০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে আব্দুস সামাদ আজাদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণের দাবী

  • Update Time : ১১:২১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

শাহীন তালুকদার :: ভাষা সৈনিক মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদকে একমাত্র স্বাধীনতা পুরস্কার ব্যাতিত রাষ্ট্রীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কোন সম্মান জানানো হয়নি। তার স্মৃতি রক্ষায় কোন সরকারি স্থাপনা বা প্রতিষ্টানে নামকরণ করা হয়নি। যদি ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী সহ অসংখ্য প্রয়াত জাতীয় নেতৃবৃন্দের নামে অনেক সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্টানে নামকরণ করে তাদের স্মৃতির প্রতি রাষ্ট্র সম্মান জানিয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর নামে অনেক সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্টানে নামকরণ করা হয়েছে।

 

 

সামাদ আজাদ ত্রিকালদর্শী দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসাবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। রাজনীতির কঠিন সময়ে মেধা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় বার বার দিয়েছেন। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোশতাকের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত হিসাবে সারা বিশ্ব চষে বেড়িয়ে বিশ্ব জনমত আদায় করতে সমর্থ হয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে কম সময়ের মধ্যে বেশীর ভাগ দেশের স্বীকৃতি আদায় করে কুটনৈতিক সফলতা অর্জন করেছিলেন।

 

৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামাদ আজাদ খুনীদের সাথে হাত মিলাননি। কারাগারকে বেছে নিয়েছিলেন। ৩ রা নভেম্বর কারাগারের ভিতরে খুনিরা জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করলেও সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেচে যান। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে আসেন।

 

পরবর্তীতে অবৈধ সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার শাসন আমলে আওয়ামীলীগের ঐক্যে ফাটল দেখা দিলে তিনি সৈয়দা জহুরা তাজ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলীগকে আগলে রাখেন এবং সংগঠিত করেন। ৮১ সালে অনুষ্টিত কাউন্সিল অধিবেশনে সামাদ আজাদ দলের ঐক্যের প্রতীক হিসাবে সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন এবং কাউন্সিলারদের কন্ঠ ভোটে শেখ হাসিনা সভানেত্রী নির্বাচিত হন। কাউন্সিলের পরে সামাদ আজাদ আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসাবে ভারতে গিয়ে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে আসেন।

 

স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামলে সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধু কন্যার বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসাবে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে। এরশাদ তখন সামাদ আজাদকে তার সরকারে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পাঠায়। সামাদ আজাদ ঘৃনাভরে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বি,এ,পি নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট ও আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয় জোটের মধ্যে লিয়াজো করার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ সামাদ আজাদকে দলে ভিড়াতে না পেরে প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে নেন।

 

৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরে ৯১ সালে সংসদে বেসরকারি বিল হিসাবে তৎকালীন বিরোধী দলীয় উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সংসদীয় গনতন্ত্রের সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্তাপন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় গঠনতন্ত্রের বিল পাস হয়। খালেদা জিয়া সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে বিরোধীদলীয় ১১ সদস্য বিশিষ্ট লিয়াজো কমিটিতে সামাদ আজাদ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জনতার মঞ্চ গঠনের মধ্য দিয়ে বি,এন,পি সরকারের পতন তরান্বিত হয়।

 

৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। সামাদ আজাদ আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি ও ভারতের সমর্থনে পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।

 

৬৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সামাদ আজাদ দেশ ও জাতিকে শুধু দিয়েই গেছেন। এবার সামাদ আজাদকে রাষ্ট্রের কিছু দেবার পালা। সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে । এটা নিঃসন্দেহে আনন্দ ও গৌরবের। তাই আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি, আব্দুস সামাদ আজাদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সুনামগঞ্জ। নামকরণ করা হউক।

 

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করছি, আপনারা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারনের ব্যাপারে সকল এম,পি গন সহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদে ভুমিকা রেখেছিলেন। ঐরকম নামকরণের জন্য জেলা আওয়ামীলীগের একটা রেজুলেশন করে সভানেত্রীর হাতে পৌছে দিন এবং সম্ভব হলে সংসদে প্রস্তাব উত্তাপন করুন। এতে রাষ্ট্র, সরকার, দল, তথা সুনামগঞ্জ বাসীর ঋণ শোধ হবে এবং আপনারা ও ইতিহাসের পাতায় স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। আমার বিশ্বাস জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ বাসীকে নিরাশ করবেননা। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, আব্দুস সামাদ আজাদ স্মৃতি সংসদ। মোবাঃ 01712-516051

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সুনামগঞ্জে আব্দুস সামাদ আজাদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণের দাবী

Update Time : ১১:২১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুলাই ২০২১

শাহীন তালুকদার :: ভাষা সৈনিক মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদকে একমাত্র স্বাধীনতা পুরস্কার ব্যাতিত রাষ্ট্রীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কোন সম্মান জানানো হয়নি। তার স্মৃতি রক্ষায় কোন সরকারি স্থাপনা বা প্রতিষ্টানে নামকরণ করা হয়নি। যদি ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী সহ অসংখ্য প্রয়াত জাতীয় নেতৃবৃন্দের নামে অনেক সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্টানে নামকরণ করে তাদের স্মৃতির প্রতি রাষ্ট্র সম্মান জানিয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর নামে অনেক সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্টানে নামকরণ করা হয়েছে।

 

 

সামাদ আজাদ ত্রিকালদর্শী দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসাবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। রাজনীতির কঠিন সময়ে মেধা, বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় বার বার দিয়েছেন। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোশতাকের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ রাষ্ট্রদূত হিসাবে সারা বিশ্ব চষে বেড়িয়ে বিশ্ব জনমত আদায় করতে সমর্থ হয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে কম সময়ের মধ্যে বেশীর ভাগ দেশের স্বীকৃতি আদায় করে কুটনৈতিক সফলতা অর্জন করেছিলেন।

 

৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামাদ আজাদ খুনীদের সাথে হাত মিলাননি। কারাগারকে বেছে নিয়েছিলেন। ৩ রা নভেম্বর কারাগারের ভিতরে খুনিরা জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করলেও সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেচে যান। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জেল থেকে বেরিয়ে আসেন।

 

পরবর্তীতে অবৈধ সামরিক শাসক জেনারেল জিয়ার শাসন আমলে আওয়ামীলীগের ঐক্যে ফাটল দেখা দিলে তিনি সৈয়দা জহুরা তাজ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলীগকে আগলে রাখেন এবং সংগঠিত করেন। ৮১ সালে অনুষ্টিত কাউন্সিল অধিবেশনে সামাদ আজাদ দলের ঐক্যের প্রতীক হিসাবে সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন এবং কাউন্সিলারদের কন্ঠ ভোটে শেখ হাসিনা সভানেত্রী নির্বাচিত হন। কাউন্সিলের পরে সামাদ আজাদ আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি হিসাবে ভারতে গিয়ে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশে নিয়ে আসেন।

 

স্বৈরাচারী এরশাদের শাসনামলে সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধু কন্যার বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসাবে রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে। এরশাদ তখন সামাদ আজাদকে তার সরকারে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পাঠায়। সামাদ আজাদ ঘৃনাভরে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বি,এ,পি নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট ও আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দলীয় জোটের মধ্যে লিয়াজো করার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদ সামাদ আজাদকে দলে ভিড়াতে না পেরে প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে নেন।

 

৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরে ৯১ সালে সংসদে বেসরকারি বিল হিসাবে তৎকালীন বিরোধী দলীয় উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদ সংসদীয় গনতন্ত্রের সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্তাপন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় গঠনতন্ত্রের বিল পাস হয়। খালেদা জিয়া সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে বিরোধীদলীয় ১১ সদস্য বিশিষ্ট লিয়াজো কমিটিতে সামাদ আজাদ সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ জনতার মঞ্চ গঠনের মধ্য দিয়ে বি,এন,পি সরকারের পতন তরান্বিত হয়।

 

৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। সামাদ আজাদ আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি ও ভারতের সমর্থনে পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।

 

৬৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সামাদ আজাদ দেশ ও জাতিকে শুধু দিয়েই গেছেন। এবার সামাদ আজাদকে রাষ্ট্রের কিছু দেবার পালা। সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে । এটা নিঃসন্দেহে আনন্দ ও গৌরবের। তাই আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি, আব্দুস সামাদ আজাদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সুনামগঞ্জ। নামকরণ করা হউক।

 

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করছি, আপনারা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারনের ব্যাপারে সকল এম,পি গন সহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংসদে ভুমিকা রেখেছিলেন। ঐরকম নামকরণের জন্য জেলা আওয়ামীলীগের একটা রেজুলেশন করে সভানেত্রীর হাতে পৌছে দিন এবং সম্ভব হলে সংসদে প্রস্তাব উত্তাপন করুন। এতে রাষ্ট্র, সরকার, দল, তথা সুনামগঞ্জ বাসীর ঋণ শোধ হবে এবং আপনারা ও ইতিহাসের পাতায় স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। আমার বিশ্বাস জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ বাসীকে নিরাশ করবেননা। লেখক: সাধারণ সম্পাদক, আব্দুস সামাদ আজাদ স্মৃতি সংসদ। মোবাঃ 01712-516051

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ