স্বাধীনতার ৫০ বছর; অবাক বিস্ময়ের বাংলাদেশ
- Update Time : ০১:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মার্চ ২০২১
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট :: আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা দিবস। এবারের ২৬ মার্চ বিশেষ তাৎপর্যবহ। স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশ্বে আত্মপ্রকাশের এই দিনটি আজ অর্ধশতক-উদ্যাপনের মাহেন্দ্রক্ষণ। শুধু তা-ই নয়, আজ থেকে ৫০ বছর আগে যে মহান নেতাকে ঘিরে কাঙ্খিত স্বাধীনতার স্বপ্ন আবর্তিত হয়েছিল, বাঙালির সেই প্রাণপুরুষ ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র জন্মশতবর্ষ এ বছরই। সুবর্ণজয়ন্তীর সূচনালগ্নে দণ্ডায়মান এই বাংলাদেশও আজ এক অবাক বিস্ময়। স্বাধীনতার অর্ধশতকের এই যাত্রায় বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। বাংলাদেশের বিস্ময়কর এক উত্থান দেখছে সবাই। সুবর্ণজয়ন্তীর এই সূচনালগ্নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। বঙ্গবন্ধু কন্যা ‘স্বপ্নের প্রকল্প’ গড়ছেন নিজ সামর্থ্য দিয়েই। নিজ পায়ে দাঁড়ানোর অদম্য যে ইচ্ছা ছিল বঙ্গবন্ধুর। নিজের সম্পদ দিয়েই দেশ গড়ার চেষ্টা। সেই ইচ্ছারই জাগ্রত প্রয়াস বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালির আত্মসম্পদ ও বিশ্বাসের যে সদ্ব্যবহার তিনি করছেন তা বঙ্গবন্ধুরই আদর্শ বললে ভুল হবে না।
বাংলাদেশের বয়স এখন ৫০ বছর। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি খুব বেশি দীর্ঘ সময় না হলেও একটি জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য একেবারে কম নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, যে লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা অর্জিত হয়েছে? স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্খা ছিল সব ধরনের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং সমাজে গণতন্ত্র, ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা। সব নাগরিকের মৌলিক চাহিদা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বাহাত্তরের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমরা সেখানে স্থির থাকতে পারিনি। নানা বাধা, একদলীয় শাসন কিংবা সামরিক শাসন আমাদের অগ্রযাত্রাকে বারবার ব্যাহত করেছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠিত সংসদীয় ব্যবস্থাকেও আমরা সংহত করতে পরিনি। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আর্থসামাজিক সূচকে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি। যে কারণে অগ্রযাত্রার এই দুর্বার গতিতেও দেশে সাম্প্রদায়িকতার ছড়ি ঘোরানোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। সময়ে সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে সেই পুরনো শকুনেরা।
তবে বাঙালি হতোদ্যম হওয়ার জাতি নয়। শত বাধা পেরিয়ে সামনে এগোনোর এক অমিত সাহস আছে এই জাতির। পদ্মা সেতু যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার স্পর্ধিত দুষ্কৃতির আবহেই নির্মীয়মাণ পদ্মা সেতু এখন শতভাগ দৃশ্যমান। বাঙালির স্বপ্নের এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিস্তর বাধা এসেছিল। এমনকি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও আর্থিক দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অন্য সংস্থাগুলোও বেঁকে বসেছিল। কিন্তু আমরা হতোদ্যম হইনি। বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় ছিলেন। তিনি জানতেন বাঙালি যুদ্ধজয়ী জাতি। অসাধ্য সাধনের ইতিহাস এই জাতির আছে।
সুবর্ণজয়ন্তীতে, আজকের এই বাংলাদেশের মুকুটে গৌরবপালকও কম নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিবিধ সাফল্য এসেছে দেশে। পদ্মা বিজয়ের সঙ্গে আমরা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণেও সাফল্য দেখিয়েছি। পৃথিবীর তাবৎ উন্নত দেশ যেখানে ব্যর্থ। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যায়ও আমরা নজির দেখিয়েছি। নির্যাতিত এই জাতির প্রতি শেখ হাসিনা যে উদার ভালোবাসার দুয়ার খুলেছেন, বিশ্বে ইতিহাস হয়ে আছে তা।
সবচেয়ে বড় সাফল্য-বাংলাদেশ এক সুঠাম অর্থনৈতিক প্লাটফর্মের দিকে এগোচ্ছে। ভাবা যায়, মাথাপিছু আয়ে ভারতকেও টপকে যাচ্ছে বাংলাদেশ! সবচেয়ে বড় সুখবর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি-সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দু বছর আগেই। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক-এ তিনটি সূচকের যেকোনো দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ তিনটি সূচকের মানদণ্ডেই উন্নীত হয়েছে। যা কল্পনাতীত।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদণ্ড অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ১৬১০ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম, যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ।
‘যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ- যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস’ সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের এটি একটি বড় অর্জন। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাহসী এবং অগ্রগতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে। যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জন্মের ৫০ বছরের মধ্যে কিভাবে বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মতো সফলতা দেখাতে পেরেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য যেভাবে একতাবদ্ধ করেছিলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে ঠিক সেভাবেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রফতানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।
পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে। উন্নতির এই চলমান সোপান আরো বেগবান সম্ভব ঐক্যের মাধ্যমে। বিভক্ত জাতি কখনো উন্নত দেশ গড়তে পারে না। অন্তত দেশ, মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে পুরো জাতিকে একমতে আসা প্রয়োজন। আর তা হলেই দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়া সম্ভব হবে।
তাই, আজকের ‘স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীর শপথ হোক, সব ধরনের হানাহানি ও বৈরিতা-বিদ্বেষকে পেছনে ফেলে, দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাই এক হয়ে কাজ করব। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের দায়ই যে বেশি। বিজয়ী জাতি কখনোই পরাভব মানে না। বাংলাদেশ তা দেখিয়ে দিচ্ছে। অর্ধশতকে যে চ্যালেঞ্জ ডিঙিয়ে সামনে এগিয়েছে, শত বছরে তা আরো দুর্বার হবে। বিশ্বের উন্নত দেশের তালিকায় এক বিস্ময়কর রূপে স্থান পাবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। এই প্রত্যাশা।





























