ঝগড়া-বিবাদ এক ভয়ংকর ব্যাধি : দীন মোহাম্মদ আরজুমন্দ আলী
- Update Time : ০৯:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০২২
- / ৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
কারো দাবী বা হুকুম অমান্য করলেই ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। যেমন জীন জাতী আল্লাহপাকের আদেশ অমান্য করায়,তাদেরকে ধ্বংস করে,মানব জাতী সৃষ্টি করা হয়। এরপর শয়তান আল্লাহপাকের আদেশ অমান্য করে! আল্লাহ তাকে আদেশ অমান্য করায় অভিশপ্ত করেন। ছিল প্রিয়, হয়েগেলো অপ্রিয়! ঝগড়া হারুত, মারুত দুই ভাই করেন। এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করেন! পালাক্রমে শুরু হয়, স্বার্থ, গোত্রীয়, বংশীয়, ব্যক্তিত্বের জন্য ঝগড়া।
সবচেয়ে ভয়ংকর ও বিপদজনক ঝগড়া হল, বংশীয় বা গোত্রীয়। মক্কার কাফিররা হুজুর আকরাম সা. কে সমাজচ্যুত করার পর, হুজুর আকরাম সা. শিয়াবে আবি তালিবে গিয়ে আশ্রয় নেন।
সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করেন! এই নোংরা মানসিকতার ধারাবাহিকতা আজ পর্যন্ত চলমান! এই ঝগড়া ধ্বংস করে দিচ্ছে গ্রাম, বংশ, গোত্র।কেড়ে নিচ্ছে প্রাণও। নষ্ট হচ্ছে সম্পদ! অশান্ত হচ্ছে সমাজ, পরিবেশ।
কুরআন এবং হাদিসে ঝগড়া-বিবাদে জড়িত লোকদের মাঝে আপোষ-মীমাংসা বিধানে সহযোগীদের উচ্চ মর্যাদা এবং প্রতিদান প্রদানে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘
لَّا خَيْرَ فِى كَثِيرٍ مِّن نَّجْوٰىهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلٰحٍۭ بَيْنَ النَّاسِ ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذٰلِكَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
(তাদের অধিকাংশ শলা-পরামর্শ ভালো নয়; কিন্তু যে শলা-পরামর্শ দান-সহযোগিতা করতে কিংবা সৎ কাজ করতে অথবা মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বা সন্ধিস্থাপনে করে তা স্বতন্ত্র। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে একাজ করে, আমি তাকে বিরাট প্রতিদান দেব।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১১৪))
হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাদ মিমাংশাকারীর জন্য ঘোষণা করেন-
হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদেরকে রোজা, নামাজ ও দান-সহযোগিতার চেয়ে উত্তম কাজের সংবাদ দেব না? তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, ‘হ্যাঁ’, তিনি বললেন, তাহলো- মানুষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের মিমাংশা করা। মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিবাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করা মারাত্মক সর্বনাশা কাজ।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ)।
#ঝগড়া নিবারণ
ঘরে ঝগড়া লাগলে, গোষ্ঠীর মুরব্বিরা মধ্যস্থতা করে তা মিমাংসা করতে পারেন। গোষ্ঠীতে ঝগড়া লাগলে গ্রামের মুরব্বিরা মিমাংসা করতে পারেন। গ্রামে ঝগড়া লাগলে আশপাশের গ্রামের মুরব্বিরা /চেয়ারম্যান/মেম্বার মিমাংসা করতে পারেন।
#সবচেয়ে উত্তম হয়,
যে গ্রামে ঝগড়া লাগে সে গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব বা ঐ গ্রামে যদি মাদরাসা বা স্কুল থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা স্টাফ, মধ্যস্থতা করে, ঝগড়ার সমাধান করতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে সমাজের প্রতিটি পর্যায়ে পরস্পরকে সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ-দ্বন্দ্ব-কলহ থেকে বিরত থাকার এবং বিরত রাখার তাওফিক দান করুন। ঝগড়া-বিবাদ ঘটলে তা সমাধানে এগিয়ে আসার এবং ঘোষিত পুরস্কার লাভের তাওফিক দান করুন। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক: কবি ও গবেষক, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।



























