আসুন করোনাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ১২:২৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ আগস্ট ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
চলমান করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় একটি ভুল
কথা সারা বিশ্বে প্রচার লাভ করেছে “সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখুন” অথচ কথাটি আমাদের মহান ইসলামের নীতি বিরুধী, মানবিকতা বিরুধী ও বটে। সমাজ জীবনে একে অপরকে সহযোগিতা করাই সামাজিকতা, অপর ভাইয়ের কঠিন পরিস্থিতিতে সামাজিক দায়িত্ব আরো বেড়ে
যায়, শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে সামাজিক
দায়িত্ব আদায় করা যায়, সামাজিক দুরত্বের অজুহাতে নিজের আত্নীয়-প্রতিবেশী করোনাক্রান্ত মানুষের এড়িয়ে চলা ইসলাম সমর্থিত নয়। প্রিয় নবী সঃ অসুস্থ ব্যক্তির খোজখবর নেয়া- শুশ্রূষা করার ক্ষেত্রে তার উম্মাতকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেছেন।
★ রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের হক পাঁচটি, সালামের জবাব দেয়া, রোগীকে দেখতে যাওয়া, জানাজায় শরিক হওয়া, দাওয়াত কবুল করা, হাঁচির জবাব দেয়া। (বুখারি)
★হজরত বারা ইবনে আজিব রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: আমাদের সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছে প্রথম, রোগীর শুশ্রষা করা; দ্বিতীয়, জানাজার পশ্চাতে চলা। তৃতীয়, হাঁচিদাতার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা; চতুর্থ, দুর্বল মানুষের সাহায্য করা। পঞ্চম, নিপীড়িত ব্যক্তিদের সাহায্য করা; ষষ্ঠ, সালামের প্রচার-প্রসার ঘটানো; সপ্তম, কসমকারীর কসমকে পুরা করতে সাহায্য করা। (বুখারি)
★ হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে যাওনি।’ বান্দা বলবে, আপনি তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আমি আপনাকে কিভাবে দেখতে যেতে পারি? আল্লাহ বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। তুমি তাকে দেখতে গেলে সেখানে আমাকে পেতে।’ (সহিহ মুসলিম) ইমাম নববী রহ: বলেন, তাঁর কাছে আমাকে পেতে অর্থ হচ্ছে, আমার পক্ষ থেকে সওয়াব ও রহমতপ্রাপ্ত হতে।
★হযরত সাওবান রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যখন কোনো মুসলিম তার (অসুস্থ) মুসলিম ভাইয়ের সেবায় নিয়োজিত হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফলবাগানে (তার ছায়ায়) অবস্থান করতে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম)
পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের কেউ অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেয়ার ব্যাপারে অবহেলা করা উচিত নয়। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রোগীকে সাহস জোগাবে, তার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করবে।
করোনাক্রান্ত রোগীদের আমরা যেভাবে সহযোগিতা করতে পারি।
&মাস্ক ব্যবহার করে রোগীর পাশে দাড়িয়ে অথবা দূর থেকে ও দোয়া করা। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: রোগী দেখে সাতবার এই দোয়া পাঠ করতেন
اسأل الله العظيم رب العرش العظيم أن يشفيك
(অর্থ) আমি মহান আল্লাহর কাছে যিনি মহা আরশের প্রতিপালক তোমার সুস্থতা কামনা করছি।’ (সুনানে তিরমিজি)
& রোগীও তাঁর আত্নীয় স্বজনকে সান্ত্বনা দেয়া,,
যত বড় রোগ হোক তাকে ধৈর্যধারণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া। আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যধারণকারীদের জন্য বিশাল পুরস্কার রেখে দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘মুসলমান ব্যক্তির ওপর যে সব বিপদ-আপদ আপতিত হয় এর দ্বারা আল্লাহ তার পাপ মোচন করে দেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে বিদ্ধ হয় এর দ্বারাও।’ (সহিহ বুখারি)
& রোগীর কাছ থেকে দোয়া চাওয়া : যেকোনো রোগীর কাছে নিজের জন্য দোয়া চেয়ে নেবে। কারণ, হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: তাঁকে বলেন, ‘যখন তুমি কোনো রোগীর কাছে যাবে, তাকে বলবে তোমার জন্য দোয়া করতে। কেননা, তার দোয়া ফেরেশতাদের দোয়ার মতো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)
& অক্সিজেন, আর্থিক সহযোগিতা করা প্রিয় নবী সঃ বলেন, আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ বান্দাহ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে (মুসলিম)
& করোনাক্রান্তদের পাশে নিজে দাড়ানো,অন্যদের উৎসাহ প্রদান। প্রিয় নবী সঃ বলেন, ভালো ও কল্যাণকর কাজের প্রতি নির্দেশনা প্রদান, কল্যাণ মুলক কাজ সম্পাদনের ন্যায়। (তিরমিজি) আসুন, করোক্রান্ত মানুষের পার্শ্বে দাড়াই,ইহ-পরকালীন কল্যাণ লাভ করি। আল্লাহ তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



















