০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হযরত “হুজুর” মানে কী? : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০২:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আলেম-উলামা মাশায়েখদের নামের পূর্বে উনাদের সম্মানার্থে “হযরত” ব্যবহার করার রীতি আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত।আম্বিয়ায়ে কেরাম-সাহাবাদের নামের পূর্বে ও “হযরত’ যুক্ত করা হয়।
অপরদিকে আলেম-উলামা ইমাম- হাফেজদের “হুজুর”উপাধি দিয়ে ডাকা আমাদের সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ।

রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে ও হুজুরে আকরাম (সঃ) বলা হয়ে থাকে।রাসুলুল্লাহ কে হযরত বা হুজুর ডাকা জায়েয নয় ফতোয়া প্রদান করে কিছু সংখ্যক ভাইয়েরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি থাকেন। মুলতঃ হযরত ও হুজুরের মুল অর্থ অনুধাবন করলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিভ্রান্তির অবসান হবে। “হযরত ও হুজুর” শব্দের মুল অর্থ উপস্থিতি।
অভিধানিক ভাবে হযরত শব্দের প্রয়োগ দু’ভাবে করা হয়,,

 

১- মর্যাদাবান ব্যক্তির জন্য ব্যবহার হয়, যার জীবনের পরতে পরতে উত্তম চরিত্র উপস্থিত। যেমন বলা হয়, الحضرة العالي تامر بكذا،،،،،(المنجد

 

২-এমন লোকদের জন্য প্রয়োগ হয়,যাদের কাছে লোকজন উপস্থিত ও একত্রিত হয়। (মিসবাহুল লুগাত) বর্তমানে হযরত শব্দের প্রয়োগ সম্মানীত অর্থেই হয়ে থাকে।

ঠিক তেমনি “হুজুর” শব্দ সম্মানার্থে ব্যবহার হয়,মুলত এতদঞ্চলে শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে মোগল আমল থেকে।
রাজা বাদশাহ ও বিচারকের দরবারে কারো উপস্থিতি জানান দিতে উচ্চকণ্ঠে ঘোষক ঘোষণা করত “হাজির’। তা থেকেই এমন ধর্মীয় মর্যাদাবান ব্যক্তি যার ডাকে সাড়া দেয়া উচিত,তাকে হুজুর বলা হয়।
অনেকের মতে যে ব্যক্তি স্বসম্মানে আমন্ত্রিত
হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন,উনিই হুজুর।

হযরত ও হুজুর শব্দদ্বয় নিছক সম্মান ও মর্যাদা অর্থে সংযুক্ত করা হয়, আমাদের সমাজে রাসুলুল্লাহ সঃ ও ওলি- আউলিয়াগনকে হযরত বা হুজুর সম্বোধন করে তারা হাজির-নাজির কেউ বিশ্বাস করেনা বিধায় তা প্রয়োগ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ নয়।

তবে কেউ যদি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে হাজিরনাজির বিশ্বাস করে শব্দদ্বয় প্রয়োগ করে, তা শুধু না জায়েজ নয়, কাবিরা গুনাহ ও
তাওহীদ পরিপন্থী হবে। আল্লাহ আমাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বনের তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

হযরত “হুজুর” মানে কী? : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০২:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

আলেম-উলামা মাশায়েখদের নামের পূর্বে উনাদের সম্মানার্থে “হযরত” ব্যবহার করার রীতি আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত।আম্বিয়ায়ে কেরাম-সাহাবাদের নামের পূর্বে ও “হযরত’ যুক্ত করা হয়।
অপরদিকে আলেম-উলামা ইমাম- হাফেজদের “হুজুর”উপাধি দিয়ে ডাকা আমাদের সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ।

রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে ও হুজুরে আকরাম (সঃ) বলা হয়ে থাকে।রাসুলুল্লাহ কে হযরত বা হুজুর ডাকা জায়েয নয় ফতোয়া প্রদান করে কিছু সংখ্যক ভাইয়েরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি থাকেন। মুলতঃ হযরত ও হুজুরের মুল অর্থ অনুধাবন করলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিভ্রান্তির অবসান হবে। “হযরত ও হুজুর” শব্দের মুল অর্থ উপস্থিতি।
অভিধানিক ভাবে হযরত শব্দের প্রয়োগ দু’ভাবে করা হয়,,

 

১- মর্যাদাবান ব্যক্তির জন্য ব্যবহার হয়, যার জীবনের পরতে পরতে উত্তম চরিত্র উপস্থিত। যেমন বলা হয়, الحضرة العالي تامر بكذا،،،،،(المنجد

 

২-এমন লোকদের জন্য প্রয়োগ হয়,যাদের কাছে লোকজন উপস্থিত ও একত্রিত হয়। (মিসবাহুল লুগাত) বর্তমানে হযরত শব্দের প্রয়োগ সম্মানীত অর্থেই হয়ে থাকে।

ঠিক তেমনি “হুজুর” শব্দ সম্মানার্থে ব্যবহার হয়,মুলত এতদঞ্চলে শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে মোগল আমল থেকে।
রাজা বাদশাহ ও বিচারকের দরবারে কারো উপস্থিতি জানান দিতে উচ্চকণ্ঠে ঘোষক ঘোষণা করত “হাজির’। তা থেকেই এমন ধর্মীয় মর্যাদাবান ব্যক্তি যার ডাকে সাড়া দেয়া উচিত,তাকে হুজুর বলা হয়।
অনেকের মতে যে ব্যক্তি স্বসম্মানে আমন্ত্রিত
হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন,উনিই হুজুর।

হযরত ও হুজুর শব্দদ্বয় নিছক সম্মান ও মর্যাদা অর্থে সংযুক্ত করা হয়, আমাদের সমাজে রাসুলুল্লাহ সঃ ও ওলি- আউলিয়াগনকে হযরত বা হুজুর সম্বোধন করে তারা হাজির-নাজির কেউ বিশ্বাস করেনা বিধায় তা প্রয়োগ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ নয়।

তবে কেউ যদি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে হাজিরনাজির বিশ্বাস করে শব্দদ্বয় প্রয়োগ করে, তা শুধু না জায়েজ নয়, কাবিরা গুনাহ ও
তাওহীদ পরিপন্থী হবে। আল্লাহ আমাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বনের তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ