আমার একুশ
- Update Time : ১২:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
- / ২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
সৈয়দ মুন্তাছির রিমন:
একুশ দেখেছি–
সন্ধ্যা তারায় ঝলমল জন মিলনে প্রেমবৃত্ত
সভাস্থলে কানায় কানায় টসে তরুণী নৃত্য।
আবেগে ভাষার শত আনন্দে উল্লাসে মিছিল
ফুলের মালায় আচ্ছাদি শহীদ মিনার শিশির।
একুশ দেখেছি–
‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’
আলমের অনন্ত প্রহরি সীমানার রচনায়।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি’
গাফ্ফারের গানের প্রতিটি বক্ষণাশী বেদনায়।
একুশ দেখেছি–
জাতিসংঘে সুউচ্চ শিরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু
কালজয়ী বাংলা ভাষায় জনবাণী প্রবন্ধনায়।
পদ্মা-মেঘনা জোয়ারে জানায় হাজার সালাম
যুগে যুগে ইতিহাস রবে তোমার-ই বন্দনায়।
একুশ দেখেছি–
চিত্রপাড়ায় খোলাকাশে ভাষা অধিকার প্রদর্শন
‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই-মানতে হবে’ জিততে হবে।
স্বাধীন প্রজন্মরা দৃষ্টিময় চিত্তে কৃত্যধ্যানে দর্শন
আবেগে আত্মহারায় চোখের কোণে জ্বল গর্জন।
একুশ দেখেছি–
মায়ের আচল ধরে হাটা ধন্য পালক অবিচল
দুগালে-কপালে পতাকা এঁকে চোখে জলচল।
কথায় কথায় এদিক-সেদিক চেয়ে ধরে বায়না
একুশের বাগানে বই না কিনে ফিরে বাড়ি যায় না।
একুশ দেখেছি–
দুখী জননীর আছে কত নিত্য কাজে টানপোড়া
অর্থের অভাবে আবদার হয় না ছেলের মনজুড়া।
আশায় বেঁধে বুক নিরাশায় ছুটে চলে প্রাণভর
শহীদ মিনারের স্বাধীনতায় হারায় তার অন্ধমোড়।
একুশ দেখেছি–
ধর্ম-বর্ণ, গোষ্ঠী ও জাতি মিলে মিশে হয় একাকার
হিংস্রার জাল ভেঙ্গে নবরূপে লিখে প্রবন্ধকার।
বাঙালির মাঝে বাংলার গ্রাম্য মেঠোপথ ছড়াকার
বোনের রঙিন শাড়ির ভাঁজে গাঁথে স্বপ্ন দ্বিবাকার।
একুশ দেখেছি–
রক্তেভেজা একুশের নীড়ে ভাষার বাক-স্বাধীনতা
মিনারের বেদিতে পুস্প ভরে রাখে বক্ষ-ব্যথা।
প্রকৃতির খেয়ায় প্রতিজ্ঞায় অনড় স্মৃতির মিলন
সংবিধানের ঘরে বায়ান্নের বিজয়ে আসে কিরণ।


























