দোয়ারাবাজারে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানছেনা পিআইসিরা অপ্রয়োজনীয় বাঁধ বন্ধের নির্দেশ
- Update Time : ০২:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০
- / ০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
হারুন অর রশিদ, দোয়ারাবাজার থেকে :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে চলছে হুড়োস্তুল। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও এখন প্রশ্ন ওঠেছে। অপর দিকে বেশিরভাগ পিআইসিরা মানছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা। বাঁধের ৩০ মিটারের মধ্যে মাটি না কাটার নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ পিআইসিরা তা উপেক্ষা করছে। বাঁধের নিকট থেকে মাটি কাটার ফলে বেশির ভাগ বাঁধই রয়েছে এখন হুমকির মুখে। চলতি বছরে দোয়ারাবাজার উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৩৪ টি প্রকল্পে ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত চলমান কাজে ৮২ লাখ টাকা প্রাথমিক বিল উত্তোলনও করেছেন বিভিন্ন পিআইসিরা। গত বছর দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২৩টি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল আড়াই কোটি টাকা। এ বছর আরো ১১টি প্রকল্প বাড়ানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বেশ কয়েকটি প্রকল্প একই ব্যক্তি কাজ করছেন ছদ্ম নামে প্রকল্প তৈরী করে। নিজের ভাই, ভাতিজা ও আত্মীয় স্বজনের নাম জড়িয়ে প্রকল্প তৈরী করে একই ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের কাজ করছেন। অথচ প্রয়োজনীয় বাঁধে কোনো বরাদ্দ হয়নি এ বছর। গত বছর কানলার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের নাইকো ভাঙায় বরাদ্দ হলেও এ বছর কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আর এ প্রকল্পের কাজ না হলে বাকী প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করা লাখ লাখ টাকা কোনো কাজে আসবেনা।
এ প্রসঙ্গে পাউবো’র শাখা কর্মকর্তা সমশের আলী মন্টু জানিয়েছেন, এ প্রকল্পটি তৈরী করার সময় বাদ পড়েছে। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।
সরজমিন গিয়ে দেখ গেছে, উপজেলার নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের ২, ৫, ১০, ১১, ১৫, ১৬, ১৭ নং পিআইসির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। তন্মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ চিহিৃত করে ইতোমধ্যে ৫ নং প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাকী প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান থাকলেও অধিকাংশ পিআইসিরা মানছেনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা। দায়সারা ভাবে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তড়িগড়ি করছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসিরা। এছাড়া অনেকে প্রকল্পের বাইরে নিজেদের ইচ্ছে মতো মাটি কাটতে দেখা গেছে। বাঁধের ৩০ মিটার দূরবর্তী হতে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দ থাকলেও উল্লেখিত পিআইসিরা একেবারে বাঁধের নিকট থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটতে দেখা গেছে। এতে করে বৃষ্টি শুরু হলে খোদ ফসল রক্ষা বাঁধগুলোই হুমকির মুখে পড়বে। পাহাড়ীঢলে পানি মিশ্রিত কাঁদা মাটি গুলো বাঁধের গর্তে সরে সহজেই বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসলহানি ঘটবে। এ দিকে পাউবো’র অপ্রয়োজনীয় বাঁধ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিভিন্ন হাওর পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন উপজেলার নাইন্দার হাওরের ৫নং প্রকল্পের ৩নং পোল্ডারের ৩২০ মিটার ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা বন্ধ করণ ও মেরামত কাজ অপ্রয়োজনী বাঁধ হিসেবে তা চহিৃত করে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, নাইন্দার হাওরে ৩ নং পোল্ডারে ৪ নং পিআইসি চলাকালীন পাশাপাশী ৫নং পিআইসি গঠনের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এ কারণেই এটি অপ্রয়োজনীয় বাঁধ হিসেবে চিহিৃত করে তা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড শাখা কর্মকর্তা মো, সমশের আলী জানান, উপজেলার নাইন্দার হাওরের ৫নং প্রকল্পটি অপ্রয়োজনীয় বাঁধ হিসেবে চিহিৃত করে তা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই ভাবে আরো কয়েকটি বাঁধ অপ্রয়োজনীয় কিনা তা যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।





























