০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারনে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহালদশা

  • Update Time : ০৫:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ছাতক প্রতিনিধি :: ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ৩১ শয্যার ছাতক উপজেলা হাসপাতালে ৩৬ বছর ধরে চলছে ৫ লক্ষাধিক লোকের স্বাস্থ্য সেবা। এদিকে দুই বছর আগে উদ্বোধন করা প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যায় উন্নিত করনের নতুন ভবনে ও ঝুলছে তালা। অনিয়মে ব্যাস্ত থাকা এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নতুন ভবনে এখনো কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তিন উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ হাসপাতালটিই এখন রুগ্নদশায় রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ থাকা স্বত্বেও স্বাস্থ্য সেবা চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ১৬০টি পদের বিপরীতে এখানে টি ৬০ পদ শুন্য রয়েছে। জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে চালানো হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। এদিকে হাসপাতালে প্রায় একযুগ ধরে প্রধান অফিস সহকারী পদে চাকরি করে আসা আমিরুল ইসলাম নামের একজন কর্মচারীর দাপটে এখানকার সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীরা জিম্মি রয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী আমাদের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
তিনি জানান আমিরুল ইসলাম স্থানীয় এবং দীর্ঘদিন ধরে চাকরির সুবাদে হাসপাতালে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন যার কাছে সবাই অসহায়।জানা যায়, টাকা না দিলে হাসপাতালের অন্য কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার ফাইলসহ অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্যতার ফাইল ধরেন না তিনি। নিয়োগ বাণিজ্যেও পিছিয়ে নেই আমিরুল ইসলাম। হাসপাতালে দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ওবাসা বাড়ির মালিক হয়েছেন ওই অফিস সহকারী। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগিদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকা, নোংরা বেড ছাড়া ঔষধ কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে তাদের নিম্নমানের ঔষধ রোগিদের ব্যবস্থাপত্রে দিয়ে নির্ধারিত ফার্মেসি থেকে কিনে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় বলে রোগীরা জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎতকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কর্তৃক উদ্ভোধনের পরও বন্ধ থাকা ৫০ শয্যায় উন্নিত ভবনটির রক্ষনাবেক্ষনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ইতিমধ্যেই দফায় দফায় চুরি সংঘটিত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এব্যাপারে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব চক্রবর্তী জানান, মূলত জনবল সংকটের কারনেই উদ্বোধন করার পরও ৫০ শয্যায় উন্নিত হাসপাতালটির নতুন ভবনে কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। প্রধান অফিস সহকারী আমিরুল ইসলামের অভিযোগের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারনে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহালদশা

Update Time : ০৫:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

ছাতক প্রতিনিধি :: ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ৩১ শয্যার ছাতক উপজেলা হাসপাতালে ৩৬ বছর ধরে চলছে ৫ লক্ষাধিক লোকের স্বাস্থ্য সেবা। এদিকে দুই বছর আগে উদ্বোধন করা প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ শয্যায় উন্নিত করনের নতুন ভবনে ও ঝুলছে তালা। অনিয়মে ব্যাস্ত থাকা এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নতুন ভবনে এখনো কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তিন উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ হাসপাতালটিই এখন রুগ্নদশায় রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ থাকা স্বত্বেও স্বাস্থ্য সেবা চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ১৬০টি পদের বিপরীতে এখানে টি ৬০ পদ শুন্য রয়েছে। জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে চালানো হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা। এদিকে হাসপাতালে প্রায় একযুগ ধরে প্রধান অফিস সহকারী পদে চাকরি করে আসা আমিরুল ইসলাম নামের একজন কর্মচারীর দাপটে এখানকার সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীরা জিম্মি রয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী আমাদের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
তিনি জানান আমিরুল ইসলাম স্থানীয় এবং দীর্ঘদিন ধরে চাকরির সুবাদে হাসপাতালে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন যার কাছে সবাই অসহায়।জানা যায়, টাকা না দিলে হাসপাতালের অন্য কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার ফাইলসহ অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্যতার ফাইল ধরেন না তিনি। নিয়োগ বাণিজ্যেও পিছিয়ে নেই আমিরুল ইসলাম। হাসপাতালে দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ওবাসা বাড়ির মালিক হয়েছেন ওই অফিস সহকারী। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগিদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকা, নোংরা বেড ছাড়া ঔষধ কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়ে তাদের নিম্নমানের ঔষধ রোগিদের ব্যবস্থাপত্রে দিয়ে নির্ধারিত ফার্মেসি থেকে কিনে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় বলে রোগীরা জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎতকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কর্তৃক উদ্ভোধনের পরও বন্ধ থাকা ৫০ শয্যায় উন্নিত ভবনটির রক্ষনাবেক্ষনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ইতিমধ্যেই দফায় দফায় চুরি সংঘটিত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এব্যাপারে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব চক্রবর্তী জানান, মূলত জনবল সংকটের কারনেই উদ্বোধন করার পরও ৫০ শয্যায় উন্নিত হাসপাতালটির নতুন ভবনে কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। প্রধান অফিস সহকারী আমিরুল ইসলামের অভিযোগের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ