০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে দিনমজুরের ঘরে বিমান!

  • Update Time : ০৫:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: আকাশে উড়ার দ্রুত গতির যান বিমান। যা তৈরি করতে প্রয়োজন হয় কোটি টাকার। কিন্তু সুনামগঞ্জের দিনমজুর পরিবারের সন্তান মানবিক বিভাগের মেধাবী কলেজ ছাত্র ঝুটন সম্রাট যীশু গুগল ও ইউটিউব দেখে তৈরি করেছেন একটি মিনি বিমান। সেই বিমান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ। সুনামগঞ্জের খরচার হাওরপাড়ের বিশম্ভরপুরের প্যারীনগর গ্রামের দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবার গোপেন্দ্র চন্দ্র দাস ও গৃহিনী ইলা রানী দাসের তিন সন্তানের মধ্যে ঝুটন সম্রাট দ্বিতীয়। ঝুটন বর্তমানে এলাকার দিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি বিষয়ে তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। এক মাস আগে তিনি ৩ ফুট লম্বা, ৪ ফুট ডানা বিশিষ্ট একটি বিমান তৈরি করেন। ককসিট দিয়ে তৈরি মূল বডিতে ব্যবহার করে ট্রান্সমিটার, রিসিভার, লিপো ব্যাটারি, কন্ট্রোলিং করার জন্য চারটি সারভো মটর। শক্তির জন্য ব্রাসলেস মোটর ও ছোট ফ্যান। একটি রিমোট দিয়ে সেটা আকাশে উড়ানো হচ্ছে। মিনি বিমানটি প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে আধাঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে। তবে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজের তৈরি মিনি বিমানটি রাখার মত জায়গা নেই ঝুটনের ঘরে। অযত্নে ফেলে রাখা হয় রান্না ঘরের লাখড়ির স্তুপের ওপরে। তার কলেজের শিক্ষক, পরিবার ও প্রতিবেশিদের দাবি সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সে ভালো কিছু করার সুযোগ পেত এবং তার প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। ঝুটনের সহপাঠী সাগর বিশ্বাস বলেন, ‘ঝুটন ছোট থাকতেই নানা জিনিস তৈরি করতো। এখন সে একটি বিমান তৈরি করছে এবং সেটি সুন্দরভাবে আকাশে উড়ছে। এতে সেও খুশি, আমরা অনেক খুশি। তবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ায় অর্থের অভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না তার। সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা করলে সে দেশের জন্য ভাল কিছু করতে পারতো। আরেক সহপাঠী পিপাস দাস বলেন, ‘ঝুটন নানান যন্ত্রপাতি কিনে স্পিটবোড, ড্রোনসহ অনেক কিছুই তৈরি করছে। কিন্তু খুব কষ্ট করে টাকা জমিয়ে সে এসব জিনিস তৈরি করে। তবে টাকার অভাবে ভালো কিছু করতে পারছে না সে।’ ঝুটন সম্রাট যীশুর বড় ভাই ঝলক রাজা অপি জানিয়েছেন, ঝুটন ছোট থেকেই অনেক কিছু তৈরি করে। কিন্তু আমরা শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান। আমাদের তিন ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচই আমরা ঠিকমত জোগাড় করতে পারি না। এসব জিনিস তৈরিতে খরচ করার মত কোন টাকা আমাদের নেই। তারপরও ঝুটন টাকা জমিয়ে অনেক কিছু তৈরি করে। ভালো কিছু করতে হলে অবশ্যই তাকে পৃষ্টপোষকতা করতে হবে। ঝুটন সম্রাট যীশুর মা ইলা রানী দাস বলেন, ‘আমার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে সিলেটে কলেজে পড়ে। দ্বিতীয় ছেলে ঝুটন কলেজে এইসএসসিতে পড়েন। ছোট মেয়েটা হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়েন। তাদের বাবা কৃষি কাজ করে। কাজ করেই আমাদের সংসার চলে। ঝুটন নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই স্পিটবোট, গাড়ি, ড্রোন বানায়। এখন একটা বিমান বানাইছে। তবে আমরা তাকে ঠিকমত টাকা দিতে পারি না। আমি কিছু দেই, তার মামা কিছু দেয়। এই টাকা দিয়া অনলাইনে জিনিসপত্র এনে বিমান বানাইছে। টাকা-পয়সার অভাবে ভাল কিছু বানাইতে পারে না।’ মিনি বিমানের উদ্ভাবক শিক্ষার্থী ঝুটন সম্রাট যীশু বলেন, ‘এক মাস ধরে এটা আমি আকাশে উড়াচ্ছি। স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে এটা তৈরি করেছি। এটা দিয়ে কৃষি জমিতে সার-বীজ-কীটনাশক প্রয়োগ করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে আমি হাওরের কৃষি কাজের জন্য ও আকাশে চড়া যায় এমন ছোট যাত্রীবাহী বিমান তৈরি করতে চাই। কিন্তু সরকারি পৃষ্টপোষকতা ছাড়া এসব কাজ কোনভাবে করা সম্ভব না।’ দিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান বললেন, আমাদের কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র ঝুটনের উদ্ভাবণী শক্তি প্রশংসার দাবিদার। পড়াশোনার বাহির যে তার সৃজনশীল একটা মন ও মেধা রয়েছে সেটা তরুণ সমাজের জন্য একটা বিশেষ বার্তা। কারণ বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় নষ্ট করে কিন্তু সে সৃষ্টিশীল কাজে মনযোগ দিচ্ছে। তার এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনী কাজে সরকারের পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। মিনি বিমান তৈরিকারক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝুটন সম্রাট যীশুর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকার সহযোগিতা করা হবে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাদি উর রহিম জাদিদ জানিয়েছেন, মিনি বিমান তৈরিকারক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝুটন সম্রাট যীশুর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সব সহযোগিতা করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে দিনমজুরের ঘরে বিমান!

Update Time : ০৫:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

ডেস্ক রিপোর্ট :: আকাশে উড়ার দ্রুত গতির যান বিমান। যা তৈরি করতে প্রয়োজন হয় কোটি টাকার। কিন্তু সুনামগঞ্জের দিনমজুর পরিবারের সন্তান মানবিক বিভাগের মেধাবী কলেজ ছাত্র ঝুটন সম্রাট যীশু গুগল ও ইউটিউব দেখে তৈরি করেছেন একটি মিনি বিমান। সেই বিমান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ। সুনামগঞ্জের খরচার হাওরপাড়ের বিশম্ভরপুরের প্যারীনগর গ্রামের দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবার গোপেন্দ্র চন্দ্র দাস ও গৃহিনী ইলা রানী দাসের তিন সন্তানের মধ্যে ঝুটন সম্রাট দ্বিতীয়। ঝুটন বর্তমানে এলাকার দিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রযুক্তি বিষয়ে তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। এক মাস আগে তিনি ৩ ফুট লম্বা, ৪ ফুট ডানা বিশিষ্ট একটি বিমান তৈরি করেন। ককসিট দিয়ে তৈরি মূল বডিতে ব্যবহার করে ট্রান্সমিটার, রিসিভার, লিপো ব্যাটারি, কন্ট্রোলিং করার জন্য চারটি সারভো মটর। শক্তির জন্য ব্রাসলেস মোটর ও ছোট ফ্যান। একটি রিমোট দিয়ে সেটা আকাশে উড়ানো হচ্ছে। মিনি বিমানটি প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে আধাঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে। তবে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় নিজের তৈরি মিনি বিমানটি রাখার মত জায়গা নেই ঝুটনের ঘরে। অযত্নে ফেলে রাখা হয় রান্না ঘরের লাখড়ির স্তুপের ওপরে। তার কলেজের শিক্ষক, পরিবার ও প্রতিবেশিদের দাবি সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সে ভালো কিছু করার সুযোগ পেত এবং তার প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। ঝুটনের সহপাঠী সাগর বিশ্বাস বলেন, ‘ঝুটন ছোট থাকতেই নানা জিনিস তৈরি করতো। এখন সে একটি বিমান তৈরি করছে এবং সেটি সুন্দরভাবে আকাশে উড়ছে। এতে সেও খুশি, আমরা অনেক খুশি। তবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ায় অর্থের অভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না তার। সরকারিভাবে পৃষ্টপোষকতা করলে সে দেশের জন্য ভাল কিছু করতে পারতো। আরেক সহপাঠী পিপাস দাস বলেন, ‘ঝুটন নানান যন্ত্রপাতি কিনে স্পিটবোড, ড্রোনসহ অনেক কিছুই তৈরি করছে। কিন্তু খুব কষ্ট করে টাকা জমিয়ে সে এসব জিনিস তৈরি করে। তবে টাকার অভাবে ভালো কিছু করতে পারছে না সে।’ ঝুটন সম্রাট যীশুর বড় ভাই ঝলক রাজা অপি জানিয়েছেন, ঝুটন ছোট থেকেই অনেক কিছু তৈরি করে। কিন্তু আমরা শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান। আমাদের তিন ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচই আমরা ঠিকমত জোগাড় করতে পারি না। এসব জিনিস তৈরিতে খরচ করার মত কোন টাকা আমাদের নেই। তারপরও ঝুটন টাকা জমিয়ে অনেক কিছু তৈরি করে। ভালো কিছু করতে হলে অবশ্যই তাকে পৃষ্টপোষকতা করতে হবে। ঝুটন সম্রাট যীশুর মা ইলা রানী দাস বলেন, ‘আমার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে সিলেটে কলেজে পড়ে। দ্বিতীয় ছেলে ঝুটন কলেজে এইসএসসিতে পড়েন। ছোট মেয়েটা হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়েন। তাদের বাবা কৃষি কাজ করে। কাজ করেই আমাদের সংসার চলে। ঝুটন নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই স্পিটবোট, গাড়ি, ড্রোন বানায়। এখন একটা বিমান বানাইছে। তবে আমরা তাকে ঠিকমত টাকা দিতে পারি না। আমি কিছু দেই, তার মামা কিছু দেয়। এই টাকা দিয়া অনলাইনে জিনিসপত্র এনে বিমান বানাইছে। টাকা-পয়সার অভাবে ভাল কিছু বানাইতে পারে না।’ মিনি বিমানের উদ্ভাবক শিক্ষার্থী ঝুটন সম্রাট যীশু বলেন, ‘এক মাস ধরে এটা আমি আকাশে উড়াচ্ছি। স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে এটা তৈরি করেছি। এটা দিয়ে কৃষি জমিতে সার-বীজ-কীটনাশক প্রয়োগ করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে আমি হাওরের কৃষি কাজের জন্য ও আকাশে চড়া যায় এমন ছোট যাত্রীবাহী বিমান তৈরি করতে চাই। কিন্তু সরকারি পৃষ্টপোষকতা ছাড়া এসব কাজ কোনভাবে করা সম্ভব না।’ দিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান বললেন, আমাদের কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র ঝুটনের উদ্ভাবণী শক্তি প্রশংসার দাবিদার। পড়াশোনার বাহির যে তার সৃজনশীল একটা মন ও মেধা রয়েছে সেটা তরুণ সমাজের জন্য একটা বিশেষ বার্তা। কারণ বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় নষ্ট করে কিন্তু সে সৃষ্টিশীল কাজে মনযোগ দিচ্ছে। তার এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনী কাজে সরকারের পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। মিনি বিমান তৈরিকারক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝুটন সম্রাট যীশুর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকার সহযোগিতা করা হবে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাদি উর রহিম জাদিদ জানিয়েছেন, মিনি বিমান তৈরিকারক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝুটন সম্রাট যীশুর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সব সহযোগিতা করা হবে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ