প্রিয় নবী (সঃ) জন্মবার সোমবারে রোজা রেখেছেন, রোজা রেখে ঈদ পালন কিভাবে? : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০৩:২৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১
- / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
রাসুলুল্লাহ (সঃ) প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন,এর কারণ বর্ননা করে প্রিয়নবী (সঃ) বলেন, আমি সোমবারে জন্ম গ্রহণ করেছি এ জন্য রোজা রাখি। (মুসলিম)। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জন্মবার পালন করার একমাত্র সুন্নাহ পদ্ধতি সোমবার রোজা রাখা। আমাদের বিষয়টি বুঝা দরকার, জন্মের বার প্রতি সপ্তাহে আসে, এটাকে জন্মবার বলে আর জন্মদিন বছরে একদিন আসে, যেদিন বেশিরভাগ সময়েই বার ঠিক থাকেনা। প্রিয় নবী সঃ রোজা রেখে জন্মবার পালন করেছেন কখনো জন্মদিন পালন করেননি। এছাড়া সাহাবায়ে কেরাম যারা নবীজিকে জীবনের চেয়ে ভালোবাসতেন কেউই ঈদে
মিলাদুন্নবী উদযাপন করেনি। এতদ্বিত ১২ রবিউল আউয়াল প্রিয় নবী (সঃ) জন্মগ্রহণ করেছেন।একটি সাহীহ হাদীস দ্ধারা এর প্রমাণ নেই।সীরাতের কিতাব সমুহে এব্যাপারে অনেক মতামত রয়েছে। খৃষ্টানদের মত রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জন্মদিনকে যাতে মুসলমানগণ উৎসবের দিন না করতে পারে, এজন্য হয়তো আল্লাহ পাক তা লুকিয়ে রেখেছেন।
এজন্যই ১২ রবিউল আউয়াল রোজা রাখার কোন সুযোগ শরীয়তে নেই। প্রিয় নবী যেহেতু জন্মবারে রোজা রেখেছেন, প্রতি বছর জন্মদিনে রোজা রাখেননি। তাই নিজেদের ইচ্ছামত প্রিয় নবীর জন্মদিন বানিয়ে রোজার রাখা ও শরীয়ত পরিপন্থী।
আলোচনার স্বার্থে যদি আমরা ধরে নেই,১২ রবিউল আউয়াল প্রিয় নবীর (সঃ)জন্মদিন, তাহলে তো সুন্নাহ মোতাবেক তা রোজা রাখার মাধ্যমে পালন করতে হবে।কখনো ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে নয়। রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জন্মদিন তো কখনো ঈদের দিন হতে পারেনা,কারণ ঈদের দিন রোজা রাখা জায়েজ নয়, ঈদুল ফিতর ও আযহায় রোজা রাখা হারাম। অথচ নবীজি নিজ জন্মবারে রোজা রেখে উম্মাহকে এ ম্যাসেজই দিয়েছেন, আমার জন্মবার ও জন্মদিন কখনো ঈদের দিন নয়।
দ্বিতীয়তঃ জুমআ ও ঈদের নামাজের মধ্যে বিশেষ মিল রয়েছে। ★উভয় নামাজেই ব্যাপক উপস্থিতি হয়।★উভয় নামাজেই খুতবা প্রদান করা হয়।★উভয় নামাজ দুরাকাতের। ★ উভয় নামাজের পুর্বে গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহার মুস্তাহাব।
আর এ মিলের কারণেই জুমাবারকে মুসলিম উম্মাহের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ঈদেরদিনে যেভাবে রোজা রাখা নিষেধ, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সঃ) জুমআ দিবসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
لا تخصو يوم الجمعه بصيام من بين الايام
(مسلم)
“তোমারা দিনসমুহের মধ্যে জুমআর দিনকে রোজার জন্য বিশেষিত করিওনা।”
রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জন্মদিনের যদি জুমআর মত ঈদের সাথে সামান্যতম মিল থাকত তা হলে নবীজি এদিনে রোজা রাখতেননা।
তৃতীয়তঃ ইয়াহুদীদের সাপ্তাহিক উৎসবের দিন শনিবার, নাসারাদের রবিবার। যুক্তির নিরিখে পরবর্তী উম্মত হিসেবে সোমবার আমাদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে শুক্রবার করার কারণ হচ্ছে দুটি।
যাতে ইয়াহুদী-নাছাড়ার মত মুসলমানগণ নিজেদের নবীর জন্মবারকে উৎসবের দিনে রুপান্তরিত না করে। সোমবার সাপ্তাহিক ঈদের দিন হলে উৎসবের সু্যোগ মিলে যেত। দ্বিতীয়তঃ সোমবার রোজা রাখা রাসুলুল্লাহ সঃ এর সুন্নাহ। সোমবার সাপ্তাহিক ঈদের দিন রাখা হলে উৎসবের দিনে রোজা রাখা সামঞ্জস্যপুর্ন নয়। তাই সোমবার সুন্নাহ সম্মত রোজা রাখার দিনে সাপ্তাহিক ঈদ না রেখে এগিয়ে আনা হয়েছে। এতেই প্রতীয়মান হয়,প্রিয় নবীর জন্মদিন ঈদের বা উৎসব পালনের নয়, এটিই শরীয়তের মেজায ও নির্দেশনা।রাসুলুল্লাহর জন্মের দিনে একজন মুসলমান ব্যাক্তিগতভাবে আনন্দিত হতে পারে, তা তার মনের ব্যাপার, কিন্তু সম্মিলিত আনন্দের প্রকাশ, ঈদ উদযাপন শরীয়ত বিরুধী। তাতে সন্দেহ নেই।নআল্লাহ আমাদের সত্য বুঝার তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট।




























