০১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলোহের জের, ভাসুরকে আসামী করে থানায় অভিযোগ!

  • Update Time : ১২:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২০
  • / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের তিলক গ্রামে পারিবারিক কলোহের জের ধরে ভাসুরকে আসামী করে ৩জনের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদশন করেছেন।

 

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানায়ায়, তিলক গ্রামের মৃত গৌছ আলীর ছেলে কাওছার আহমদ ও ফয়ছল আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগমের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এরই জের ধরে গত ২৩ আগষ্ট নাছিমা বেগম ও কাওছার আহমদের মাঝে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় নাছিমা বেগমের মেয়ে হাফিজা বেগম (১২) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হন। সাথে সাথে হাফিজা বেগমকে স্থানীয় নয়াবন্দর বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এঘটনায় নাছিমা বেগম বাদি হয়ে কাওছার আহমদ, সাহাব উদ্দিন ও আফজল হোসেনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

সরেজমিনে জানাযায়, কাওছার আহমদের ভাই সৌদি প্রবাসী ফয়ছল আলীর সাথে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে নাছিমা বেগমের বিবাহ হয়। ফয়ছল আলী বিদেশে যাওয়ার পর থেকে নাছিমা বেগমের চলাফেরায় পরিবারের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকজন নাছিমা বেগমকে অবাধে চলাফেরায় বাধা নিষেধ দিয়ে থাকেন। এরই জের ধরে নাছিমা বেগম ও তার ভাসুর কাওছার আহমদের মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

 

তবে অভিযোগে উল্লেখিত সাহাব উদ্দিন ও আফজল হোসেন ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে অভিযোগের সাক্ষী তাহেরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে নাছিমা বেগম তার ভাসুরকে মামলায় ফাসাতে মেয়ে হাফিজা বেগমকে মাটির পাতিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে আহত করে। পরে নাছিমা বেগম দরজাটি বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে দরজাটি খুলে আমি নিজে হাফিজা বেগমকে নয়াবন্দর বাজারে ডাক্তারি করাই।

 

 

এদিকে নাছিমা বেগম জানান, আমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে টাকা পয়সার জন্য বিবাদীরা আমাকে হুমকি দামকী দিয়ে থাকেন। গত ২৩ আগষ্ট আমার একটি মোরগের পিনজিরা কাওছার আহমদ ভেঙ্গে ফেলে। পিনজিরাটি ভাংচুরের বিষয় জানতে চাইতে আমার সাথে কাওছার আহমদের কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এসময় আমার মেয়েকে কাওছার আহমদ মাথায় আঘাত করে।

 

 

কাওছার আহমদ জানান, আমার ভাইর স্ত্রী নাছিমা বেগম একজন চরিত্রহীনা নারী। আমার ভাই বিদেশে যাওয়ার পর থেকে নাছিমা বেগমের ঘরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরুষরা আনাঘোনা করে থাকেন। আমাদের মান সম্মানের ভয়ে এসবের প্রতিবাদ করায় নাছিমা বেগম আমার বিরুদ্ধে মামলা সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করার পায়তারায় লিপ্ত থাকে। গত রবিবার বিকেল তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে নাছিমা বেগম তার মেয়ে হাফিজা বেগমের মাথায় মাটির পাতিল দিয়ে আঘাত করে জখম করে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। কাওছার আহমদ বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

 

 

নাছিমা বেগমের অভিযোগের আসামী তিলক গ্রামের সাহাব উদ্দিন ও আফজল হোসেন জানান, এ ঘটনার সাথে আমরা জড়িত নয়, তার পরও আমাদেরকে আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশ প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

 

এ বিষয়ে আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী জানান, বিষয়টি আপোষে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ

জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলোহের জের, ভাসুরকে আসামী করে থানায় অভিযোগ!

Update Time : ১২:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের তিলক গ্রামে পারিবারিক কলোহের জের ধরে ভাসুরকে আসামী করে ৩জনের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদশন করেছেন।

 

 

এলাকাবাসী সূত্রে জানায়ায়, তিলক গ্রামের মৃত গৌছ আলীর ছেলে কাওছার আহমদ ও ফয়ছল আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগমের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এরই জের ধরে গত ২৩ আগষ্ট নাছিমা বেগম ও কাওছার আহমদের মাঝে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় নাছিমা বেগমের মেয়ে হাফিজা বেগম (১২) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হন। সাথে সাথে হাফিজা বেগমকে স্থানীয় নয়াবন্দর বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এঘটনায় নাছিমা বেগম বাদি হয়ে কাওছার আহমদ, সাহাব উদ্দিন ও আফজল হোসেনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

সরেজমিনে জানাযায়, কাওছার আহমদের ভাই সৌদি প্রবাসী ফয়ছল আলীর সাথে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে নাছিমা বেগমের বিবাহ হয়। ফয়ছল আলী বিদেশে যাওয়ার পর থেকে নাছিমা বেগমের চলাফেরায় পরিবারের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের লোকজন নাছিমা বেগমকে অবাধে চলাফেরায় বাধা নিষেধ দিয়ে থাকেন। এরই জের ধরে নাছিমা বেগম ও তার ভাসুর কাওছার আহমদের মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

 

 

তবে অভিযোগে উল্লেখিত সাহাব উদ্দিন ও আফজল হোসেন ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে অভিযোগের সাক্ষী তাহেরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে নাছিমা বেগম তার ভাসুরকে মামলায় ফাসাতে মেয়ে হাফিজা বেগমকে মাটির পাতিল দিয়ে মাথায় আঘাত করে আহত করে। পরে নাছিমা বেগম দরজাটি বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে দরজাটি খুলে আমি নিজে হাফিজা বেগমকে নয়াবন্দর বাজারে ডাক্তারি করাই।

 

 

এদিকে নাছিমা বেগম জানান, আমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে টাকা পয়সার জন্য বিবাদীরা আমাকে হুমকি দামকী দিয়ে থাকেন। গত ২৩ আগষ্ট আমার একটি মোরগের পিনজিরা কাওছার আহমদ ভেঙ্গে ফেলে। পিনজিরাটি ভাংচুরের বিষয় জানতে চাইতে আমার সাথে কাওছার আহমদের কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এসময় আমার মেয়েকে কাওছার আহমদ মাথায় আঘাত করে।

 

 

কাওছার আহমদ জানান, আমার ভাইর স্ত্রী নাছিমা বেগম একজন চরিত্রহীনা নারী। আমার ভাই বিদেশে যাওয়ার পর থেকে নাছিমা বেগমের ঘরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরুষরা আনাঘোনা করে থাকেন। আমাদের মান সম্মানের ভয়ে এসবের প্রতিবাদ করায় নাছিমা বেগম আমার বিরুদ্ধে মামলা সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করার পায়তারায় লিপ্ত থাকে। গত রবিবার বিকেল তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে নাছিমা বেগম তার মেয়ে হাফিজা বেগমের মাথায় মাটির পাতিল দিয়ে আঘাত করে জখম করে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। কাওছার আহমদ বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

 

 

নাছিমা বেগমের অভিযোগের আসামী তিলক গ্রামের সাহাব উদ্দিন ও আফজল হোসেন জানান, এ ঘটনার সাথে আমরা জড়িত নয়, তার পরও আমাদেরকে আসামী করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশ প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

 

এ বিষয়ে আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী জানান, বিষয়টি আপোষে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।

এখানে ক্লিক করে শেয়ার করুণ