০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোজাদারের জন্য অফুরান পুরস্কার

  • Update Time : ০৩:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মাওলানা মুহাম্মদ সালমান

 

আজ রমজান মাসের ৭ম দিন। রহমতের মূল্যবান সময়গুলো দ্রুত বয়ে চলছে। শিগগির শুরু হয়ে যাবে মাগফিরাতের দিন। এ সময় খোদার রহমত কুড়িয়ে বাকি দিনগুলোয় ক্ষমা ও মুক্তিলাভের প্রস্তুতি নিতে হবে। সংযম ও কল্যাণের এ মাসে রোজার বাহ্যিক ও আত্মিক সব রকমের বিধিনিষেধ মেনে যে ব্যক্তি মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা করবে, তার জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে অফুরান পুরস্কার।

 

 

নবি করিম (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ও কুরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে প্রতিপালক, আমি দিনের বেলায় তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কুরআন বলবে, হে প্রতিপালক, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমদ)।’

 

 

 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘রমজান মাসে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। ১. রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও অধিক প্রিয়। ২. সমুদ্রের মাছও রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে।

 

 

এর মানে ফেরেশতাসহ সব সৃষ্টিই রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে। ৩. রোজাদারের জন্য প্রতিদিন বেহেশত সাজানো হয়। তারপর আল্লাহ বেহেশতকে বলেন, আমার নেককার বান্দারা অতিসত্ত্বর দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট দূরে নিক্ষেপ করে তোমার মধ্যে চলে আসবে। ৪. রমজান মাসে উচ্ছৃঙ্খল শয়তানদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ফলে তারা ওইসব গুনাহ করাতে পারে না, যেসব গুনাহ অন্য মাসে করাতে পারত। ৫. রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

 

 

তখন সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এই গুনাহ মাফ কি শবেকদরের রাতে হয়ে থাকে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: না, বরং শ্রমিক কাজ শেষ করার পরই মজুরি পেয়ে থাকে। এর মানে রমজান মাসে শবেকদরের পুরস্কার ছাড়াও রোজা রাখার কারণে আলাদা একটি পুরস্কার রমজানের শেষ তারিখে দেওয়া হয়। সেটা হলো রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া (মুসনাদে আহমাদ)।

 

 

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সিয়াম পালন করবে তার অতীতের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইহতিসাবের অর্থ আল্লাহর কাছে রোজার পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং সন্তুষ্টচিত্তে একনিষ্ঠভাবে সিয়াম পালন করা।

 

 

আল্লাহর রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমা থেকে অপর জুমা এবং এক রমজান থেকে অপর রমজান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের পাপগুলোর জন্য কাফফারা হিসাবে গ্রহণ করা হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়। সিয়াম ছোট পাপগুলোকে দূরীভূত করে আর তওবা করলে কবিরা গুনাহ বা গুরুপাপ মাফ করা হয়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে, গুরুগুলো থেকে তোমরা বিরত থাকলে আমি তোমাদের লঘুতর পাপগুলো ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব (সুরা নিসা, আয়াত : ৩১)।

 

 

এসব আয়াত ও হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব পুরস্কারের ওয়াদা করা হয়েছে, লাভ করতে হলে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তার নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে রোজা রাখতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দিন। আমিন। লেখক: ইমাম, আমীর উদ্দিন দারোগা ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রোজাদারের জন্য অফুরান পুরস্কার

Update Time : ০৩:২৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

মাওলানা মুহাম্মদ সালমান

 

আজ রমজান মাসের ৭ম দিন। রহমতের মূল্যবান সময়গুলো দ্রুত বয়ে চলছে। শিগগির শুরু হয়ে যাবে মাগফিরাতের দিন। এ সময় খোদার রহমত কুড়িয়ে বাকি দিনগুলোয় ক্ষমা ও মুক্তিলাভের প্রস্তুতি নিতে হবে। সংযম ও কল্যাণের এ মাসে রোজার বাহ্যিক ও আত্মিক সব রকমের বিধিনিষেধ মেনে যে ব্যক্তি মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা করবে, তার জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে অফুরান পুরস্কার।

 

 

নবি করিম (সা.) বলেছেন : ‘রোজা ও কুরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে প্রতিপালক, আমি দিনের বেলায় তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। কুরআন বলবে, হে প্রতিপালক, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল করো। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে। (মুসনাদে আহমদ)।’

 

 

 

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘রমজান মাসে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। ১. রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও অধিক প্রিয়। ২. সমুদ্রের মাছও রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে।

 

 

এর মানে ফেরেশতাসহ সব সৃষ্টিই রোজাদারের জন্য দোয়া করতে থাকে। ৩. রোজাদারের জন্য প্রতিদিন বেহেশত সাজানো হয়। তারপর আল্লাহ বেহেশতকে বলেন, আমার নেককার বান্দারা অতিসত্ত্বর দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট দূরে নিক্ষেপ করে তোমার মধ্যে চলে আসবে। ৪. রমজান মাসে উচ্ছৃঙ্খল শয়তানদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। ফলে তারা ওইসব গুনাহ করাতে পারে না, যেসব গুনাহ অন্য মাসে করাতে পারত। ৫. রমজানের শেষ রাতে রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

 

 

তখন সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এই গুনাহ মাফ কি শবেকদরের রাতে হয়ে থাকে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: না, বরং শ্রমিক কাজ শেষ করার পরই মজুরি পেয়ে থাকে। এর মানে রমজান মাসে শবেকদরের পুরস্কার ছাড়াও রোজা রাখার কারণে আলাদা একটি পুরস্কার রমজানের শেষ তারিখে দেওয়া হয়। সেটা হলো রোজাদারের গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া (মুসনাদে আহমাদ)।

 

 

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে সিয়াম পালন করবে তার অতীতের গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইহতিসাবের অর্থ আল্লাহর কাছে রোজার পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং সন্তুষ্টচিত্তে একনিষ্ঠভাবে সিয়াম পালন করা।

 

 

আল্লাহর রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমা থেকে অপর জুমা এবং এক রমজান থেকে অপর রমজান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের পাপগুলোর জন্য কাফফারা হিসাবে গ্রহণ করা হয়, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়। সিয়াম ছোট পাপগুলোকে দূরীভূত করে আর তওবা করলে কবিরা গুনাহ বা গুরুপাপ মাফ করা হয়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে, গুরুগুলো থেকে তোমরা বিরত থাকলে আমি তোমাদের লঘুতর পাপগুলো ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব (সুরা নিসা, আয়াত : ৩১)।

 

 

এসব আয়াত ও হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে যেসব পুরস্কারের ওয়াদা করা হয়েছে, লাভ করতে হলে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তার নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে রোজা রাখতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের তাওফিক দিন। আমিন। লেখক: ইমাম, আমীর উদ্দিন দারোগা ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ