১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তীর খেলার এজেন্টের দাম্ভিক উচ্চারণ যা খুশি লেখেন, জীবনেও জেলে যাইনি আমি জেলে যেতে চাই

  • Update Time : ০৮:২৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭
  • / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :: ভারতের শিলং থেকে পরিচালিত অনলাইন ভিত্তিক তীর খেলার অন্যমত এজেন্ট সাইদুল হক দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলার মাহমদপুর এলাকায় খেলা পরিচালনা করে। অবৈধ এ খেলার পরিচালক সাইদুল হক এ খেলার সাথে জড়িত কি না তা জানতে চেয়ে চলতি মাসের ০৬ তারিখ রাত ৮টা ০৭ মিনিটে ও ০৭ তারিখ বিকাল ৪টা ৩৩ মিনিটে দুইবার ফোন করা হয় তার মুঠোফোনে। যথাক্রমে ৩ মিনিট ৪২ ও ৪ মিনিট ১৯ সেকেন্ড কথা হয় তার সাথে। দুইবার কথোপকথনের পুরোটা সময়ই ছিলো তার দাম্ভিকতায় ভরা। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরই সে প্রথমে কথা বলতে অপারগতা দেখায়। পরে কথা বললেও শালীনতার সাথে কোনো কথাই সে বলেনি। তীর খেলার সাথে জড়িত আছেন কি না জানতে চাইলে উত্তরে সে বলে- আমি খেলি। আগে এজেন্ট ছিলাম, এখন শুধু খেলি। আমাদের কাছে যতেষ্ট প্রমাণ আছে জানালে সে উত্তরে বলে- যা খুশি লেখেন। গত বছরের শেষের দিকে  একবার ডিবি ধরে নিয়ে গেছে, কিন্তু জেলে পাঠায় নি। জীবনেও জেল যাইনি। জেলে যেতে চাই। শালীনভাবে কথা বলার অনুরোধ করলে লাইন কেটে দেয়।

 

 

সাইদুল হক (২৪) মাহমদপুর পয়েন্ট এলাকার  তফজ্জল হকের ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ মাহমদপুর পয়েন্টে থেকে অবৈধ এ খেলা পরিচালনা করে আসছে। তার মাধ্যমে উপজেলার আনাচে কানাছে ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ এ খেলা। এ খেলাকে ছড়িয়ে দিতে ফেইসবুকেও প্রচার চালাচ্ছে সে। ০১৭৬৮ ৩২৮৫১০ এই নাম্বার দিয়ে খোলা ফেইচবুক একাউন্টের নাম SK Back. এসবের ফলে দেশিয় অনেক অর্থ নিষিদ্ধ পথে চলে যাচ্ছে ভারতে। যার ফলে সমাজে অস্থিতিশীল অবস্থার তৈরি হয়েছে। যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে দাবিত হচ্ছে। ঘর থেকে প্রয়োজনের কথা বলে টাকা এনে তীর খেলা নামক ভয়ঙ্কর এ জোয়া খেলায় ঢেলে দিচ্ছে অনেকে।

 

 

জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সিন্ডকেটের সাথে এলাকার অনেক প্রভাবশালীরাও জড়িত। পুলিশ প্রশাসনের সাথেও নাকি আছে তাদের গোপন যোগসাজশ। এ কথার প্রমাণ মিলে প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায়। তা না হলে সমাজের সকলের চোখে আঙ্গুল দিয়ে, প্রশাসনের নাকের ঢগার উপর দিয়ে কিভাবে তারা তাদের ভয়ঙ্কর এ জোয়া চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য যদিও পুলিশ বলছেন তারা বিষয়টি নিয়ে তৎপর। মাঝে মাঝে সামাজিকভাবে এই অবৈধ কর্মজজ্ঞকে থামাতে কয়েকজন যুবক মিলে চেষ্টা করলেও প্রকৃত ফল তারা পাচ্ছেন না। ইউনিয়রমন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিষদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তারা হতাশ।

 

 

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, মাত্র দুজন বা তিনজনের কারণে যুব সমাজ ধ্বংস হতে পারে না।  যারা যুব সমাজ ধ্বংসের পায়তারা করছে আর একটি বেড়ে উঠা জাতিকে বিপথগামী করছে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ।  যেসব প্রভাবশালী মহল তাদের আশ্রয় দিচ্ছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। তা না হলে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, তরুণ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা বিপথগামী হবে,

 

 

এ ব্যপারে পাগলা বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তীর খেলোয়ার সাইদুল তীর খেলার এজেন্ট এবং সে সাইদুলের কাছ থেকে রশিদ ক্রয় করে। সে বলে, আমি আগে খেলেছি। দেখেছি খেলাটি সমস্তটা একটা ধোকা। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আমাদের এলাকা থেকে ভারতে চলে যাচ্ছে। সরকারিভাবে যদি এটাকে দ্রুত বন্ধ করা না হয়, তাহলে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

 

পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্য সেবা বেন্দ্রের উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক মিলন বলেন, অন্যান্য নেশার থেকে বর্তমানে তীর খেলা একটি আরো বেশি খারাপ নেশা। এর কারণ প্রতিদিন টাকার প্রয়োজন। এলাকার কম বয়সী ছেলেরা থেকে শুরু করে বয়স্করা পর্যন্ত এ খেলার সাথে জড়িত। এতে করে যতো দিন যাচ্ছে তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে আগামীতে এলাকায় মারামারি, চুরি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হওয়ার আশংকা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত আছেন। কিছুদিন আগে চারজনকে ধরে নিয়ে গেলেও ঐদিন রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত খেলা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের কোন ভুমিকা দেখছিনা। এমন অবস্থা এখনি বন্ধ না করা হলে ভবিষৎ প্রজন্ম আরো বিপদগামী হবে।

 

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী এদের ধরতে অভিযান অভ্যাহত আছে জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি। অভ্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবো না আমরা। গত কয়দিন আগেও মাহমদপুরে অভিযান পরিচালনা করেছি, এখনো করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

তীর খেলার এজেন্টের দাম্ভিক উচ্চারণ যা খুশি লেখেন, জীবনেও জেলে যাইনি আমি জেলে যেতে চাই

Update Time : ০৮:২৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ :: ভারতের শিলং থেকে পরিচালিত অনলাইন ভিত্তিক তীর খেলার অন্যমত এজেন্ট সাইদুল হক দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলার মাহমদপুর এলাকায় খেলা পরিচালনা করে। অবৈধ এ খেলার পরিচালক সাইদুল হক এ খেলার সাথে জড়িত কি না তা জানতে চেয়ে চলতি মাসের ০৬ তারিখ রাত ৮টা ০৭ মিনিটে ও ০৭ তারিখ বিকাল ৪টা ৩৩ মিনিটে দুইবার ফোন করা হয় তার মুঠোফোনে। যথাক্রমে ৩ মিনিট ৪২ ও ৪ মিনিট ১৯ সেকেন্ড কথা হয় তার সাথে। দুইবার কথোপকথনের পুরোটা সময়ই ছিলো তার দাম্ভিকতায় ভরা। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরই সে প্রথমে কথা বলতে অপারগতা দেখায়। পরে কথা বললেও শালীনতার সাথে কোনো কথাই সে বলেনি। তীর খেলার সাথে জড়িত আছেন কি না জানতে চাইলে উত্তরে সে বলে- আমি খেলি। আগে এজেন্ট ছিলাম, এখন শুধু খেলি। আমাদের কাছে যতেষ্ট প্রমাণ আছে জানালে সে উত্তরে বলে- যা খুশি লেখেন। গত বছরের শেষের দিকে  একবার ডিবি ধরে নিয়ে গেছে, কিন্তু জেলে পাঠায় নি। জীবনেও জেল যাইনি। জেলে যেতে চাই। শালীনভাবে কথা বলার অনুরোধ করলে লাইন কেটে দেয়।

 

 

সাইদুল হক (২৪) মাহমদপুর পয়েন্ট এলাকার  তফজ্জল হকের ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ মাহমদপুর পয়েন্টে থেকে অবৈধ এ খেলা পরিচালনা করে আসছে। তার মাধ্যমে উপজেলার আনাচে কানাছে ছড়িয়ে পড়ছে নিষিদ্ধ এ খেলা। এ খেলাকে ছড়িয়ে দিতে ফেইসবুকেও প্রচার চালাচ্ছে সে। ০১৭৬৮ ৩২৮৫১০ এই নাম্বার দিয়ে খোলা ফেইচবুক একাউন্টের নাম SK Back. এসবের ফলে দেশিয় অনেক অর্থ নিষিদ্ধ পথে চলে যাচ্ছে ভারতে। যার ফলে সমাজে অস্থিতিশীল অবস্থার তৈরি হয়েছে। যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে দাবিত হচ্ছে। ঘর থেকে প্রয়োজনের কথা বলে টাকা এনে তীর খেলা নামক ভয়ঙ্কর এ জোয়া খেলায় ঢেলে দিচ্ছে অনেকে।

 

 

জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সিন্ডকেটের সাথে এলাকার অনেক প্রভাবশালীরাও জড়িত। পুলিশ প্রশাসনের সাথেও নাকি আছে তাদের গোপন যোগসাজশ। এ কথার প্রমাণ মিলে প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায়। তা না হলে সমাজের সকলের চোখে আঙ্গুল দিয়ে, প্রশাসনের নাকের ঢগার উপর দিয়ে কিভাবে তারা তাদের ভয়ঙ্কর এ জোয়া চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য যদিও পুলিশ বলছেন তারা বিষয়টি নিয়ে তৎপর। মাঝে মাঝে সামাজিকভাবে এই অবৈধ কর্মজজ্ঞকে থামাতে কয়েকজন যুবক মিলে চেষ্টা করলেও প্রকৃত ফল তারা পাচ্ছেন না। ইউনিয়রমন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিষদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তারা হতাশ।

 

 

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, মাত্র দুজন বা তিনজনের কারণে যুব সমাজ ধ্বংস হতে পারে না।  যারা যুব সমাজ ধ্বংসের পায়তারা করছে আর একটি বেড়ে উঠা জাতিকে বিপথগামী করছে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ।  যেসব প্রভাবশালী মহল তাদের আশ্রয় দিচ্ছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। তা না হলে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, তরুণ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা বিপথগামী হবে,

 

 

এ ব্যপারে পাগলা বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তীর খেলোয়ার সাইদুল তীর খেলার এজেন্ট এবং সে সাইদুলের কাছ থেকে রশিদ ক্রয় করে। সে বলে, আমি আগে খেলেছি। দেখেছি খেলাটি সমস্তটা একটা ধোকা। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আমাদের এলাকা থেকে ভারতে চলে যাচ্ছে। সরকারিভাবে যদি এটাকে দ্রুত বন্ধ করা না হয়, তাহলে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

 

পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ইউনিয়ন ডিজিটাল তথ্য সেবা বেন্দ্রের উদ্যোক্তা ওবায়দুল হক মিলন বলেন, অন্যান্য নেশার থেকে বর্তমানে তীর খেলা একটি আরো বেশি খারাপ নেশা। এর কারণ প্রতিদিন টাকার প্রয়োজন। এলাকার কম বয়সী ছেলেরা থেকে শুরু করে বয়স্করা পর্যন্ত এ খেলার সাথে জড়িত। এতে করে যতো দিন যাচ্ছে তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে আগামীতে এলাকায় মারামারি, চুরি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হওয়ার আশংকা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি অবগত আছেন। কিছুদিন আগে চারজনকে ধরে নিয়ে গেলেও ঐদিন রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত খেলা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের কোন ভুমিকা দেখছিনা। এমন অবস্থা এখনি বন্ধ না করা হলে ভবিষৎ প্রজন্ম আরো বিপদগামী হবে।

 

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী এদের ধরতে অভিযান অভ্যাহত আছে জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি। অভ্যাহতভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবো না আমরা। গত কয়দিন আগেও মাহমদপুরে অভিযান পরিচালনা করেছি, এখনো করছি।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ