কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের নিয়ম ও কিছু কথা : মুহাম্মদ ছায়েম হোসাইন
- Update Time : ১১:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের বৈধ পন্থা হচ্ছে তিনটি:
১.ترتيل: তারতীল বলতে বুঝায় পূর্ণ হক্ব আদায় করে পড়া। অর্থাৎ মদ, গুন্নাহ, মাখরাজ ইত্যাদি পূর্ণ মাত্রায় আদায় করা। ইমাম আছিম কুফী (রহ.) হামজা ও ওয়ারাশ (রহ.) প্রমুখ ইহা অবলম্বন করেছেন।
২.تدبير: তাদবির হচ্ছে মধ্যম পন্থায় তিলাওয়াত করা। অর্থাৎ মদ, গুন্নাহ ইত্যাদিকে পূর্ণ মাত্রায় নয় আবার একবারে কমও নয় এরূপ মাঝামাঝি অবস্থায় তিলাওয়াত করা। যেমন চার আলিফ বিশিষ্ট মদকে দু আলিফ আদায় করা। ইহা ইবনে আমর (রহ.) এবং কাচাই (রহ.) অবলম্বন করেছেন।
৩.حدر: হদর হচ্ছে দ্রুত পঠন। অর্থাৎ মদ, গুন্নাহ ইত্যাদিকে কম কম পরিমানে আদায় করে প্রতিটি শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করে তিলাওয়াত করা। যেমন মদ্দে ওয়াজিব ও ওয়াজিব গুন্নাকে সর্বনিম্ন এক আলিফ আদায় করা। ইমাম ইবনে কাছির, আমীর এবং কালনু (রহ.) ইহা অনুসরণ করেছেন। (উল্লেখিত তিনটি নিয়মের বিস্তারিত আলোচনা তুহফাতুল হুফফায কিতাবে আছে, পৃ. ২৭)
হিফযে পড়ার সময় সাথে পাঁচ/সাতটি কিতাব পড়তে হয়েছে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের এই তিনটি নিয়ম ছাড়া আর অন্য কোনো নিয়ম পাইনি। আর লেহনের ক্ষেত্রে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আরবীদের স্বরে এবং সুরে তিলাওয়াত করার জন্য।
তবে আন্তর্জাতিক কোনো লেহেনের কথা আজ পর্যন্ত কোনো কিতাবে উল্লেখ পাইনি। যারা আন্তর্জাতিক লেহেন বলে কয়েকটি লেহেন কে আখ্যায়িত করেছেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেহেন আসলো কোথাথেকে এবং এর প্রবর্তক কে?
বিশ থেকে পঁচিশ টি লেহেন হবে তাদবিরের সহিত তিলাওয়াত হয়, প্রত্যেকটিকেই অনেকে আন্তর্জাতিক লেহেন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
নামধারী আন্তর্জাতিক লেহেন অনুসরণ করবো নাকি রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী অনুযায়ী আরবী লেহেন অনুসরণ করবো?
আমরা যে সকল বুযুর্গদের মাধ্যমে কুরআন শরীফের শুদ্ধ পঠন শিখেছি তাঁরা কি আমাদের আন্তর্জাতিক লেহেন বলতে কোনোটি উল্লেখ করেছেন নাকি তিলাওয়াতের বৈধ তিনটি নিয়মের পাশাপাশি আরবি লেহেনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আসুন একটু আলোকপাত করি!
পাঠক খিদমাতে আরজ! আন্তর্জাতিক লেহেন বলে কোনো লেহেন আছে বলে প্রচার না করে বরং আমরা আরবী লেহেন অনুসরণ করি। আর এটাই সুন্দর হবে।
আরকেটি বিষয় আমরা হাদীস শরীফে পড়েছি একজন মকবুল হাফিযে কুরআন দশজন জাহান্নামি ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সুপারিশ করতে পারবেন। এখানে আন্তর্জাতিক মানের হাফিয বলে কোনো কথা উল্লেখ হয়নি। সুতরাং; হাফিয হবে মকবুল আন্তর্জাতিক নয়। আমরা আন্তর্জাতিক ধ্যানে মগ্ন হয়ে মূল থেকে সরে যাচ্ছি না তো!
কাউকে বিদ্রুপ করে নয়, বরং; আমরা যেন আমাদের মূল থেকে সরে না যাই এজন্য এই লিখা।
লেখক: কামারগাঁও বাজার, ছাতক, মোবাঃ 01744- 626280
লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি হলে কমেন্টে বলবেন শুধরে নেবো।



















