ধনীদের নিকট শতকরা ২.৫০% টাকা গরীবদের হক
- Update Time : ০৪:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২২
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
মাওলানা আবুল কাসেম
ইসলাম পাচঁটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি । ১. কালিমা, ২. নামাজ, ৩. রোজা, ৪. হজ্ব, ৫. জাকাত। (সংক্ষেপে) ইসলাম ফরজ আদায়ের ক্ষেত্রে দুই শ্রেণীতে মুসলমানদের কে ভাগ করেছেন। প্রত্যেক নর-নারী তিনটি ফরজ কাজ বাধ্যতামূলক আদায় করতে হবে। কালিমা, নামাজ, রোজা। ধনি গরীব সর্ব স্তরের মুসলমান নর-নারী পাগল-শিশু ব্যতীত। ধনাট্য মুসলমানদের জন্য আরো দুইটি ফরজ বর্ধিত করা হয়েছে, হজ্ব ও জাকাত। এই দুটি ফরজ গরীবদের জন্য নয়।
মালে নেছাব হলে জাকাত দেওয়া ফরজ, মালদার হলে হজ্ব করা ফরজ। মালে নেছাব হলো, যাবতীয় খরছাদী বাদে বছরে তাঁর সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন, বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের সমপরিমাণ টাকা উদৃত হইলে, তাঁর জন্য জাকাত দেওয়া ফরজ। বর্তমান হিসেবে ৫০,০০০/ পঞ্চাশ হাজার টাকা।
জাকাতের পরিমান শতকরা ২.৫০% টাকা। গরীব এতিম, অসহয়ায়, মিসকিন, মাদ্রাসার গুরাবা ফান্ড, এতিম খানা, নিজের আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে যারা গরীব তাদেরকে অগ্রাধিকার হিসেবে জাকাত প্রদান করিতে হবে।
জাকাত ফ্যাশন নয়, ফরজ অদায়ে দায়িত্ব পালন। বর্তমান সমাজে জাকাতের প্রবনতা যে পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। তা মুলত সঠিক নয়। জাকাত গরীবদের হক। তাঁর পাওনা অধিকার। এটা আপনার করুণা নয়। আপনার ফরজ আদায়ের স্হান মাত্র। আপনার মালের পবিত্রতা করার সুযোগ। আপনার জান মালের সংরক্ষণ করা ও নিরাপত্তা রাখার মাধ্যম মাত্র।
লোক দেখানো, সেলফি তোলা, গরীবদের কে কাতারবন্দি, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হেনস্তা করা, জাকাত গ্রহিতাদের কে সন্মানের চুখে না দেখা। শরীয়ত বলেছে, তোমার ডান হাতে দান কর, যেন তোমার বাম হাত টের না পায়। সবচেয়ে উত্তম পন্হা হলো সন্মানের সহিত তাঁর বাড়ীতে পৌছিয়ে দেওয়া। আল্লাহ পাকের গুরত্বপূর্ণ একটি ফরজ আদায় করবেন। তাতে আপনার সময় ব্যয় করবেন।
কাপড় শাড়ী লুঙ্গি বিভিন্ন মাল আসবাবের চেয়ে টাকা দেওয়া উত্তম। ঐগুলা দিতে নিষেধ নেই। দেখা জিনিসে আমিত্ব বড়ত্ব, লোক দেখানো রিয়া হওয়ার সম্ভবনা বেশী। কারন হল টাকা হলে তাঁর চাহিদা অনুযায়ী ব্যব্যহার করতে পারবে। এমনতো হতে পারে কাপড় শাড়ী লুঙ্গি তাঁর এই মূহুর্তে প্রয়োজন নেই।
আপনার মনে রাখতে হবে যে, আমি জকাত দাতা, আর সে জাকাত গ্রহীতা, উভয় জনেই তো এ পৃথিবীতে আসার সময় শূন্য হাতে এসে ছিলাম।
আজ আমার ভরা হাত, আমি জাকাত দিচ্ছি। আর তাঁর শূন্যহাত সে নিচ্ছে, আমাকে দেওয়ার ক্ষমতা তো আমার নয়, সেটি একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহ মাত্র। আমার নিজস্ব কৃতিত্ব তো কিছুই নাই। আপনি তো পরীক্ষার হল ঘরে। আপনার হাত ভর্তি, তাঁর হাত শূন্য। আপনাকে দেওয়ার ক্ষমতা, তাকে নেওায়র ক্ষমতা কে দিয়েছেন একটু ভাবুন।
আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত, মুল টাকার হিসাব নিকাশ ছাড়া, লোক দেখানো, সেলফি তোলে নিজকে বড় লোক প্রকাশের জন্য দান খয়রাত করা। সেটি আল্লাহর দরবারে গ্রহণ হবেনা। আল্লাহ তো গণী, আমরা তো হলাম ফকির। এরকম জাকাত দিলে আপনার জাকাতের ফরজ আদায় হবেনা।আল্লাহ পাক আমাদের কে শরীয়তের সঠিক নিয়মে জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন, আমীন।
লেখক: সভাপতি, চরগাঁও মাদ্রাসা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ, মোবাইল ০১৭২৫- ২৭৫৪৮৫



























