১১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে পুড়ির বাড়িতে ইস্তারি ‘মরার উপর খারার ঘা’

  • Update Time : ০৫:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে রমজান মাস এলে নিজ বাড়িতে বানানো ইফতারি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান তার অভিভাবকেরা। এখন সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ‘পুড়ির বাড়িত ইস্তারি’ দেয়ার রেওয়াজেও এসেছে পরিবর্তন। অতীতের ন্যায় সেই নিজ বাড়িতে তৈরী ইফতারি এখন আর মেয়ের বাড়িতে কেউ নিয়ে যান না। সে স্থান এখন দখল করে নিয়েছে হাটবাজারে বানানো বিভিন্ন পদের ইফতারি। বাজারের তৈরী বাহারী ইফতারী এখন পাঠানো হচ্ছে মেয়ের শশুর বাড়ীতে। মেয়ের বাড়ীতে এই ইফতারি প্রেরণের বিষয়টি ধনীদের কাছে দারুণ খ্যাতির ব্যাপার হলেও অসহায় গরিব মানুষের কাছে এ যেন এক আতঙ্কের নাম। আমরা কেউ দিচ্ছি আর কেউ নিচ্ছি। আমাদের চোখের সামনেই চলছে এটা অবিরত। কিন্তুু আমরা কেউ কি একবার ভেবে দেখেছি, এই ইফতারি দিতে কনের গরিব পিতার-মাতার উপর কি পরিমাণ চাপ যাচ্ছে। একেকটি ইফতারি দিতে নূন্যতম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মিষ্টি সহ আনুসাঙ্গিক অন্যান্য জিনিষ দিতে হয়। এক্ষেত্রে ঐ দরিদ্র পিতার যদি পাঁচ কন্যা থাকে তাহলে সেই পাঁচ কন্যর সকলের বাড়ীতে ইফতারি দিতে কি যে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আপনি জানেন কি এই ইফতারি দিতে কেউ কেউ ধান বিক্রি করেন। কেউ ধার-কর্জ করে ইফতারি পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে ইফতারি যেন ‘ফরজ’ হয়ে আছে। এই অমানবিক প্রথার অবসান হওয়া দরকার। শিক্ষিত বা অশিক্ষিত জাতির মাঝে কোন পার্থক্য এই ইফতারির ক্ষেত্রে নেই। আমাদের সবার মধ্য থেকে এই ইফতারি কে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে। তাহলেই সম্ভব, পরিবর্তন হবে অমানবিক এই সামাজিক রীতির।

 

 

জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ইফতারি কিনতে আসা বেশ কয়েকজন অভিবাবকের সাথে ইফতারি নিয়ে আলাপ হয় জগন্নাথপুর পত্রিকার। ইফতারি কিনতে আসা একজনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার “তিনটি মেয়ে” প্রতিবছরই আমার মেয়েদের বাড়িতে ইফতার পাঠাতে হয়। কেন ইফতারি দেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাবারে এটা এখন একটা স্টাইল হয়ে দাড়িয়েছে। যদি ইফতারি না পাঠাই তবে মেয়েগুলোর মুখ ছোট হয়ে যাবে। বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে-দোকান থেকে মিষ্টি, জিলাপি, সাদা নিমকি কিনতেছেন অনেক ক্রেতা। যাহা ইফতারি হিসাবে যার যার মেয়েদের বাড়িতে পাঠাবেন। একজন চেহারা মলিন করে ইফতারি কিনতেছেন। তার অনুভূতি জানতে চাইলে তার কাছ থেকে পাওয়া গেলো দুঃখ ভারাক্রান্ত জবাব, ‘আমি হয়ত নিঃস্ব হয়ে যাব। একদিকে করোনা ভাইরাসে আমার সব ব্যবসা বন্ধ। তার উপর মেয়েদের বাড়িতে ইফতারি। এ যেন ‘মরার উপর খারার ঘা’ তবে আত্মসম্মান রক্ষার্থে ইফতারি দিতেই হবে।’

 

 

প্রতি বছর রমজান মাসে জগন্নাথপুর উপজেলায় শুরু হয়ে যায় মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর ধুম। বিত্তবানদের কাছে মেয়ের বাড়িতে ইফতার পাঠানো অনেকটা আনন্দের মনে হলেও চরম বিপাকে পড়তে হয় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে ইফতারি পাঠানোর প্রথা এখন আতঙ্কের আরেক নাম। তবে দেশে বিদেশে প্রবাসী অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুর উপজেলা। এ উপজেলার অনেক পরিবার ইফতারির পরিবর্তে নগদ টাকাও পাঠান এমনটা জানিয়েছেন অনেক বিত্তবান পরিবারের সদস্যরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে পুড়ির বাড়িতে ইস্তারি ‘মরার উপর খারার ঘা’

Update Time : ০৫:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১

ইয়াকুব মিয়া :: সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে রমজান মাস এলে নিজ বাড়িতে বানানো ইফতারি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান তার অভিভাবকেরা। এখন সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ‘পুড়ির বাড়িত ইস্তারি’ দেয়ার রেওয়াজেও এসেছে পরিবর্তন। অতীতের ন্যায় সেই নিজ বাড়িতে তৈরী ইফতারি এখন আর মেয়ের বাড়িতে কেউ নিয়ে যান না। সে স্থান এখন দখল করে নিয়েছে হাটবাজারে বানানো বিভিন্ন পদের ইফতারি। বাজারের তৈরী বাহারী ইফতারী এখন পাঠানো হচ্ছে মেয়ের শশুর বাড়ীতে। মেয়ের বাড়ীতে এই ইফতারি প্রেরণের বিষয়টি ধনীদের কাছে দারুণ খ্যাতির ব্যাপার হলেও অসহায় গরিব মানুষের কাছে এ যেন এক আতঙ্কের নাম। আমরা কেউ দিচ্ছি আর কেউ নিচ্ছি। আমাদের চোখের সামনেই চলছে এটা অবিরত। কিন্তুু আমরা কেউ কি একবার ভেবে দেখেছি, এই ইফতারি দিতে কনের গরিব পিতার-মাতার উপর কি পরিমাণ চাপ যাচ্ছে। একেকটি ইফতারি দিতে নূন্যতম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মিষ্টি সহ আনুসাঙ্গিক অন্যান্য জিনিষ দিতে হয়। এক্ষেত্রে ঐ দরিদ্র পিতার যদি পাঁচ কন্যা থাকে তাহলে সেই পাঁচ কন্যর সকলের বাড়ীতে ইফতারি দিতে কি যে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আপনি জানেন কি এই ইফতারি দিতে কেউ কেউ ধান বিক্রি করেন। কেউ ধার-কর্জ করে ইফতারি পাঠাচ্ছেন। বর্তমানে ইফতারি যেন ‘ফরজ’ হয়ে আছে। এই অমানবিক প্রথার অবসান হওয়া দরকার। শিক্ষিত বা অশিক্ষিত জাতির মাঝে কোন পার্থক্য এই ইফতারির ক্ষেত্রে নেই। আমাদের সবার মধ্য থেকে এই ইফতারি কে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে। তাহলেই সম্ভব, পরিবর্তন হবে অমানবিক এই সামাজিক রীতির।

 

 

জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে ইফতারি কিনতে আসা বেশ কয়েকজন অভিবাবকের সাথে ইফতারি নিয়ে আলাপ হয় জগন্নাথপুর পত্রিকার। ইফতারি কিনতে আসা একজনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার “তিনটি মেয়ে” প্রতিবছরই আমার মেয়েদের বাড়িতে ইফতার পাঠাতে হয়। কেন ইফতারি দেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাবারে এটা এখন একটা স্টাইল হয়ে দাড়িয়েছে। যদি ইফতারি না পাঠাই তবে মেয়েগুলোর মুখ ছোট হয়ে যাবে। বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে-দোকান থেকে মিষ্টি, জিলাপি, সাদা নিমকি কিনতেছেন অনেক ক্রেতা। যাহা ইফতারি হিসাবে যার যার মেয়েদের বাড়িতে পাঠাবেন। একজন চেহারা মলিন করে ইফতারি কিনতেছেন। তার অনুভূতি জানতে চাইলে তার কাছ থেকে পাওয়া গেলো দুঃখ ভারাক্রান্ত জবাব, ‘আমি হয়ত নিঃস্ব হয়ে যাব। একদিকে করোনা ভাইরাসে আমার সব ব্যবসা বন্ধ। তার উপর মেয়েদের বাড়িতে ইফতারি। এ যেন ‘মরার উপর খারার ঘা’ তবে আত্মসম্মান রক্ষার্থে ইফতারি দিতেই হবে।’

 

 

প্রতি বছর রমজান মাসে জগন্নাথপুর উপজেলায় শুরু হয়ে যায় মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর ধুম। বিত্তবানদের কাছে মেয়ের বাড়িতে ইফতার পাঠানো অনেকটা আনন্দের মনে হলেও চরম বিপাকে পড়তে হয় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে ইফতারি পাঠানোর প্রথা এখন আতঙ্কের আরেক নাম। তবে দেশে বিদেশে প্রবাসী অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুর উপজেলা। এ উপজেলার অনেক পরিবার ইফতারির পরিবর্তে নগদ টাকাও পাঠান এমনটা জানিয়েছেন অনেক বিত্তবান পরিবারের সদস্যরা।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ