০৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেলফি ও ফেইসবুক-আন্তরিকতার নীরব ঘাতক!

  • Update Time : ১০:১৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

শাহ মমশাদ আহমদ

 

& আলেম উলামা,ইসলামী বক্তাদের প্রতি মানুষের হৃদ্যিক ভালবাসা ছিল, দেখলে সালাম- মুসাফাহা করত, দোয়া নিত,
সমাজের গণ্যমান্য, সম্মানিত গুনীজনদের দেখলে সম্মান জানাত, শ্রদ্ধার প্রকাশ করত। এখন স্বাগত জানাবার পুর্বেই সেলফি তুলার চেষ্টা করে।

 

& বন্ধুর সাথে বন্ধুর সাক্ষাতের পর হৃদ্যতা ছড়িয়ে পড়ত, বন্ধুত্বের মুল বিষয় সুখ -দুঃখের বিনিময় হত।
এখন দেখা-সাক্ষাতের পর সেলফি তুলে পোস্ট করেই বন্ধুত্বের দাবীর সমাপ্তি ঘটায়।

 

& সমবয়সীদের সাথে আড্ডা মানেই ছিল হৃদ্যতা নবায়নের আসর, এখন আড্ডার শুরুতেই গ্রুপ সেলফির পোস্ট, অন্যান্য বন্ধুদের মন্তব্য পড়ে আর চ্যাটিং করেই সময় শেষ, বাসায় ফেরার পালা, আন্তরিকতার আড্ডা উদাও।

 

& একে অপরের মনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনার মাধ্যমে আন্তরিকতা গড়ে উঠে, এখন কেউ কারো কথা মন দিয়ে শুনেনা,কান দিয়ে শুনলে ও মন থাকে ফেসবুকে।

 

& মা-বাবা বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্বে ভোগেন, এ সময় পিতা-মাতার সাথে একান্তে আন্তরিকভাবে কথা বলা, খোঁজ খবর নেয়া এবাদাত। এখন একান্তে কথা বলার সু্যোগ কোথায়? সন্তানের হাতে থাকে মুবাইল, মন থাকে ফেইসবুকে, পিতামাতার আন্তরিকতাবিহীন সন্তানের চেহারার দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকেনা।

 

& একান্নবর্তী পরিবার ব্যবস্থা লুপ্তপ্রায় হলে ও বিভিন্ন উপলক্ষে পারিবারিক আয়োজনে আত্নীয় স্বজনের গল্পের আসরে আন্তরিকতা দেখে নতুন প্রজন্ম হত অনুপ্রাণিত, চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ছোট ছোট ভাই- বোনেরা খেলাধুলা করত,আড্ডা দিত,আত্নীয়তার আন্তরিকতা আবার জেগে উঠত। এখন সকল থাকেন ফেইসবুকে ব্যস্ত, আর শিশুরা গেইমে, হৃদ্যতা নবায়নের সুযোগ কোথায়?

 

& আলেম উলামার মজলিস পরিণত হত ঈলমী আড্ডায়, ছাত্ররা থাকতেন বড়দের আন্তরিকতা ও জ্ঞানী ভাববিনিময় দেখার তামান্নায়। এখন সামান্য কুশল বিনিময়ের পর সকলেই জড়িয়ে পড়েন ফেইসবুক দর্শনে, আলোচনা হয় ফেইসবুকের আলোচিত বিষয় নিয়ে, দীনের ভালবাসায় ঈলমী আলোচনার আন্তরিকতার বিদায়।

 

& স্বামী-স্ত্রীর মিষ্টিমুখে খোশালাপ এবাদাত।ফেসবুকিং এর সময় স্ত্রীর মিষ্টি কন্ঠ স্বামীর কাছে ঘ্যানঘ্যানি মনে হয়,ভালোবাসা রুপান্তরিত হয় কলহে, অবিশ্বাসের মাধ্যমে আশান্তি সৃষ্টি হয়।

 

& প্রতি পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে অভিভাবকত্বের স্নেহের ছোয়ায় বন্ধুত্বের স্বাদ দেয়া, তার জন্য বিশেষ সময় বের করে একান্তে গল্প করা। পিতা-মাতার অধিক ফেসবুক নিমগ্নতায় শিশুরা নিজেদের মর্যাদাহীন ভাবে,আন্তরিকতায় ছেদ পড়ে।

সামজিক মাধ্যম ও আল্লাহর নেয়ামত,প্রতি নেয়ামতের সদ্ব্যবহার মানবতার জন্য কল্যাণকর, সামাজিক মাধ্যম নেশায় পরিণত হওয়া অনুচিত, কেননা অতিনেশা মানুষের আন্তরিকতায় আঘাত হানে। আল্লাহ আমাদের সুচিন্তিতভাবে মানবতার কল্যাণে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

সেলফি ও ফেইসবুক-আন্তরিকতার নীরব ঘাতক!

Update Time : ১০:১৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১

শাহ মমশাদ আহমদ

 

& আলেম উলামা,ইসলামী বক্তাদের প্রতি মানুষের হৃদ্যিক ভালবাসা ছিল, দেখলে সালাম- মুসাফাহা করত, দোয়া নিত,
সমাজের গণ্যমান্য, সম্মানিত গুনীজনদের দেখলে সম্মান জানাত, শ্রদ্ধার প্রকাশ করত। এখন স্বাগত জানাবার পুর্বেই সেলফি তুলার চেষ্টা করে।

 

& বন্ধুর সাথে বন্ধুর সাক্ষাতের পর হৃদ্যতা ছড়িয়ে পড়ত, বন্ধুত্বের মুল বিষয় সুখ -দুঃখের বিনিময় হত।
এখন দেখা-সাক্ষাতের পর সেলফি তুলে পোস্ট করেই বন্ধুত্বের দাবীর সমাপ্তি ঘটায়।

 

& সমবয়সীদের সাথে আড্ডা মানেই ছিল হৃদ্যতা নবায়নের আসর, এখন আড্ডার শুরুতেই গ্রুপ সেলফির পোস্ট, অন্যান্য বন্ধুদের মন্তব্য পড়ে আর চ্যাটিং করেই সময় শেষ, বাসায় ফেরার পালা, আন্তরিকতার আড্ডা উদাও।

 

& একে অপরের মনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনার মাধ্যমে আন্তরিকতা গড়ে উঠে, এখন কেউ কারো কথা মন দিয়ে শুনেনা,কান দিয়ে শুনলে ও মন থাকে ফেসবুকে।

 

& মা-বাবা বৃদ্ধ বয়সে একাকীত্বে ভোগেন, এ সময় পিতা-মাতার সাথে একান্তে আন্তরিকভাবে কথা বলা, খোঁজ খবর নেয়া এবাদাত। এখন একান্তে কথা বলার সু্যোগ কোথায়? সন্তানের হাতে থাকে মুবাইল, মন থাকে ফেইসবুকে, পিতামাতার আন্তরিকতাবিহীন সন্তানের চেহারার দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকেনা।

 

& একান্নবর্তী পরিবার ব্যবস্থা লুপ্তপ্রায় হলে ও বিভিন্ন উপলক্ষে পারিবারিক আয়োজনে আত্নীয় স্বজনের গল্পের আসরে আন্তরিকতা দেখে নতুন প্রজন্ম হত অনুপ্রাণিত, চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ছোট ছোট ভাই- বোনেরা খেলাধুলা করত,আড্ডা দিত,আত্নীয়তার আন্তরিকতা আবার জেগে উঠত। এখন সকল থাকেন ফেইসবুকে ব্যস্ত, আর শিশুরা গেইমে, হৃদ্যতা নবায়নের সুযোগ কোথায়?

 

& আলেম উলামার মজলিস পরিণত হত ঈলমী আড্ডায়, ছাত্ররা থাকতেন বড়দের আন্তরিকতা ও জ্ঞানী ভাববিনিময় দেখার তামান্নায়। এখন সামান্য কুশল বিনিময়ের পর সকলেই জড়িয়ে পড়েন ফেইসবুক দর্শনে, আলোচনা হয় ফেইসবুকের আলোচিত বিষয় নিয়ে, দীনের ভালবাসায় ঈলমী আলোচনার আন্তরিকতার বিদায়।

 

& স্বামী-স্ত্রীর মিষ্টিমুখে খোশালাপ এবাদাত।ফেসবুকিং এর সময় স্ত্রীর মিষ্টি কন্ঠ স্বামীর কাছে ঘ্যানঘ্যানি মনে হয়,ভালোবাসা রুপান্তরিত হয় কলহে, অবিশ্বাসের মাধ্যমে আশান্তি সৃষ্টি হয়।

 

& প্রতি পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে অভিভাবকত্বের স্নেহের ছোয়ায় বন্ধুত্বের স্বাদ দেয়া, তার জন্য বিশেষ সময় বের করে একান্তে গল্প করা। পিতা-মাতার অধিক ফেসবুক নিমগ্নতায় শিশুরা নিজেদের মর্যাদাহীন ভাবে,আন্তরিকতায় ছেদ পড়ে।

সামজিক মাধ্যম ও আল্লাহর নেয়ামত,প্রতি নেয়ামতের সদ্ব্যবহার মানবতার জন্য কল্যাণকর, সামাজিক মাধ্যম নেশায় পরিণত হওয়া অনুচিত, কেননা অতিনেশা মানুষের আন্তরিকতায় আঘাত হানে। আল্লাহ আমাদের সুচিন্তিতভাবে মানবতার কল্যাণে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের তাওফিক দিন। লেখক: মুহাদ্দিস ও কলামিস্ট

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ