রমযানে কুরআন নাজিলের কারণ : শাহ মমশাদ আহমদ
- Update Time : ০২:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ফুল আর ফুলের সুঘ্রাণ, চন্দ্র আর জোৎস্নার মধ্যকার যেভাবে সম্পর্ক, রমযান ও কুরআন তেমনি সম্পর্কিত। রমযান মাসেই লওহে মাহফুজ থেকে সপ্তম আসমানে একবারে কুরআন নাজিল হয়েছে, সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প কুরআন নাজিল হয়, ইবনে হাজার আসকালানী বলেন, জিবরাইল আঃ প্রতিবছর রাসুলের সাথে সাক্ষাৎ করে এক রমযান হতে অন্য রমযান অবধি যা নাজিল হয়েছে তা শুনাতেন ও শুনতেন। যে বছর রাসুলের ওফাত হয়, সে বছর তিনি দুইবার শুনেন ও শুনান, (ফাতহুল বারী) তাইতো রমযান মাস কুরআন নাজিলের মাস,কুরআনের মাস, আল্লাহ বলেন, রমযান মাস, যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, (সুরা বাকারা)
পবিত্র কুরআনে মাজীদে শুধুমাত্র রমযান মাসের নাম এসেছে, এথেকেই কুরআন ও রমযানের সম্পর্ক সহজেই অনুমান করা যায়, এমাসে কেন কুরআন নাজিল হয়েছে এর কারণ তো একমাত্র আল্লাহই জানেন, তবে বিদগ্ধ আলেমগণ কয়েকটি হেকমত বর্ননা করেন,
#রমজান ও কুরআন উভয়ের উদ্দেশ্য এক, আর তা হলো তাকওয়া। আল্লাহ বলেন, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার, (সুরা বাকারা)
অপরদিকে যদিও কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য নাজিল হয়েছে কিন্তু উপকৃত হন শুধু মুত্তাকিরাই আল্লাহ বলেন, এটি আল্লাহর কিতাব, এতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত।
#আল্লাহ পাকের স্বাভাবিক আদত অনুযায়ী রমজানেই আসমানী কিতাব নাজিল করে থাকেন, রাসুল সঃ বলেন, রমজান মাসেই ইবরাহীম আঃ সহীফা লাভ করেন,এমাসেই তাওরাত যাবুর, ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়। (তাবরানী) সে ধারাবাহিকতায় শ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব কুরআন রমজানে অবতীর্ণ হয়।
#রমজান কুরআন সংরক্ষণের মাস,যদিও কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহর হাতে, আল্লাহ বলেন,আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি আমি এর হেফাজত করবো (সুরা কিয়ামাহ) কিন্তু মানুষ হলো পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা, মানুষের জন্যই কুরআন, রমযানে কুরআন প্রশিক্ষণের সুবর্ণ সুযোগ, রাসুল সঃ রমজানে কুরআন প্রশিক্ষন নিয়েছেন, হযরত জাবরিল আঃ ও এমাসকে চয়ন করেছেন, সে হিসাবেই কুরআন এমাসে নাজিল হয়েছে।
#রমযানে মানুষ পানাহার, স্ত্রী সহবাস বর্জন করে, শুধু কুরআন গ্রহন করবে, এদিকে ইংগিত দেয়ার জন্যই রমযানে কুরআন নাজিল হয়েছে।
#রমজান শব্দের মুল অর্থ ভস্মীভূত করা, জ্বালিয়ে দেয়া, এমাসের এবাদত পাপকর্ম জ্বালিয়ে মুমিনের অন্তর পবিত্র করে, কুরআনের উপর আমল, অধিক তেলাওয়াত ও মুমিন হৃদয় পবিত্র করে, তাই এমাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
#পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিতাব কুরআন মাজীদ, যার উপর অবতীর্ণ হয়েছে তিনি শ্রেষ্ঠ নবী, যে ফিরিশতা বহন করেছেন, তিনি শ্রেষ্ঠ ফিরিশতা হযরত জিবরাইল আঃ, যে শহরে অবতীর্ণ হয়েছে শ্রেষ্ঠ শহর মক্কা-মদিনা, সে ধারাবাহিকতায় শ্রেষ্ঠ মাস রমজানে অবতীর্ণ হয়েছে।
#রমজান মাসে রোজা রেখে মানুষ ক্ষুধার্তদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করে, রমজানে অধিক তেলাওয়াত করে মানুষকে দ্বিনের পথে আনারজ্বালাওঅন্তরে অনুভব করবে।
#রমযানে পানাহার বর্জন করে তাক্বওয়া অর্জনের জন্য মানুষ ত্যাগ কুরবানি করে, তাক্বওয়া ভিত্তিক কুরআনের সমাজ নির্মানে ও ত্যাগ কুরবানি শিক্ষা দেয়ার জন্য রমযানে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মুল হেকমত তো আল্লাহই জানেন, তবে একথাতো সুপ্রমানিত এমাস কুরআনের মাস, তাই আসুন আমরা রমজানকে কুরআনময় করে তুলি, বেশি করে তেলাওয়াত করি, তেলাওয়াত কালে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়
*তেলাওয়াতের পুর্বে মেসওয়াক করে অজু করা
*পরিপাটি স্থানে বসা
*বিশুদ্ধ কেরাত না হলে প্রশিক্ষণ নেয়া
*মনোযোগী হয়ে তেলাওয়াত করা
*না বুঝে পড়লেও প্রতি অক্ষরে দশ নেকী পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ, তবে কুরআন বুঝার চেষ্টা করা
*আমি মহান আল্লাহর কালাম পড়ছি”শ্রদ্ধাবোধ থাকা
*কুরআন খতম শেষে পরিবারিক সদস্যদের নিয়ে মোনাজাত করা, বিখ্যাত সাহাবী আনাস বিন মালিক রাঃ এরুপ দোয়া করেছেন, বিশুদ্ধ সুত্রে প্রমাণিত। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট, সিলেট।



















