নূর-ই-সাত্তার : একজন সুন্দর মনের আদর্শিক এবং ভাববাদি মানুষ- সৈয়দ মবনু
- Update Time : ০৫:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
‘নূর-ই-সাত্তার’। নামটাও কাব্যিক। প্রথম শুনেছিলাম জগন্নাথপুর বিষয়ক একটি লেখা লিখতে গিয়ে সেই ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে। বাংলাদেশের ভাটী অঞ্চল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুবাজপুর দক্ষিণ পাড়ায় তাঁর জন্ম। জন্ম তারিখ ৮ জানুয়ারি ১৯৪0 খ্রিস্টাব্দ। লেখাপড়ার শুরু গ্রামের মক্তবে কিছুদিন ছিলেন কুয়াজপুর দারুল উলূম মাদরাসায়, অতঃপর গোলাপগঞ্জের বাঘা মাদরাসায়। কর্মজীবনে তিনি কাতিয়া, কুয়াজপুর ইত্যাদি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন।
নূর-ই-সাত্তার কৈশোর থেকে সাহিত্যের সাথে জড়িত। আমার বড়মামা ফরীদ আহমদ রেজা তাঁর সমসাময়িক। ফরীদ আহমদ রেজা সম্পাদিত হাতে লিখা পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখেছেন। তাঁর কবিতায় উর্দু, ফার্সি, আরবি এবং বাংলা মিশ্রিত রয়েছে। কৈশোর থেকে ধীরে ধীরে কবি হিসাবে অনেকের কাছে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তিনি কবি হিসাবে অনেক পরিচিত হয়ে উঠেন সিলেটের কবি-সাহিত্যিকদের কাছে। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে ‘এ পার আমি ওপার তুমি’,‘পথ ভোলা বুলবুল’, ‘অমায়িক জীবন’, ‘গীতি কথা’, ‘অশ্রু নদীর ডেউ’, ‘খন্ড কবিতা’, ‘কাব্যে হাদিসে রাসুল (সা.)’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ‘আলোক মনিষা’ সিলেটের শীর্ষ আলেমদের নিয়ে তাঁর অরেকটি কবিতার বই। তিনি গীতি কবিতাও লিখেন। ‘মনোবীণ’ কবির গীতি কবিতার বই। ‘আলোক মনিষা’ ও ‘মনোবীণ’ গ্রন্থদ্বয় ২০২০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।
কবি নূর-ই-সাত্তারের কবিতার কাব্যিক মান, শৈল্পিক মান ইত্যাদি আমার আলোচ্য বিষয় নয়। কবিতার বিজ্ঞ-পাঠকেরা বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানি। বেশ ক’বার তাঁর সাথে বসে কথা বলার সুযোগ হয়েছে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কিংবা আমার সিটি অফসেট প্রেসে। তিনি একজন সুন্দর মনের আদর্শিক এবং ভাববাদি মানুষ। জীবন যুদ্ধের বাঁকে বাঁকে তাঁর অসংখ্য বেদনা, হসি, কান্না রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর একমাত্র ছেলের অল্প বয়সে মৃত্যুটা তাঁকে বেশ মর্মাহত করেছে। এসবই তিনি তাঁর কবিতা-গানে ধারণ করেছেন। মনের কথাকে তিনি মনের মতো করে বলতে চেষ্টা করেছেন। মনের সুখ-দুঃখ মনের মতো করে বলতে পারা থেকে বড় সুখ আর কি হতে পারে?
কবি কোন দুঃখ-কষ্টে তবু ভেঙে যাননি। আল্লাহতে তাঁর অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তাই তিনি কাব্যিক ভাষায় আল্লাকেই সব বলতে চেষ্টা করেন, ‘দয়াল প্রভূ তরাও মোরে ডাকি আমি কাতরে / গোনায় গোনায় ডুবে আছি পাপের সাগরে / লা’তাকনাতু বাণীর শান / যে আশাতে চাই আসান / পাপের ডালি মাথায় তুলি কাদি আমি অঝুরে।’
আমাদেরও কামনা, কবি যেন আল্লাহ কর্তৃক নিয়ামতপ্রাপ্ত হন দুনিয়া এবং আখেরাতে।





























