আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী : আব্দুল তাহিদ
- Update Time : ১২:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
অতপর সে সন্তান পিতার সাথে দৌড়ে চলার বয়সে
পৌচলে, পিতা, তাকে বললেন, হে আমার প্রিয় বৎস!
নিশ্চয় আমি সপ্নে দেখেছি যে, নিশ্চয় আমি তোমাকে
জবাই করছি। অতএব তুমি চিন্তা করে দেখ, তোমার অভিমত কি ? পুত্র বলল হে আমার পিতা আপনাকে
যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা কার্যকর করুন।
অচিরেই আপনি আমাকে আল্লাহ তায়ালা চাহেন তো
ধৈর্যধারন কারীদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। অতঃপর তারা উভয় যখন সম্মত হল এবং পুত্রকে (জবাইয়ের জন্য) উপুর করে শোয়ালেন। আমি তাকে ডাক দিলাম হে ইব্রাহীম অবশ্যই তুমি সপ্নকে সত্য পরিনত করছ। নিশ্চিত আমি সৎকর্মশীলদের কে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয় এটাই হল স্পষ্ট পরীক্ষা। আর আমি এক মহান জবাইয়ের বিনিময়ে তাকে বাঁচিয়ে নিলাম। (সুরা সাফফাত ১০২-১০৭)
কোন এক রেওয়ায়েত হইতে জানা যায় যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে এই সপ্ন তিন বার দেখানো হয়। এক কথা স্বীকৃত সত্য যে, পয়গাম্বর গনের সপ্ন ও ওহী হয়ে থাকে। তাফসীর বিদগন লিখিয়াছেন যে, সে সময় হযরত ইসমাঈল (আঃ)এর বয়স ছিল ১৩ বছর। তাহারা যখন আল্লাহর নির্দেশে সামনে নত হইয়া পিতা পুত্রকে যবেহ করিতে এবং পুত্র যবেহ হইতে সম্মত হইলেন পিতা পুত্রের এই আত্মনিবেদন মূলক কার্যক্রম এমন বিষ্ময়কর ছিল যাহা ভাষায় প্রকাশ করতে অনেক দীর্ঘ
সময়ের প্রয়োজন। রাস্তায় শয়তান হযরত ইসমাঈল (আঃ)কে কুমন্রনা দিয়া বলিল ইসমাঈল তোমাকে যবেহ করিবার জন্য তোমার বাবা নিয়া যাইতেছেন। তুমি কিছুতেই যাইও না। হজরত ইসমাঈল (আঃ) উত্তরে বলিলেন বাবা কি কখনও তাহার ছেলেকে হত্যা করিতে পারে ? শয়তান বলিল খোদা তায়ালা হুকুম দিয়েছেন তোমাকে কোরবানী দেওয়ার জন্য। তখন ইসমাঈল (আঃ) আনন্দে উৎপুল্ল হইয়া বলিলেন, তা হইলে ইহার চেয়ে উত্তম জীবন আর কি হতে পারে ?
যে জীবন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করিয়াছেন। হে শয়তান তোর উপর আল্লাহর লানত হোক । শয়তান ৩ বার হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে প্রভাবিত করিবার চেষ্টা করে এবং প্রত্যেক বারই তাকে সাতটি কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাড়াইয়া দেন। কিয়ামত পর্যন্ত এই প্রশংসনীয় কাজের স্মৃতিকে স্বরণ করিয়া হাজীগণ মিনায় তিন দিন অবস্থান করিয়া জামারায় কংকর নিক্ষেপ করিয়া থাকেন, যাহা হজ্জের অন্যতম ওয়াজিব। অবশেষে পিতা পুত্র উভয়েই যখন এই অভিনব ইবাদত উদযাপন করিবার উদ্দেশ্য কোরবাবানী গাহে পৌছিলেন তখন হযরত ইসমাঈল (আঃ) পিতাকে বলিলেন পিতা আমাকে খুব শক্ত করিয়া বাঁধিয়া নিন যাহাতে আমি বেশী ছটফট করিতে না পারি। আপনার পরিধেয় বস্ত্র সামলেনিন যাহাতে আমার রক্তের ছিটা উহাতে না পড়ে। ইহা ছাড়া রক্ত দেখিলে আমার মা অধিক ব্যাকুল হইবেন। আপনার ছুরিটিও ধারাল করিয়া নিন এবং তাহা আমার গলায় দ্রুত চালাইবেন যাহাতে আমার প্রাণ সহজেই বাহির হইয়া যায়। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) জবাব দিলেন। বৎস! আল্লাহর নির্দেশ পালন করিবার জন্য তুমি আমার চমৎকার সহায়ক হইয়াছ। অতপর তিনি পুত্রকে চুম্বন করত অশ্রুপূর্ণ নয়নে তাহাকে বাঁধিয়া নিলেন। শুরুতেই হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাহাকে সোজা করিয়া শোয়াইয়া ছিলেন। কিন্ত বারবার ছুরি চালানো সত্বেও গলা কাঁটিতেছিল না।
তখন পুত্র নিজেই বলিলেন পিতা আমাকে কাত করাইয়া শোয়াইয়া দিন। সে মতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)তাহাকে সে ভাবে শোয়াইয়া দিলেন এবং ছুরি চালাইতে লাগিলেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হইতে বর্ণিত যে,
যখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রকে যবেহ করিবার কাজে লাগিয়া গেলেন উহা দেখিয়া যখন আল্লাহ এ কোরবানী কবুল করিলেন এবং হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম কে একটি দুম্বাসহ প্রেরন করিলেন তখন জিব্রাইল (আঃ)তখন আসমান হইতে আল্লাহর হুকুমে একটি দুম্বাসহ অবতীর্ণ হইতে ছিলেন। তিনি ভয় পাইতেছিলেন, না জানি পৌছিবার আগেই জবাই করিবার কাজ সম্পন্ন হইয়া যায়।
তাই তিনি উচ্চ স্বরে আল্লাহু আকবার বলিয়া উঠিলেন।
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কানে এই আওয়াজ ভাসিয়া
আসিল। তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহর হুকুমে দুম্বাটি হযরত ইসমাঈল (আঃ) এর স্থানে শোয়াইয়া দিলেন এবং উহা কোরবানী হইয়া গেল। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাকাইয়া দেখিলেন যে হযরত জিব্রাইল (আঃ) একটি দুম্বা নিয়া আসিয়াছেন এবং ইহা কোরবানী হইয়াছে। তখন তিনি বলিয়া উটিলেন লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। অর্থ -আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই এবং তিনি সর্ব শ্রেষ্ঠ।
হযরত ইসমাঈল (আঃ) এই আওয়াজ শুনামাত্র বলিয়া উঠিলেন আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ” অর্থ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সমস্ত প্রশংসা তাহার জন্য, ইহাকে তাকবীরে তাসরীক বলা হয় যাহা জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর হইতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়া ওয়াজিব।
পবিত্র কালাম পাকে ইরশাদ হচ্ছে- অর্থাৎ নিজদের উপকার লাভের জন্য যেন তারা উপস্তিত হয় এবং (জবাই করার সময়) যে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে নির্দিষ্ঠ দিন গুলোতে ঐ সকল নির্দিষ্ঠ চতুষ্পদ জন্তুসমুহের উপর যা আল্লাহ তায়ালা দান করেছেন। অতপর সে (কোরবানীর) জন্তুগুলো হতে (গোস্ত) তোমরাও খাও এবং দোস্ত অভাব গ্রস্তদেরকে আহার করাও। (সুরা হজ্জ ২৮)
হাদীস শরীফে মহানবী (সঃ) এরশাদ করেন, হযরত
যাবের রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হইতে বর্ণিত আছে
তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেছেন, গরু সাতজনের পক্ষ হইতে এবং উট সাত জনের পক্ষ হতে
কোরবানী করা যাবে। ( মুসলিম ও আবু দাউদ)।
লেখক: সভাপতি: জগন্নাথপুর অনলাইন প্রেসক্লাব, মোবাঃ 01716- 688477



















