০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবাধ্য সন্তানদের কবল থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলনে অসহায় বৃদ্ধ পিতার আকুতি

  • Update Time : ০২:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: অবাধ্য ৯ সন্তানের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মো. সাইজুদ্দিন মিয়া নামে অসহায় এক বৃদ্ধ শিল্পপতি বাবা সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইজুদ্দিন মিয়া অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী গুলনাহার আক্তার আঁখি। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, একই বাউন্ডারীর ভেতরে পৃথক বাড়িতে বসবাস করেন সাইজুদ্দিন ও তার প্রয়াত প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা। সাইজুদ্দিন মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি প্রথম পক্ষের সন্তানদের লিখে দিতে বারবার তাকে হুমকি ও চাপ দেয়া হচ্ছিল। এজন্য গত বছরের ৮ই ডিসেম্বর সন্তানদের হুমকির কারণে তিনি আদালতে ৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা করে বাসায় ফেরার পরেই প্রথম পক্ষের ৩ ছেলে রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম বাবু, শাহজাহান মিয়া, মেয়ে রাহিমা আক্তার  ও শাহারা আক্তার ডেইজী এবং ৩ ছেলের স্ত্রী একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায়। তারা সাইজুদ্দিন মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখিকে মারধর করে ডান হাত এবং ছোট ছেলে শান্তর পা ভেঙে ফেলে। মারধর শেষে তাদের একঘরে বন্দি করে রাখা হয়। তারা ‘৯৯৯’ এ ফোন দিলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। তাদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানার ইউএনও’র কাছে নিয়ে যায়। সব ঘটনা শুনে ইউএনও তাদের নিরাপদ স্থানে যাবার ব্যবস্থা করে দেন। এরপর তারা সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন। নিরাপত্তার কারণে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে না পেরে এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলাটি যথাযথভাবে তদন্ত না করেই রূপগঞ্জ থানার এসআই সিরাজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যে কারণে হামলাকারীরা দ্রুত জামিন পেয়ে যান। আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন সাইজুদ্দিন মিয়া। নারাজির প্রেক্ষিতে আদালতে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সাইজুদ্দিন মিয়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানরা ঘরে থাকা সিন্দুক ভেঙে দলিলপত্র, এনআইডি কার্ড এবং ব্যাংকের চেক বইসহ জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যায়। এমনকি দুই মিলে উৎপাদিত ২ কোটি টাকা মূল্যের কাপড় বাজারে মাত্র ১ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে অবাধ্য ওই সন্তানদের কব্জায় তার দু’টি মিলসহ স্থাবর সম্পত্তিগুলো রয়েছে। পিতার ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম- এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে বলে ফোন কেটে দেন। এ ব্যাপারে সাইজুদ্দিন মিয়ার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার এসআই সিরাজ বলেন, আমি মামলাটি তদন্ত করে গত মাসেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছি।  কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল কলি বলেন, শিল্পপতি সাইজুদ্দিন মিয়ার সঙ্গে তার প্রথম পক্ষের সন্তানদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওয়ারিশ হিসেবে বাবার কাছ থেকে সম্পদ পেতে তারা আমার দ্বারস্থ হয়েছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে সাইজুদ্দিন মিয়ার সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রথম পক্ষের সন্তানরা এক মাস সময়ও অপেক্ষা করতে পারেনি। এর আগেই তারা বাবার ওপর হামলা করে বসে। ঘটনাটি দুঃখজনক।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

অবাধ্য সন্তানদের কবল থেকে বাঁচতে সংবাদ সম্মেলনে অসহায় বৃদ্ধ পিতার আকুতি

Update Time : ০২:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: অবাধ্য ৯ সন্তানের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মো. সাইজুদ্দিন মিয়া নামে অসহায় এক বৃদ্ধ শিল্পপতি বাবা সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইজুদ্দিন মিয়া অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী গুলনাহার আক্তার আঁখি। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, একই বাউন্ডারীর ভেতরে পৃথক বাড়িতে বসবাস করেন সাইজুদ্দিন ও তার প্রয়াত প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা। সাইজুদ্দিন মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি প্রথম পক্ষের সন্তানদের লিখে দিতে বারবার তাকে হুমকি ও চাপ দেয়া হচ্ছিল। এজন্য গত বছরের ৮ই ডিসেম্বর সন্তানদের হুমকির কারণে তিনি আদালতে ৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা করে বাসায় ফেরার পরেই প্রথম পক্ষের ৩ ছেলে রফিকুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম বাবু, শাহজাহান মিয়া, মেয়ে রাহিমা আক্তার  ও শাহারা আক্তার ডেইজী এবং ৩ ছেলের স্ত্রী একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায়। তারা সাইজুদ্দিন মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী আঁখিকে মারধর করে ডান হাত এবং ছোট ছেলে শান্তর পা ভেঙে ফেলে। মারধর শেষে তাদের একঘরে বন্দি করে রাখা হয়। তারা ‘৯৯৯’ এ ফোন দিলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। তাদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানার ইউএনও’র কাছে নিয়ে যায়। সব ঘটনা শুনে ইউএনও তাদের নিরাপদ স্থানে যাবার ব্যবস্থা করে দেন। এরপর তারা সিদ্ধিরগঞ্জে তার শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন। নিরাপত্তার কারণে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে না পেরে এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলাটি যথাযথভাবে তদন্ত না করেই রূপগঞ্জ থানার এসআই সিরাজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। যে কারণে হামলাকারীরা দ্রুত জামিন পেয়ে যান। আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন সাইজুদ্দিন মিয়া। নারাজির প্রেক্ষিতে আদালতে মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সাইজুদ্দিন মিয়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানরা ঘরে থাকা সিন্দুক ভেঙে দলিলপত্র, এনআইডি কার্ড এবং ব্যাংকের চেক বইসহ জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যায়। এমনকি দুই মিলে উৎপাদিত ২ কোটি টাকা মূল্যের কাপড় বাজারে মাত্র ১ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে অবাধ্য ওই সন্তানদের কব্জায় তার দু’টি মিলসহ স্থাবর সম্পত্তিগুলো রয়েছে। পিতার ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম- এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে বলে ফোন কেটে দেন। এ ব্যাপারে সাইজুদ্দিন মিয়ার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপগঞ্জ থানার এসআই সিরাজ বলেন, আমি মামলাটি তদন্ত করে গত মাসেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে দিয়েছি।  কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল কলি বলেন, শিল্পপতি সাইজুদ্দিন মিয়ার সঙ্গে তার প্রথম পক্ষের সন্তানদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওয়ারিশ হিসেবে বাবার কাছ থেকে সম্পদ পেতে তারা আমার দ্বারস্থ হয়েছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে সাইজুদ্দিন মিয়ার সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিষয়টির সুরাহা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রথম পক্ষের সন্তানরা এক মাস সময়ও অপেক্ষা করতে পারেনি। এর আগেই তারা বাবার ওপর হামলা করে বসে। ঘটনাটি দুঃখজনক।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ