০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাতকে শিশু সাব্বিরের মূল হত্যাকারী সিলেটের শাহপরান এলাকা থেকে গ্রেফতার

  • Update Time : ০১:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকের দক্ষিণ বাগবাড়ী-লেবারপাড়া এলাকায় জমি থেকে উদ্ধার করা অর্ধগলিত শিশু সাব্বির আহমদের মূল হত্যাকারী অলিল মিয়া অলি (৩৫)কে সিলেটের শাহপরান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেটের শাহপরান থানাধীন তেররতন উপশহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন ছাতক থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম। রিকশাচালক অলিল মিয়া অলি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজার এলাকার মৃত বাদল মিয়ার পুত্র। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র সাব্বির আহমদের অর্ধগলিত লাশ ৪ মার্চ ছাতক শহরের দক্ষিণ বাগবাড়ী-লেবারপাড়া এলাকার একটি পতিত জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছাতক থানার এসআই মাসুদ রানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৬) দায়ের করেন। ছাতক থানার সেকেন্ড অফিসার, চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান পিপিএমকে চাঞ্চল্যকর এ সাব্বির আহমদ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ২৩ মে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত লেবারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাজুল মিয়া খছরু(৫৫) এবং তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম(৪৫) কে গ্রেফতার করেন তিনি। তাজুল ইসলাম খছরু দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর গ্রামের মৃত রশিদ আলীর পুত্র। তারা খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, আপন ভাবী, সাব্বির আহমদের মা রাবিয়া খাতুনের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল অলিল মিয়া অলির। পরকীয়ার বিষয়টি ধরা পরলে সাব্বিরের বাবা বাবুল মিয়ার সাথে রাবিয়া খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে রাবিয়া খাতুন প্রেমিক অলিল মিয়াকে বিয়ে না করে সাব্বিরকে সাথে নিয়েই জুড়ি এলাকার আয়নুল হক মস্তান নামের অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে। রাবিয়া খাতুনকে না পেয়ে আক্রোশে প্রতিশোধের নেশায় বিভোর হয়ে পড়ে অলিল মিয়া অলি। এক পর্যায়ে তার সন্তান সাব্বির আহমদকে হত্যা করে এর চরম প্রতিশোধ নেয় সে। ২৮ ফেব্রুয়ারী অলিল মিয়া অলি কৌশলে সৎ পিতার ঘর থেকে সাব্বির আহমদকে অপহরন করে ছাতক শহরের লেবারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তার পরিচিত তাজুল ইসলাম খছরুর বাসায় নিয়ে আসে। এখানে চাচা অলিল মিয়া অলির সাথে একদিন অবস্থান করে সাব্বির আহমদ। তখনও শিশু সাব্বির বুঝতে পারেনি যে তাকে হত্যা করার জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। ১ মার্চ একই কক্ষে চাচার সাথে ঘুমিয়ে পড়ে সাব্বির। মধ্য রাতে যখন গভীর নিদ্রায় সাব্বির চাচার পাশে ঘুমাচ্ছিল। ওই সময়টাকেই খুনের জন্য উত্তম মনে করেই খুনী অলিল মিয়া অলি ঘুমন্ত সাব্বিরকে গলায় গামছা বেঁধে চেপে ধরে। শ্বাসরুদ্ধ করে রাখার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার দেহটি প্রানহীন হয়ে পড়ে। চিরনিদ্রায় শায়িত হয় সাব্বির। সহযোগীদের নিয়ে এ লাশ কাঁথা-কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রেখে কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাতের আধারে পালিয়ে যায় খুনী অলিল মিয়া অলি। ওই কক্ষে সাব্বিরের লাশ তালাবব্ধ অবস্থায় থাকায় কক্ষ থেকে দূর্গন্ধ বের হতে থাকে। তখন ধরা পড়ার আশংকায় ৩ মার্চ তাজুল মিয়া খছরু ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম সহ সহযোগীরা রাসায়নিক তরল ব্যবহার করে লাশ ঝলসে দিয়ে বিকৃত অবস্থায় লাশ বসত ঘর সংলগ্ন কচু ক্ষেতে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু লাশ পচা দূর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে ৪ মার্চ ভোরে অর্ধগলিত লাশ লেবারপাড়া এলাকার একটি জমিতে ফেলে দিয়ে আসে তারা। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, এটি একটি নির্মম হতক্যাকান্ড। আটক আসামীদের জেলহাজতে পাঠানা হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

ছাতকে শিশু সাব্বিরের মূল হত্যাকারী সিলেটের শাহপরান এলাকা থেকে গ্রেফতার

Update Time : ০১:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকের দক্ষিণ বাগবাড়ী-লেবারপাড়া এলাকায় জমি থেকে উদ্ধার করা অর্ধগলিত শিশু সাব্বির আহমদের মূল হত্যাকারী অলিল মিয়া অলি (৩৫)কে সিলেটের শাহপরান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেটের শাহপরান থানাধীন তেররতন উপশহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন ছাতক থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম। রিকশাচালক অলিল মিয়া অলি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজার এলাকার মৃত বাদল মিয়ার পুত্র। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র সাব্বির আহমদের অর্ধগলিত লাশ ৪ মার্চ ছাতক শহরের দক্ষিণ বাগবাড়ী-লেবারপাড়া এলাকার একটি পতিত জমি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছাতক থানার এসআই মাসুদ রানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৬) দায়ের করেন। ছাতক থানার সেকেন্ড অফিসার, চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান পিপিএমকে চাঞ্চল্যকর এ সাব্বির আহমদ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ২৩ মে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত লেবারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাজুল মিয়া খছরু(৫৫) এবং তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম(৪৫) কে গ্রেফতার করেন তিনি। তাজুল ইসলাম খছরু দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর গ্রামের মৃত রশিদ আলীর পুত্র। তারা খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, আপন ভাবী, সাব্বির আহমদের মা রাবিয়া খাতুনের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল অলিল মিয়া অলির। পরকীয়ার বিষয়টি ধরা পরলে সাব্বিরের বাবা বাবুল মিয়ার সাথে রাবিয়া খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে রাবিয়া খাতুন প্রেমিক অলিল মিয়াকে বিয়ে না করে সাব্বিরকে সাথে নিয়েই জুড়ি এলাকার আয়নুল হক মস্তান নামের অন্য এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে। রাবিয়া খাতুনকে না পেয়ে আক্রোশে প্রতিশোধের নেশায় বিভোর হয়ে পড়ে অলিল মিয়া অলি। এক পর্যায়ে তার সন্তান সাব্বির আহমদকে হত্যা করে এর চরম প্রতিশোধ নেয় সে। ২৮ ফেব্রুয়ারী অলিল মিয়া অলি কৌশলে সৎ পিতার ঘর থেকে সাব্বির আহমদকে অপহরন করে ছাতক শহরের লেবারপাড়া এলাকার বাসিন্দা তার পরিচিত তাজুল ইসলাম খছরুর বাসায় নিয়ে আসে। এখানে চাচা অলিল মিয়া অলির সাথে একদিন অবস্থান করে সাব্বির আহমদ। তখনও শিশু সাব্বির বুঝতে পারেনি যে তাকে হত্যা করার জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। ১ মার্চ একই কক্ষে চাচার সাথে ঘুমিয়ে পড়ে সাব্বির। মধ্য রাতে যখন গভীর নিদ্রায় সাব্বির চাচার পাশে ঘুমাচ্ছিল। ওই সময়টাকেই খুনের জন্য উত্তম মনে করেই খুনী অলিল মিয়া অলি ঘুমন্ত সাব্বিরকে গলায় গামছা বেঁধে চেপে ধরে। শ্বাসরুদ্ধ করে রাখার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার দেহটি প্রানহীন হয়ে পড়ে। চিরনিদ্রায় শায়িত হয় সাব্বির। সহযোগীদের নিয়ে এ লাশ কাঁথা-কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রেখে কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাতের আধারে পালিয়ে যায় খুনী অলিল মিয়া অলি। ওই কক্ষে সাব্বিরের লাশ তালাবব্ধ অবস্থায় থাকায় কক্ষ থেকে দূর্গন্ধ বের হতে থাকে। তখন ধরা পড়ার আশংকায় ৩ মার্চ তাজুল মিয়া খছরু ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম সহ সহযোগীরা রাসায়নিক তরল ব্যবহার করে লাশ ঝলসে দিয়ে বিকৃত অবস্থায় লাশ বসত ঘর সংলগ্ন কচু ক্ষেতে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু লাশ পচা দূর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে ৪ মার্চ ভোরে অর্ধগলিত লাশ লেবারপাড়া এলাকার একটি জমিতে ফেলে দিয়ে আসে তারা। ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, এটি একটি নির্মম হতক্যাকান্ড। আটক আসামীদের জেলহাজতে পাঠানা হয়েছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ