ছাতকে গুমের নাটক সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে যুবক নিজেই ফেঁসে গেল!
- Update Time : ১২:২৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতকে পুর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের পর যুবক নিখোঁজ, এলাকায় তোলপাড়। উপজেলার ভাতগাওঁ ইউনিয়নের ঝিগলী (খঞ্চনপুর) গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে চলছে হামলা-মামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা।
উভয় পক্ষ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকার হাসনাত, এজু, সাবাজ, আব্দুল হাসিম গং এবং আজিজুর রহমান, মাসুক মিয়া গংদের মধ্যে চলছে মামলা- হামলার ঘটনা। সংঘর্ষে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গোলাগুলীতে প্রায় ৩০জন আহত হন। হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১২ জুন গ্রামের হাসনাত গং মাসুক গংদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। এতে অবৈধ অস্ত্রের গোলাগুলি হয়। এতে প্রায় ৩০জন আহত হন। ৮ জুলাই বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় পুর্ব বিরোধের জের ধরে হাসনাত পক্ষের আব্দুল মালিক ও মাসুক পক্ষের সায়মন আহমদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আব্দুল মালিক ও সায়মন আহমদ আহত হন বলে উভয় পক্ষে দাবি করেন। সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত সায়মন আহমদকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর হাসনাত পক্ষের আব্দুল মালিক নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে, রাত ২টার সময় আব্দুল মালিকের মা আফতারা বেগম ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সাধারণ ডাইরির আবেদন করেন। আবেদনের পর জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিদার উল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিখোঁজ আব্দুল মালিকের বাবা ওয়াছির আলী, মা আফতেরা বেগম, মনোয়ারা বেগম, ভাই কয়ছর আহমদ, আব্দুস শহীদ, হাসান আহমদকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কৈতক এলাকায় থেকে জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিদার উল্লার নেতৃত্বে এএসআই মোঃ নুর আহমদ, এএসআই বিলাল আহমদসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিখোজ আব্দুল মালিককে উদ্ধার করে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
আব্দুল মালিক নিখোঁজের ঘটনায় মাসুক মিয়ার পক্ষের মাসুম আহমদ জানান, প্রতিপক্ষ আমাদেরকে ফাঁসানির জন্য আব্দুল মালিককে গুম করে নাটক সাজিয়েছিল। পুলিশ সতর্ক থাকায় প্রতিপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরো জানা, কয়েক বছর পূর্বে হাসনাত তার আরেক প্রতিপক্ষ ছায়াদ মেম্বারকে ফাঁসাতে গিয়ে সে নিজেই র্যাবের কাছে অস্ত্রসহ ধরা পরে।
এব্যাপারে হাসনাত ও সাবাজ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিদার উল্লা জানান, যদিও পরিবারের লোকজন মৌখিকভাবে আব্দুল মালিককে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলো। তবে লিখিতভাবে সে নিখোঁজ রয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি (নং ১৫৪/০৯) করে। এর প্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধার করা হয়। এবং পুর্বের মামলায় আব্দুল মালিককে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।





























