১১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

  • Update Time : ০২:৩৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ আগস্ট ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মো. আবুল কাশেম :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সাবিনা বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধুর রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। সাবিনা বেগম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর লামারচক গ্রামের মতি উল্লার ২য় মেয়ে। গত শনিবার সকাল ৮ টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার চন্ডি হেদায়েতপুর (পীরেরগাঁও) গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তার পিত্রালয়ের দাবি তাকে তার স্বামী গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। এই গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে দুই উপজেলায় রহসের সৃষ্টি হয়েছে। সাবিনার মা করফুলা বিবি জানান, প্রায় ১১ বছর পূর্বে জগন্নাথপুর উপজেলার চন্ডি হেদায়েতপুর (পীরের গাঁও) গ্রামের হুরমত আলীর ছেলে আলী হোসেনের সাথে সাবিনা বেগমকে ইসলামি সরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ দেন। বিবাহের পর থেকেই স্বামী আলী হোসেনের সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। প্রায়ই তার শশুর বাড়ি থেকে কখনও বিকাশের মাধ্যমে আবার কখনও সরাসরি টাকা নিতেন। কখনও তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারলে স্ত্রী সাবিনাকে নানা ভাবে নির্যাতন করত। এনিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়েছে। সাবিনার মৃত্যুর ১৫দিন আগেও তাকে স্বামী বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছিল। এসব নির্যাতনের বেশ প্রমানও রয়েছে। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে সাবিনা আত্মহত্যা করেছে এমন খবর আসে তার পিত্রালয়ে। সেখানে গিয়ে সাবিনাকে একটি খাটের উপর শুয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। তার গলায় একটি রশির চিহ্ন রয়েছে এবং সাবিনা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করতে থাকে তার স্বামী। সাবিনার মা ও উপস্থিত অনেকেরই প্রশ্ন সাবিনা যদি আত্মহত্যাই করে থাকে তবে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা দেখতে পায়নি পুলিশসহ আশ-পাশের কেউই। তাছাড়া আত্মহত্যা করলে তার গলার শ্বাস নালির উপরে রশির দাগ থাকার কথা। কিন্তু এ দাগ তার গলার শ্বাস নালির অনেক নিছে রয়েছে। যা দেখলেই বুঝা যায়, এটি আত্মহত্যা নয় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। এদিকে, সাবিনার ৫ বছরের কন্যা শিশু ছামিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলছে, ‘আমার আম্মারে আমার আব্বায় গলাত রছি লাগাইয়া মারিলিছইন, ‘আমি দেইক্কা কানছি। বাদে আমারে দোকান নিয়া ছকলেট লইয়া দিছইন। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানা একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে। সাবিনার স্বামী আলী হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তার পরও পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে বুঝা ঝাবে হত্যা না আত্মহত্যা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

Update Time : ০২:৩৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ আগস্ট ২০২১

মো. আবুল কাশেম :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সাবিনা বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধুর রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। সাবিনা বেগম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর লামারচক গ্রামের মতি উল্লার ২য় মেয়ে। গত শনিবার সকাল ৮ টার দিকে জগন্নাথপুর উপজেলার চন্ডি হেদায়েতপুর (পীরেরগাঁও) গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তার পিত্রালয়ের দাবি তাকে তার স্বামী গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। এই গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে দুই উপজেলায় রহসের সৃষ্টি হয়েছে। সাবিনার মা করফুলা বিবি জানান, প্রায় ১১ বছর পূর্বে জগন্নাথপুর উপজেলার চন্ডি হেদায়েতপুর (পীরের গাঁও) গ্রামের হুরমত আলীর ছেলে আলী হোসেনের সাথে সাবিনা বেগমকে ইসলামি সরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ দেন। বিবাহের পর থেকেই স্বামী আলী হোসেনের সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। প্রায়ই তার শশুর বাড়ি থেকে কখনও বিকাশের মাধ্যমে আবার কখনও সরাসরি টাকা নিতেন। কখনও তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারলে স্ত্রী সাবিনাকে নানা ভাবে নির্যাতন করত। এনিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়েছে। সাবিনার মৃত্যুর ১৫দিন আগেও তাকে স্বামী বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছিল। এসব নির্যাতনের বেশ প্রমানও রয়েছে। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে সাবিনা আত্মহত্যা করেছে এমন খবর আসে তার পিত্রালয়ে। সেখানে গিয়ে সাবিনাকে একটি খাটের উপর শুয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। তার গলায় একটি রশির চিহ্ন রয়েছে এবং সাবিনা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করতে থাকে তার স্বামী। সাবিনার মা ও উপস্থিত অনেকেরই প্রশ্ন সাবিনা যদি আত্মহত্যাই করে থাকে তবে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা দেখতে পায়নি পুলিশসহ আশ-পাশের কেউই। তাছাড়া আত্মহত্যা করলে তার গলার শ্বাস নালির উপরে রশির দাগ থাকার কথা। কিন্তু এ দাগ তার গলার শ্বাস নালির অনেক নিছে রয়েছে। যা দেখলেই বুঝা যায়, এটি আত্মহত্যা নয় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। এদিকে, সাবিনার ৫ বছরের কন্যা শিশু ছামিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলছে, ‘আমার আম্মারে আমার আব্বায় গলাত রছি লাগাইয়া মারিলিছইন, ‘আমি দেইক্কা কানছি। বাদে আমারে দোকান নিয়া ছকলেট লইয়া দিছইন। এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানা একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হয়েছে। সাবিনার স্বামী আলী হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। তার পরও পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে বুঝা ঝাবে হত্যা না আত্মহত্যা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ