকিপূর্ণ হাওর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকারের সৃষ্টি হয়েছিলো। দিনরাত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে কাজ করেছেন কৃষকরা। বাঁধে-বাঁধে কৃষকদের রাত কাটাতে হয়েছে। বন্যার পানি কিছুটা হ্রাস পেলে কৃষকদের মুখে একটু হাসির ঝিলিক ফুটে ওঠে। প্রথম দফা ঢলের পানিতে উপজেলার ১৫ টি বিল হাওরের প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে আবারও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। একটি হাওরের বেড়িবাঁধ ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে। চাউলীর হাওর, দল্লার হাওর, পাতলাচুরাসহ আরো কয়েকটি বিল- হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে উপজেলার সবচেয়ে বড় নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধটি। খলাবন্দ হাওরের ফসল ধীরে -ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, প্রথম দফা বন্যায় নিচু এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ব্যুরো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।একটি হাওরের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে। তবে ফসল রক্ষার জন্য বাঁধটি মেরামত করছেন কৃষকরা। এতে সরকারি সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। এখানে বাঁধ তদারকি সহ কৃষকদের ব্যুরো ফসল ঘরে তুলতে উপজেলা কৃষি বিভাগ সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি জানান, উপজেলায় ছোট -বড় বিল-হাওর রয়েছে ৬৮ টি। চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে ব্যুরো চাষাবাদ হয়েছে। এখানে সুরমা,চেলা ও পিয়াইন নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম তুহিন জানান,ছাতক পয়েন্টে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ছুঁই-ছুঁই অবস্থানে রয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ