০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতব্যাপী মাহফিল, বাস্তবতার নিরিখে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন : শাহ মমশাদ আহমদ

  • Update Time : ০২:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

হুজুর চোখবুঁজে বয়ান করছেন, ঘন্টা দেড়েক বয়ানের পর চোখ খোলে দেখলেন,একজন লোক বসা, আর কেউ নেই,
হুজুর বললেন, মাশাআল্লাহ অন্তত একজন লোক পাওয়া গেছে যিনি আমার বয়ান শুনছেন। জ্বিনা হুজুর, আমি মাইকের অপারেটর, ওয়াজ শুনার জন্য নয়, মাইক নিয়ে যেতে বসে আছি, লোকটি উত্তর দিল।

 

আজ থেকে তিন দশক পুর্বে এমনি এক দৃশ্য অবলোকন করেছিলাম বিয়ানীবাজার এলাকায়, ১৯৯১ সাল, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নির্বাচনী এলাকায় প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান রহঃ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তৎকালীন খ্যাতিমান ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আতাউর ভাই ও আমি নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়োজিত ছিলাম, রাত ২টা, হোন্ডা যোগে বিয়ানীবাজার থেকে দেউলগ্রাম যাবার পথে রাস্তা হারিয়ে ফেলি, জিজ্ঞাসা করার মত লোক ও নেই, একটি ওয়াজ মাহফিলের মাইকের আওয়াজের অনুমান করে মাহফিল স্থলে উপস্তিত হলাম, দেখলাম বক্তা চোখবুঁজে বয়ান করছেন, কিন্তু সামনে অপারেটর ও নেই, লক্ষ্য করলাম, অপারেটর সাহেব পেন্ডালের বাহিরে সিগারেট টানছেন।

 

দুদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, লোকজনের সাথে আলাপচারিতায় বুঝলাম, এখনো গ্রামাঞ্চলে রাত ব্যাপী মাহফিলেএমনি অবস্থা বিরাজ করে, রাতব্যাপী মাহফিলের ক্ষতিকর কয়েকটি বিষয়,

 

& উচ্চ আওয়াজের কারণে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি।
& মানুষের দানের অপব্যয়।
& ইসলাম বিদ্বেষীদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির সু্যোগ।
& শেষ রাতের বক্তারা জিকির আযকার ও কুরআন তেলাওয়াত বেশী করে থাকেন, তা মাইকযোগে শববিনা খতমের মত কি নাজায়েজ কাজ নয়?
& মাইকের আওয়াজের কারণে অনেক মুসলমান ভাইয়েরা রাতের ঘুমের ক্ষতি ফজরের সময় ফুসিয়ে নেয়, অন্যান্য দিনের তুলনায় ফজরের জামাতে লোক কম হয়, এজন্য দায়ী কে?

আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে বিষয়টি ভাবার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরুধ করব, বাদ জোহর থেকে মাহফিল শুরু হয়ে এশা পর্যন্ত হতে পারে,কখনো মধ্যরাতের পরে নয়,
মাইকের আওয়াজ সীমিত রাখা ও জরুরী।
আল্লাহ সুমতি দিন। লেখক: কলামিস্ট ও মুহাদ্দিস।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

রাতব্যাপী মাহফিল, বাস্তবতার নিরিখে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন : শাহ মমশাদ আহমদ

Update Time : ০২:৪৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

হুজুর চোখবুঁজে বয়ান করছেন, ঘন্টা দেড়েক বয়ানের পর চোখ খোলে দেখলেন,একজন লোক বসা, আর কেউ নেই,
হুজুর বললেন, মাশাআল্লাহ অন্তত একজন লোক পাওয়া গেছে যিনি আমার বয়ান শুনছেন। জ্বিনা হুজুর, আমি মাইকের অপারেটর, ওয়াজ শুনার জন্য নয়, মাইক নিয়ে যেতে বসে আছি, লোকটি উত্তর দিল।

 

আজ থেকে তিন দশক পুর্বে এমনি এক দৃশ্য অবলোকন করেছিলাম বিয়ানীবাজার এলাকায়, ১৯৯১ সাল, গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নির্বাচনী এলাকায় প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান রহঃ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তৎকালীন খ্যাতিমান ছাত্রনেতা আলহাজ্ব আতাউর ভাই ও আমি নির্বাচনী প্রচারণায় নিয়োজিত ছিলাম, রাত ২টা, হোন্ডা যোগে বিয়ানীবাজার থেকে দেউলগ্রাম যাবার পথে রাস্তা হারিয়ে ফেলি, জিজ্ঞাসা করার মত লোক ও নেই, একটি ওয়াজ মাহফিলের মাইকের আওয়াজের অনুমান করে মাহফিল স্থলে উপস্তিত হলাম, দেখলাম বক্তা চোখবুঁজে বয়ান করছেন, কিন্তু সামনে অপারেটর ও নেই, লক্ষ্য করলাম, অপারেটর সাহেব পেন্ডালের বাহিরে সিগারেট টানছেন।

 

দুদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম, লোকজনের সাথে আলাপচারিতায় বুঝলাম, এখনো গ্রামাঞ্চলে রাত ব্যাপী মাহফিলেএমনি অবস্থা বিরাজ করে, রাতব্যাপী মাহফিলের ক্ষতিকর কয়েকটি বিষয়,

 

& উচ্চ আওয়াজের কারণে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি।
& মানুষের দানের অপব্যয়।
& ইসলাম বিদ্বেষীদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির সু্যোগ।
& শেষ রাতের বক্তারা জিকির আযকার ও কুরআন তেলাওয়াত বেশী করে থাকেন, তা মাইকযোগে শববিনা খতমের মত কি নাজায়েজ কাজ নয়?
& মাইকের আওয়াজের কারণে অনেক মুসলমান ভাইয়েরা রাতের ঘুমের ক্ষতি ফজরের সময় ফুসিয়ে নেয়, অন্যান্য দিনের তুলনায় ফজরের জামাতে লোক কম হয়, এজন্য দায়ী কে?

আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে বিষয়টি ভাবার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরুধ করব, বাদ জোহর থেকে মাহফিল শুরু হয়ে এশা পর্যন্ত হতে পারে,কখনো মধ্যরাতের পরে নয়,
মাইকের আওয়াজ সীমিত রাখা ও জরুরী।
আল্লাহ সুমতি দিন। লেখক: কলামিস্ট ও মুহাদ্দিস।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ